প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৪:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩১, ২০২৬, ৩:২০ পি.এম
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা:ভারত, আমেরিকা না চীন
অনলাইন শুক্রবার, ৩১ জুলাই

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা

খুঁটির জোর - ভারত, আমেরিকা না চীন

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা প্রতিদিন কোন না কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় হাইলাইটস হচ্ছে । আল জাজিরা , রয়টার্স , WION এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বারবার হাইলাইটস হওয়ার মধ্য অবশ্যই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জিওপলিটিক্স এর যোগসূত্র রয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে বিশ্ব গণমাধ্যম দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের " ফ্ল্যাশপয়েন্ট" হিসেবে দেখছে।এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়ন স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগর বনাম ভারত মহাসাগরের এই প্রভাব বিস্তারের খেলায় শেখ হাসিনা এখন " দ্য শিপট" এর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

বঙ্গোপসাগর ও ইন্দ্রো প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিনিরা যেভাবে সরকার পরিবর্তন সহ বিএনপি ও জামায়াতের মতো মেরুদণ্ডহীন রাজনৈতিক দলগুলোকে পকেটে ঢুকিয়ে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি শুরু করেছে তা চীন - ভারত ও রাশিয়া সবার জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের।গত দুই বছরে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়া হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ডোমেস্টিক স্টাবিলিটি চোখে পড়েনি। একের পর এক বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্য শেখ হাসিনাই এখন গ্লোবাল ইমপেক্ট হয়ে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।তাই পৃথিবীর শীর্ষ গণমাধ্যমের ফোকাস এখন শেখ হাসিনার উপর।দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির লাইমলাইটে আবার চলে এসেছেন শেখ হাসিনা। রাজত্ব হারানোর পর শেখ হাসিনার এইভাবে এত দ্রুত কামব্যক করার গল্পের সুচনাকে "পলিটিকাল আর্টিস্ট" বললেও ভুল বলা হবে না।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির " স্পটলাইট" এ পরিণত হয়েছেন।এর পেছনে রয়েছে ভারত - আমেরিকা - চীন ত্রিমুখী ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব । বাংলাদেশের জিওগ্রাফি ঐতিহাসিকভাবে " ইন্দো - প্যাসিফিক কৌশল " এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশে পড়েছে। চীনের জন্য এখানে " বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ " যতোটা গুরুত্বপূর্ণ , ঠিক তেমনি ভারতের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় বাফার স্টেট জোন বাংলাদেশ নিয়েও ভারত উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো এখন ভারতের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষা। অপরদিকে চীনের জন্য বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনীতি তাদের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতির নামে যে অস্থিতিশীল অবস্থা চলছে তাতে চীন - ভারত - জাপান ও ভিয়েতনাম কেউই এখন আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চলে বিশ্বের যেসব নামিদামি কোম্পানি শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছিলো তারাও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিপক্কতার অভাবে এখন আর বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। অপরদিকে রাশিয়া ও চীন উভয় দেশ কোনভাবেই এই বাংলাদেশে মার্কিন আধিপত্য মেনে নেয়নি এবং নিবে না। এজন্যই চীন সফরে গিয়ে তারেক রহমান তিনটা অশ্বডিম্ব নিয়ে খালি হাতে দেশে ফিরে এসেছেন। ইউনূসের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরের মতো তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করেও জনমনে ও আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়টাকে ভালো ভাবে নেয়নি ভারত ও আমেরিকা। ফলে যত দিন যাবে বর্তমান সরকার আরও ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে পড়বে।

ভারতের জন্য শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। অপরদিকে বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক ভারসাম্য ও চীনের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য শেখ হাসিনার মতো একজন সফল ও দক্ষ শাসক পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির প্রাগম্যাটিক ও অপরচুনিস্টিক পরাশক্তি। আবেগের চেয়ে তারা বাস্তববাদী।তারা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভক্ত না হলেও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় চীন তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প , সমুদ্র বন্দর, রেললাইন , সেতু বিভিন্ন প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ বিনিয়োগের পরিবেশ পেয়েছে। বাংলাদেশের গত দুই বছরে চীনা বিনিয়োগ তেমন নেই বললেই চলে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাই এটা চীনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।তাই বঙ্গোপসাগরের " স্ট্রাটেজিক গেম" এর অংশ হয়ে বাংলাদেশের বর্তমান আমেরিকা পন্থী সরকারের উপর ইতিমধ্যে চীনের আস্থার সংকট তৈরি হয়ে গেছে।

মস্কো গত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের সাথে মিলে বাংলাদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে রাশিয়ার বর্তমানে সেই সম্পর্কের শতভাগের পাঁচ ভাগ সম্পর্কও নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে " সাইলেন্ট কিলার " হচ্ছে রাশিয়া। বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট গুলোতে রাশিয়ার সরকারের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ভারত ও চীনের মতো রাশিয়ার পুতিন সরকারেরও মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সতর্ক। আমেরিকা যখন বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়াকে একঘরে তথা আইসোলেট করে রেখেছিল তখন শেখ হাসিনা ছিলেন রাশিয়া সরকারের পরম বন্ধু। মার্কিনীদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শেখ হাসিনা রাশিয়ার পুতিন সরকারের সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ জীবনবাজী রেখে সচল রেখেছিলেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়া হওয়ার পর ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। গত দুই বছরে ইউরোপের কোন দেশ বাংলাদেশে নূন্যতম বিনিয়োগ পর্যন্ত করেনি। আমেরিকার মত ইউরোপ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে " Everything but Arms " নীতিতে ট্রেডে বিশ্বাসী। ইউরোপের দেশগুলো সবসময় " ফাঁসি" এর বিপক্ষে। শেখ হাসিনার " ডেথ পেনাল্টি" এর রাজনীতি নিয়ে ভবিষ্যতের ইউরোপের দেশগুলোর বিরোধিতা তীব্র থেকে আরও তীব্রতর হতে পারে , যা মার্কিন প্রশাসনকে সারা বিশ্বে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে দিতে পারে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার আমেরিকার রাজনীতি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের পছন্দ হয়নি। শেখ হাসিনা প্রশ্নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে নমনীয় হতে শুরু করেছে।গত দুই বছর ধরে পাকিস্তান - আফগানিস্তান যুদ্ধ ও পাকিস্তানের নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট ও সেনাবাহিনী হত্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে পাকিস্তান সরকার। শেখ হাসিনার রয়টার্সকে দেয়া বক্তৃতায় শেখ হাসিনা খুব কৌশলে বাংলাদেশের আন্দোলনে আমেরিকার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।যার ফলে ওয়াশিংটন এর দাবার বোর্ড শেখ হাসিনাকে নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার স্ট্রাটেজিক গোল শেখ হাসিনা মার্কিনীদের এক নাম্বার শত্রু এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মার্কিন সরকারকে কিছুটা হলেও সারাবিশ্বে ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে ফেলে দিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। মানবাধিকার বলে গলা ফাটানো আমেরিকার সামনে দক্ষিণ এশিয়ায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন একটি কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এতে কোন সন্দেহ নেই। এতে ব্যত্যয় ঘটলে সারাবিশ্বে আরো একবার মার্কিন মানবাধিকার ও ও ডেমোক্রেসির রাজনৈতিক বুলি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই শেখ হাসিনার বিচারের ক্ষেত্রে আমেরিকার কাছে এখন " ফেয়ার এন্ড ট্রান্সপারেন্ট ট্রায়াল" তথা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই। ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।

এতো দিন দিল্লীর কাছে শেখ হাসিনাকে বারবার ফেরত চাওয়ার প্রোপাগান্ডার রাজনৈতিক অভিনেতাদের কপালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ইতিমধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।একের পর এক উদ্দেশ্যবিহীন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে অতি সুক্ষ্ম কৌশলে বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যা ও ফাঁসি এর ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু অসীম সাহসী শেখ হাসিনা সেই ভয়কে জয় করে দেশে ফেরার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্ব জনমত শেখ হাসিনার দিকেই ঘুরছে। নৌকার পালে আবার হাওয়া লাগতে শুরু করে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী।

পাকিস্তানী হানাদার ক্যান্টনমেন্ট এর বিপরীতে বাংলাদেশের জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার " সেফ গার্ড " হওয়ার মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

ছোট ছোট সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে হবে।

পাকিস্তানী মূল্যবোধের বিপরীতে জনগণের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে জাগ্রত করতে হবে।

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শেখ হাসিনার সফলতার গল্প ও বিএনপি জামায়াতের ব্যর্থতার গল্প প্রচার করতে হবে। প্রচারেই প্রসার।

শেখ হাসিনার লিগ্যাল সেফগার্ড ও গ্লোবাল আই হয়ে কাজ করতে হবে দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিককে। মনে রাখতে হবে , " সকল অশুভ শক্তি থেকে শেখ হাসিনাকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।"

মৌলবাদের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে নারী জাগরণ ও সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের স্ট্রাটেজিক স্টোরি আপনাদের লিখতে হবে।

সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে হবে।
শেখ হাসিনার জন্য " ডু অর ডাই" এই ম্যাচটি খেলার জন্য বাংলাদেশের ৫ কোটির উপরে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থককে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এখন থেকেই তৈরি থাকতে হবে।
শেখ হাসিনার খুঁটির জোর আমেরিকা , চীন , ভারত ও রাশিয়া নয়। শেখ হাসিনার খুঁটির জোর হচ্ছে বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনগণ। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া এই একতরফা বিচারের বিরুদ্ধে তার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের সবাইকে এক হয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে লড়তে হবে। মনে রাখবেন -
" ক্ষমতার গদি চিরস্থায়ী নয় । আজ বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতার সরকার ক্ষমতায় আছে। আগামীকাল নাও থাকতে পারে।এটা শুধু আমার কথা নয় । এটাই হচ্ছে " দ্য ল অব পলিটিকাল পেন্ডুলাম ।"
Asaduzzaman asad Pong pong's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত