দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের কারণে হযরতপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য অন্যতম চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচিত নাম অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন তালুকদার। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও আগ্রহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন তালুকদারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর পিতা হাজী হোসেন তালুকদার এবং সমগ্র তালুকদার পরিবার বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। পরিবারের ছয় ভাই বিভিন্ন সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব আমানউল্লাহ আমানের হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদান করে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্ব, সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে একজন নিবেদিত বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
নেতা আলহাজ্ব আমানউল্লাহ আমানের সান্নিধ্যে ১৯৯২ সালে ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪-৯৫ সালে হযরতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে দেশত্যাগ করে গ্রিসে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তবে প্রবাসে থেকেও তিনি বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২০০১ সালে দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। শিক্ষা খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আলহাজ্ব আমানউল্লাহ আমান, অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন তালুকদারকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে এবং তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম মাস্টার এবং কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবীসহ বিএনপির শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন।
প্রচারণাকালে জগন্নাথপুর মোড় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন তালুকদার ও তাঁর ভাইয়েরা। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাঁরা রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াননি বরং দল ও আদর্শের প্রতি অটল থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
বর্তমানে তিনি হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য এবং ঢাকা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আদর্শের একজন আইনজীবি হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক রাজনৈতিক মামলায় আইনি সহায়তায় নিজেকে অব্যাহত রাখতেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও স্থানীয়দের একাংশের মতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় দক্ষতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাকে হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকদের দাবি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম এখন হযরতপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত