, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’ আরোপ জার্মানির কমিশনার ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর ১ কোটি ৪৭ টাকা এবং প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ স্বাধীনভাবে বাঁচতে’ ঘর ছাড়ে চার ছাত্রীহবিগঞ্জে উদ্ধার জয় বাংলা’ স্লোগান:আইভীর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী ফ্লাইদুবাই কাণ্ড:নিষিদ্ধ ৩১ মুসলিম দেশের ক্রু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সমাজে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা’ তিন ব্যক্তির বরিশালে পুলিশি বাধায় জাপার মিছিল পণ্ড, প্রেসিডিয়াম সদস্য ‘আটক আয়াস-রিমির মামলার শুনানিতে আইনজীবীকে মারধর, হট্টগোল :এজলাস ছাড়েন বিচারক। নেত্রকোণায় গ্রামীণ ব্যাংকেআগুন,পুড়ল বাইক-নথি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সমাজে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা’ তিন ব্যক্তির

  • প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
  • ০ পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন সমাজে নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা’ তিন ব্যক্তি।

তারা হলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সবার নজরে আসা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সহজ হবে, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”

উপ প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই তিন ব্যক্তি।

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি।

সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা আলতাফ হোসেনের বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উপ প্রেস সচিব জানান, আলতাফ হোসেনের কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয়

কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’ আরোপ জার্মানির

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সমাজে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা’ তিন ব্যক্তির

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন সমাজে নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা’ তিন ব্যক্তি।

তারা হলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সবার নজরে আসা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সহজ হবে, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”

উপ প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই তিন ব্যক্তি।

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি।

সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা আলতাফ হোসেনের বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উপ প্রেস সচিব জানান, আলতাফ হোসেনের কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।