প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৫:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ৮:৫১ পি.এম
যখন কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো হয়, তখন যারা চুপ থাকে;
অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যখন কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো হয়, তখন যারা চুপ থাকে; যখন জীবন্ত কাউকে পুড়িয়ে মারা হয়, তখন যারা চুপ থাকে; যখন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে কারও বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া দেখেও যারা এসবের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করায়; শত শত মাজার-মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় যারা চুপ থাকে; ২০ মাসে নদীতে ৯০০ লাশ পাওয়া যাওয়া যাদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়; টিকা কেনা বন্ধ রেখে হাজারো শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও যারা দেখেও দেখে না; বাটা-ইয়েলোসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর দেখে যারা ভাবে এসব স্বাভাবিক; শত শত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে লাখো মানুষ বেকার হওয়া এবং কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়া যাদের কাছে কোনো অর্থ বহন করে না; চাঁদা না পেয়ে ছোট থেকে বড় ব্যবসায়ীদের হত্যার সংবাদ যাদের চোখে পড়ে না—তাদের কাছেই আবার প্রমাণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলা কথাগুলো বেশ গ্রহণযোগ্য।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর কয়জন কথিত সেলিব্রিটি এ নিয়ে কথা বলেছেন? কিন্তু সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর একসঙ্গে সব জুলাইপন্থী জেগে উঠেছেন। এরা কি আসলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন, নাকি স্বগোত্রীয় কারও জন্য কুমিরের কান্না কাঁদছেন?
ধানমন্ডি ৩২ কিংবা স্বাধীনতা জাদুঘর ভাঙা নিয়ে এদের কোনো আফসোস বা মাথাব্যথা থাকবে না—সেটাই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু যে দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে লাশ পাওয়া যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতির পরও যারা বলে বেড়ান দেশ খুব ভালো আছে, তারা নিজেরা কি সন্ধ্যার পর একা ঘর থেকে বের হন?
একজন কর্মজীবী নারীকে প্রতিদিন কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা কি সমাজের প্রিভিলেজড মানুষগুলো জানেন? মাশা কি নিজে ঘর থেকে রাতে একা বের হয়? দেশের প্রত্যেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের নিয়ে কী পরিমাণ দুশ্চিন্তায় দিন কাটান, সেটা কি জানেন সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় হঠাৎ সরব হয়ে ওঠা গোষ্ঠী?
খেয়াল করে দেখবেন, একটি শ্রেণি প্রচারণায় নেমেছে—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটোই খারাপ; নাহিদ-আসিফরা ভালো, ইউনূস ভালো। তারা সরাসরি বলতে পারছে না যে, এদের সামনে রেখে আসলে তারা জামায়াতকে চায়।
এই দলে শুধু চিহ্নিত জামায়াতের লোকজনই নেই; আছে আমাদের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে ভেক ধরা কিছু মানুষও। এরা সমাজের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে পারলেও এদের অনেকেই দেশে থাকবে না। খেয়াল করে দেখবেন, ইতিমধ্যে এদের বেশির ভাগই দেশের বাইরে নিজেদের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। অনেকেই সন্তানদের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেদের জন্যও বাইরে যাওয়ার পথ তৈরি করে রেখেছে।
এদের কাছে ইউনূসের আমল ভালো ছিল। কিন্তু এরা জানতে চায় না—সব ধরনের সরকারি প্রকল্প বন্ধ রাখার পরও কেন দেশের ঋণ বেড়েছে, কীভাবে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কেন বিকল্প ব্যবস্থা না করে শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা কেনা বন্ধ করা হয়েছিল, কিংবা কেন দেশের ১৪০০০ (চৌদ্দ হাজার) কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। এরা বলবে, ইউনূসকে নাকি ২,০০০ আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে। জাতিসংঘের একটি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলবে, ১,৪০০ মানুষকে নাকি হত্যা করা হয়েছে; অথচ সেই রিপোর্টেই সংখ্যাটিকে অনুমাননির্ভর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং হিসাবের সময়সীমা ছিল ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
দেশকে চরম সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাতে পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পরও এদের মধ্যে যে কয়জন দেশে আছে, তারাও একসময় সটকে পড়বে। Saifur
Rahman
Shahidul Islam's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত