, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

বিশ্বময় আজ বিশ্বকাপে মেসি ও আর্জেন্টিনা

  • প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
  • ৩ পড়া হয়েছে
দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তিনি হয়তো ছুটির অলস বিকেলে পার্কের রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছেন। ম্যাচের ঘড়ির কাঁটা টিকটিক টিকটিক করে এগোচ্ছে। কিন্তু তাঁর মধ্যে কোনো তাড়া নেই, কোনো ছটফটানি নেই। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি হাঁটছেন।

অথচ এই মানুষটিই যখন বল পায়ে পান, তখন সেকেন্ডের ভগ্নাংশে চারপাশের চেনা ভূগোলটা বদলে যায়। তিনি আর কেউ নন, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি!

ফুটবল প্রতিদিনই আরও একটু বেশি শারীরিক, আরও বেশি গতিশীল, আরও বেশি নির্মম হয়ে উঠছে। কিন্তু মেসি আছেন সেই আগের মতোই। তিনি আগেও হাঁটতেন মাঠে, এখনো হাঁটেন। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—এই বয়সে, এই গতির খেলায়, মেসি কীভাবে করছেন এটা?

উত্তরটা পাওয়া যাবে, যদি বলের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে শুধু তাকানো যায় ছোটখাটো ১০ নম্বর লোকটার দিকে। আপনি অবাক হয়ে দেখবেন, ম্যাচের বেশির ভাগ সময় মেসি হয় দাঁড়িয়ে আছেন, নয়তো অলস ভঙ্গিতে হাঁটছেন! তিনি পুরো ম্যাচ খেলেন না, তিনি খেলেন কয়েকটা মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তগুলোতেই ম্যাচ বদলে দেন।

আর্জেন্টিনার অনুশীলনে লিওনেল মেসিএএফএ

কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ একটা পরীক্ষা চালিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের একটি নির্দিষ্ট ১৫ মিনিটের স্পেলে তারা স্টপওয়াচ ধরেছিল, মেসি ঠিক কতক্ষণ দৌড়েছেন তা মাপার জন্য। ফলাফল? ওই ১৫ মিনিটে মেসি মাত্র ৫১ সেকেন্ড দৌড়েছিলেন! পুরো ৯০ মিনিটের হিসাবে যা দাঁড়ায় মাত্র ৫ মিনিটের কাছাকাছি। এই পরীক্ষাটা হয়তো পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক নয়। কিন্তু এটা একটা সত্য তো স্পষ্ট করে দেয়—এই বিশ্বকাপে মেসি খুব কমই দৌড়াচ্ছেন।

তবু মেসি গোল করেছেন সবচেয়ে বেশি। গ্রুপ পর্বে ৬১৮ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে গোলসংখ্যায় তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে । আবার এই লোকটাই প্রতি ৯০ মিনিটে গড় দৌড়ের হিসাবে একেবারে নিচে। সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি ফল!

এই কৌশল সফল হতে গেলে মূলত দরকার দুই জিনিস। প্রথমত, খেলা পাঠ করার অসাধারণ ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, সতীর্থদের নিঃস্বার্থ পরিশ্রম। আর্জেন্টিনার বাকি ৯ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় জানেন, তাঁদের বাড়তি দৌড়াতে হবে। তাঁরা দৌড়াবেন, যাতে মেসি বিশ্রাম নিতে পারেন।

একটা তুলনা দেওয়া যাক। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পাঁচ ম্যাচ শেষে মেসি হাই স্পিড রান বা তীব্র গতির দৌড় দিয়েছেন ২৯৮টি। যেখানে অন্য বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডরা অনেক এগিয়ে। হ্যারি কেইন দিয়েছেন ৬০০টি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৫১৪টি, উসমান দেম্বেলে ৪৭৭টি এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল ৪৬১টি।

কিলিয়ান এমবাপ্পেও দিয়েছেন ৩৩৬টি হাই স্পিড রান। শুধু আর্লিং হলান্ড ৩১৪টি রান নিয়ে মেসির কাছাকাছি, কারণ, নরওয়ের তৃতীয় ম্যাচে তিনি এক মিনিটও খেলেননি। সংখ্যা বলছে, মেসি কম দৌড়াচ্ছেন। খেলা বলছে, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, তিনি জানেন কখন দৌড়াতে হয়।

মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসিরয়টার্স

তবে এমন মুহূর্তও আসে, যখন এই জাদুকরকে তাঁর ভেতরের ঘুমন্ত সিংহটাকে জাগিয়ে তুলতেই হয়। মিসরের বিপক্ষে সেই নাটকীয় ও বিতর্কিত শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে, ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে মেসিকে মনে হচ্ছিল এক খাঁচামুক্ত সিংহ।

৭৬ মিনিটের পর থেকে ম্যাচের সবচেয়ে বেশি টাচ, শট, ড্রিবল আর সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। যেন জমিয়ে রাখা সব শক্তি এক দিনে উজাড় করে দিয়েছেন। তবে এটা প্রতিদিন হবে না।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাই মেসি আবার ফিরতে চাইবেন নিজের ছন্দে। ধীর, স্থির, অপেক্ষমাণ, তারপর হঠাৎ জীবন্ত।

ঠিক যেমন কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম গোলের সময় হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন।

জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা,কেআসিফ নজরুল:এখনই দেশে ফিরে আসুন’

বিশ্বময় আজ বিশ্বকাপে মেসি ও আর্জেন্টিনা

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তিনি হয়তো ছুটির অলস বিকেলে পার্কের রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছেন। ম্যাচের ঘড়ির কাঁটা টিকটিক টিকটিক করে এগোচ্ছে। কিন্তু তাঁর মধ্যে কোনো তাড়া নেই, কোনো ছটফটানি নেই। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি হাঁটছেন।

অথচ এই মানুষটিই যখন বল পায়ে পান, তখন সেকেন্ডের ভগ্নাংশে চারপাশের চেনা ভূগোলটা বদলে যায়। তিনি আর কেউ নন, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি!

ফুটবল প্রতিদিনই আরও একটু বেশি শারীরিক, আরও বেশি গতিশীল, আরও বেশি নির্মম হয়ে উঠছে। কিন্তু মেসি আছেন সেই আগের মতোই। তিনি আগেও হাঁটতেন মাঠে, এখনো হাঁটেন। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—এই বয়সে, এই গতির খেলায়, মেসি কীভাবে করছেন এটা?

উত্তরটা পাওয়া যাবে, যদি বলের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে শুধু তাকানো যায় ছোটখাটো ১০ নম্বর লোকটার দিকে। আপনি অবাক হয়ে দেখবেন, ম্যাচের বেশির ভাগ সময় মেসি হয় দাঁড়িয়ে আছেন, নয়তো অলস ভঙ্গিতে হাঁটছেন! তিনি পুরো ম্যাচ খেলেন না, তিনি খেলেন কয়েকটা মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তগুলোতেই ম্যাচ বদলে দেন।

আর্জেন্টিনার অনুশীলনে লিওনেল মেসিএএফএ

কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ একটা পরীক্ষা চালিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের একটি নির্দিষ্ট ১৫ মিনিটের স্পেলে তারা স্টপওয়াচ ধরেছিল, মেসি ঠিক কতক্ষণ দৌড়েছেন তা মাপার জন্য। ফলাফল? ওই ১৫ মিনিটে মেসি মাত্র ৫১ সেকেন্ড দৌড়েছিলেন! পুরো ৯০ মিনিটের হিসাবে যা দাঁড়ায় মাত্র ৫ মিনিটের কাছাকাছি। এই পরীক্ষাটা হয়তো পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক নয়। কিন্তু এটা একটা সত্য তো স্পষ্ট করে দেয়—এই বিশ্বকাপে মেসি খুব কমই দৌড়াচ্ছেন।

তবু মেসি গোল করেছেন সবচেয়ে বেশি। গ্রুপ পর্বে ৬১৮ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে গোলসংখ্যায় তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে । আবার এই লোকটাই প্রতি ৯০ মিনিটে গড় দৌড়ের হিসাবে একেবারে নিচে। সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি ফল!

এই কৌশল সফল হতে গেলে মূলত দরকার দুই জিনিস। প্রথমত, খেলা পাঠ করার অসাধারণ ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, সতীর্থদের নিঃস্বার্থ পরিশ্রম। আর্জেন্টিনার বাকি ৯ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় জানেন, তাঁদের বাড়তি দৌড়াতে হবে। তাঁরা দৌড়াবেন, যাতে মেসি বিশ্রাম নিতে পারেন।

একটা তুলনা দেওয়া যাক। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পাঁচ ম্যাচ শেষে মেসি হাই স্পিড রান বা তীব্র গতির দৌড় দিয়েছেন ২৯৮টি। যেখানে অন্য বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডরা অনেক এগিয়ে। হ্যারি কেইন দিয়েছেন ৬০০টি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৫১৪টি, উসমান দেম্বেলে ৪৭৭টি এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল ৪৬১টি।

কিলিয়ান এমবাপ্পেও দিয়েছেন ৩৩৬টি হাই স্পিড রান। শুধু আর্লিং হলান্ড ৩১৪টি রান নিয়ে মেসির কাছাকাছি, কারণ, নরওয়ের তৃতীয় ম্যাচে তিনি এক মিনিটও খেলেননি। সংখ্যা বলছে, মেসি কম দৌড়াচ্ছেন। খেলা বলছে, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, তিনি জানেন কখন দৌড়াতে হয়।

মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসিরয়টার্স

তবে এমন মুহূর্তও আসে, যখন এই জাদুকরকে তাঁর ভেতরের ঘুমন্ত সিংহটাকে জাগিয়ে তুলতেই হয়। মিসরের বিপক্ষে সেই নাটকীয় ও বিতর্কিত শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে, ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে মেসিকে মনে হচ্ছিল এক খাঁচামুক্ত সিংহ।

৭৬ মিনিটের পর থেকে ম্যাচের সবচেয়ে বেশি টাচ, শট, ড্রিবল আর সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। যেন জমিয়ে রাখা সব শক্তি এক দিনে উজাড় করে দিয়েছেন। তবে এটা প্রতিদিন হবে না।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাই মেসি আবার ফিরতে চাইবেন নিজের ছন্দে। ধীর, স্থির, অপেক্ষমাণ, তারপর হঠাৎ জীবন্ত।

ঠিক যেমন কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম গোলের সময় হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন।