পাইকারি বাজারেও গতকাল প্রতি মণ চিনি লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭৬০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ৭০০ টাকা। পাম অয়েল প্রতি মণ ৬ হাজার ৪৭০ থেকে ৬ হাজার ৪৮০ এবং সয়াবিন তেল ৭ হাজার ৩০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গমের দাম মণপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৪০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং রেট অপরিবর্তিত থাকলেও কেবল অভ্যন্তরীণ বেচাকেনার চাপ দেখিয়ে বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স এমএইচ গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ভোগ্যপণ্যের বাজারে সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। বর্ষার শেষ দিকে পণ্যের চাহিদা বাড়লে দামেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। কিন্তু এ বছর জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কয়েক দফায় বাড়ায় উৎপাদন খরচ, পরিবহন খরচে বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক ও মজুরিসহ নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কাজও। একটি স্থিতিশীল উৎপাদন ব্যবস্থা না থাকলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক ঘটনা।’ তবে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা কমে এলে দেশের বাজারেও ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন তিনি।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর ধরে ডলার সংকট, ব্যাংকে ঋণপত্র খুলতে সমস্যা, ঋণপত্রের মার্জিন জটিলতায় আমদানিতে বড় ধরনের সংকটে ছিলেন ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট কেটে যাওয়া এবং ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা তুলনামূলক সহজ হয়েছে। তবে অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দা পরিস্থিতিতেও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে। যার কারণে দামও বাড়ছে। নিত্যপণ্যের আমদানি, উৎপাদন ও বিপণনে সরকারিভাবে মনিটরিং জোরদার করা এবং আমদানি শুল্কে ছাড় না দিলে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা কঠিন হবে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে রমজানকে সামনে রেখে ছোলার বাজারেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কয়েক দিনের ব্যবধানে ভালো মানের ছোলার দাম কেজিতে ১৪-১৫ টাকা বেড়েছে। এতে প্রতি মণের (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম বেড়েছে ৫০০ টাকার বেশি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশে ছোলার কোনো সংকট না থাকলেও মজুদ ও ট্রেডিংয়ের কারণে দাম বাড়ছে। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা পণ্য ধারাবাহিকভাবে ক্রয়ের পর বড় মজুদ নিশ্চিত হলেই কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দেন।
খাতুনগঞ্জের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ‘ভোগ্যপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বড় সংকট এখন ট্রেডিং। পণ্য মজুদ না থাকলেও এলসির বিপরীতে বাড়তি পণ্য বিক্রি এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্লিপ বা ডিও বাণিজ্যের কারণে পণ্যের দাম শেয়ারবাজারের মতো ওঠানামা করানো হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।





















