
অনলাইন বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬
এদেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর আরেকটি বড় উপহার ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম! ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পরপরই বঙ্গবন্ধু কবিকে দেশে আনার পরিকল্পনা করেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদায় রাখা হয়েছিল কলকাতার রাজভবনে‚ যেটা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের বাসভবন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তখন এ এল ডায়াস। বঙ্গবন্ধু মি ডায়াসকে বললেন‚ দেখুন আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। এই শহরেই থাকেন কাজী নজরুল ইসলাম – তিনি যেমন আপনাদের কবি‚ তেমনি আমাদেরও কবি। আমাদের ভাষা এক‚ সংস্কৃতিও এক। কবি নিজেও আগে বহুবার ঢাকায় এসেছেন। তো এবারে আমরা চাই কবিকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ধুমধাম করে তাঁর জন্মদিন পালন করতে।”
এ এল ডায়াস সব শুনেটুনে বললেন‚ “অতি উত্তম প্রস্তাব – এমন তো হতেই পারে আমরা না হয় পালা করে কবির জন্মদিন পালন করলাম‚ একবার ঢাকায় আর পরেরবার কলকাতায়! তবে দিল্লিই পারবে এই অনুমতি দিতে‚ ফলে আপনি বরং সরাসরি মিসেস গান্ধীর সঙ্গেই কথা বলুন।”
পরদিনই বঙ্গবন্ধু ঠিক সেটাই করলেন। মিসেস গান্ধী ও কবির পরিবারের সাথে দেখা করলেন। পরে সে বছরের মে মাসে কবির ৭৩তম জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু ভারত সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় ও উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে কলকাতা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে আকাশপথে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কবি ও তাঁর পরিবারের জন্য ওনার নিজের প্রিয় এলাকাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডের ৩৩০-বি নম্বর বাড়িটি (যা বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউট) বরাদ্দ করেন এবং একে ‘কবি ভবন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু নিজে সশরীরে সেই বাড়িতে গিয়ে কবির সাথে দেখা করেন এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর মার্চ পাস্ট বা কুচকাওয়াজের জন্য কবি নজরুলের ‘চল চল চল’ গানটির প্রথম ২১টি চরণকে জাতীয় রণসংগীত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেন। এটি কবির জীবদ্দশাতেই তাঁর প্রতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্মাননাগুলোর একটি ছিল।
বঙ্গবন্ধুর আমলেই ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ডি-লিট (D.Litt) ডিগ্রি প্রদান করে। যদিও কবির শারীরিক অসুস্থতা ও বঙ্গবন্ধুর নির্মম হ^ত্যাকা^ন্ডের কারনে ১৯৭৫ সালের আগে সব প্রক্রিয়া গেজেট আকারে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধু যে ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছিলেন‚ তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে কবিকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং ফেব্রুয়ারিতে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়!
প্রচালিত একটা প্রবাদ আছে‚ “রতনে রতন চিনে!” অন্যদেশ থেকে একজন স্মৃতি ও বাকশক্তিহীন কবিকে নিজ দেশে এনে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা এটা ছিলো আমাদের জন্য সুভাগ্যের! সেদিন বঙ্গবন্ধু যদি এই পদক্ষেপটা না নিতেন‚ তাহলে এদেশের কোনো শক্তির ক্ষমতা ছিলো না কবিকে আর কখনো বাংলাদেশে আনার
Md Siful Islam’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















