, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭০ বছরের ব্যবসায়িক গৌরব

  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ পড়া হয়েছে

৭০ বছরের ব্যবসায়িক গৌরব, ৬৫ বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ৪৫ বছরের জনপ্রতিনিধিত্ব — আমাদের পারিবারিক ইতিবৃত্ত

আমি শাহজাহান চৌধুরী — ছাতকের চৌধুরী পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত একজন প্রবাসী। আমার প্রয়াত পিতা আরজ মিয়া চৌধুরী ছিলেন সিলেট অঞ্চলের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমরা সাত ভাই ও দুই বোন; আমি সবার বড়।
ছাত্রজীবনে আমি এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী জীবনে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি এবং সেখানে পোনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট, ম্যানহাটন, বোম্বে ইন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল গ্রোসারি এবং বাংলামোটর অটো রিপেয়ার শপসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এর পাশাপাশি আমেরিকা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং আমেরিকা সিলেট গণদাবি পরিষদের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে আমি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি।
সম্মানিত ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আপনাদের জ্ঞাতার্থে আজকের এই লেখা। আপনারা নিজেরাই অবগত আছেন যে, বিগত ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার স্নেহভাজন ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। আমার ভাই প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
এ ছাড়াও ছাতক পৌরবাসী আমার আরেক স্নেহধন্য ভাই আবুল কালাম চৌধুরীকেও ধারাবাহিকভাবে চারবার মেয়র নির্বাচিত করে আমাদের ঋদ্ধ করেছেন। এটি আপনাদের পরম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের পরিবারের প্রতি যে ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন এবং পাশে থেকেছেন, তারই প্রেক্ষিতে আজ আমি ফেসবুকে এই বিস্তারিত লেখাটি লিখছি।
আমি পরিবারের বড় সন্তান। এখন পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছি। তাই আপনাদের সামনে আমার পরিবারের কিছু ইতিবৃত্ত তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আপনাদের মূল্যবান সময় থেকে কিছুটা ব্যয় করে পুরো লেখাটি পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।
প্রিয় ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আমাদের পরিবার ব্যবসা, রাজনীতি ও সমাজসেবার ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা সফল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ছাতকের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিন প্রজন্ম ধরে আমাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের যাত্রা ৭০ বছরের অধিক, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ৬৫ বছরের, এবং সমাজসেবা ও জনপ্রতিনিধিত্বে সরাসরি অংশগ্রহণ আজও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পরিবারের রাজনীতি কখনো আকস্মিক ছিল না; এটি ব্যবসায়িক সাফল্য, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং মানুষের অর্জিত আস্থার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রজন্মক্রমে গড়ে উঠেছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে অবিচল থেকেছে। যুদ্ধ চলাকালে আমাদের জিপ গাড়ি ব্যবহার করে লামাকাজি ফেরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য সরবরাহ করা হতো।
মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ছাতক অ্যাটাক করে যেদিন ওইদিন আমার এক দাদা হাজী ময়না মিয়া চৌধুরী ও এক চাচা সমুজ মিয়া চৌধুরী কে হায়েনারা গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় পাক হানাদার বাহিনী। এসময় ছাতকে আমাদের অফিসের পাশেই পাকিস্তানী এক গেঞ্জি ব্যবসায়ী যার নাম ছিল ‘গেঞ্জিওয়ালা খা’ ওই ব্যক্তি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আমার পিতা আরজ মিয়া চৌধুরী স্বাধীনতার পূর্বে, আনুমানিক ১৯৫৫ সালের দিকে, পাথর ব্যবসা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর তিনি ভারত থেকে চুনাপাথর, কমলালেবু, সাতকড়া, তেজপাতা, ওষুধ ও কাঠ আমদানি করে সিলেট অঞ্চলে তাঁর ব্যবসায়িক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে কয়েক বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ইজারাদার ছিলেন।
অতীত ও বর্তমান আমাদের পারিবারিক অবস্থান মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরই নির্ভরশীল। আমার দাদা ও পিতার হাত ধরেই আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎপত্তি ঘটে। বিশেষ করে এস অ্যান্ড এ চৌধুরী শপিং কমপ্লেক্স, এস আর চৌধুরী কমপ্লেক্সে, জাহাজ, ট্রাক, পেট্রোল পাম্প, সুরমা অটোমেটিক রাইস মিল, সুরমা স্টোন ক্রাশার মিল, চুনাপাথর আমদানি, পাথর, বালু ও মাটি ব্যবসাসহ আমাদের পরিবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
আমার এক দাদা প্রয়াত মদরিছ মিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৮ সালে ছাতক থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ছাতকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
আমার পিতার চাচাতো ভাই প্রয়াত সামসু মিয়া চৌধুরী ১৯৭০ সালে এমপি নির্বাচিত হন এবং তিনিও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
আমার আপন বড় চাচা সুজন মিয়া চৌধুরী পাকিস্তান আমলের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ছাতকের বহুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় তিনি ছাতক থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং থানা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ আমলে তিনি প্রথম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সুজন চৌধুরী ছাতক ডিগ্রি কলেজের সভাপতি, ছাতক উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ছাতক চন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ছাতক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ভূমি দান করা হয়। উল্লেখ্য যে, আমার চাচা সুজন মিয়া চৌধুরী ছাতক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা অনস্বীকার্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমার আপন বড় চাচার নামে চাইরচিরা রণমঙ্গল সুজন চৌ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
এবার পরবর্তী প্রজন্মের প্রসঙ্গে আসি।
আমার ছোট ভাই আবুল কালাম চৌধুরী ছাত্রজীবনে সক্রিয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি হন এবং ছাতক পৌরসভার মেয়র হিসেবে ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারবার নির্বাচিত হন। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুনামগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আমার আরেক ছোট ভাই জামাল আহমদ চৌধুরী চুনাপাথর ব্যবসায় সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর উদ্যোগেই ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ চুনাপাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। তিনি পাঁচবার এই গ্রুপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।
আরেক ভাই কামাল চৌধুরী একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
আমার আরেক ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে পূর্বেই বলেছি। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের পাঁচবারের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই ছাতকে ছাত্রলীগের পুনরুত্থান ঘটে। পরবর্তীতে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক ভাই শাহীন আহমদ চৌধুরীও একজন ব্যবসায়ী। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সবার ছোট আহমদ সাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের একাধিকবারের এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট। এফবিসিসিআইয়ের বডি মেম্বার এবং সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্বরত আছেন। সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তন্মধ্যে রোশনারা আলী কয়েকবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানেও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মামাতো ভাই মুহাইমিন তালুকদার টাওয়ার হ্যামলেটসের কয়েকবারের কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র ছিলেন এবং বর্তমানে সেখানকার ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আমাদের বাড়িতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন — প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী; রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের; প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, ১৯৮১; খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মেজর ইকবাল, ১৯৮১; তৈমুর রাজা চৌধুরী; অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত; মন্ত্রী শাহজাহান খান; ফরিদ গাজী এমপি; ফারুক খান, বাণিজ্যমন্ত্রী; নজরুল ইসলাম বাবু এমপি; সাবেক বিসিআইসি সভাপতি মাতলু আহমেদ; হাসান মাহমুদ; আব্দুল মান্নান; বিচারপতি মানিক; সুলতান মোহাম্মদ মনসুর; বিশিষ্ট শিল্পপতি ও এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্শেদুল আলম; মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এবং আরও অনেকে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের পরিবারের লোকজন কোনো সরকারি কার্যক্রমে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করেননি। অনেক মন্ত্রী-এমপি আমাদের বাড়িতে এসেছেন, কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমাদের ব্যবসা সবসময়ই বেসরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক।
পাকিস্তান আমলে আমার পিতা কনকর্ড বাস্ত শিল্প এবং জহুরুল ইসলামের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে পাথর সরবরাহ করতেন। বর্তমানে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, শাহ্ সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, বসুন্ধরা সিমেন্ট, সেভেন রিং সিমেন্ট, ক্রিসেন্ট সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান। এ ছাড়া বড় বড় জাহাজ কোম্পানির সঙ্গেও আমাদের ব্যবসা রয়েছে এবং আমাদের নিজস্ব জাহাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত চলাচল করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবার হিসেবে দলীয় কোন্দল হয়তো ছিল, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা কখনো ছিল না — এখনো নেই।
প্রিয় ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আমার পরিবারের লোকজন, বিশেষ করে আমার ছোট ভাইদের প্রতিও আমার আবদার থাকবে — তারাও যেন আরও বেশি আপনাদের কাছাকাছি থাকে, আরও জনদরদী হয়, আরও মানবিক হয়। আমার পিতা ও পূর্বপুরুষরা যেমন মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন, তেমনি তাঁরাও যেন নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করেন, বিগত দিনের মতো জননেতৃত্ব গড়ে তোলেন এবং গরিব-দুঃখী, মেহনতি মানুষের সঙ্গে সৎ আচরণ করেন — এটাই আমার একান্ত প্রত্যাশা।
আমি মনে করি, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সমাজসেবায়ও আমাদের পরিবারের বিশ্বাসযোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা শিখে এসেছি — নেতৃত্ব অর্থ ক্ষমতার দাপট নয়; নেতৃত্ব মানে মানুষের দায়িত্ব বহন করা। ন্যায়বোধই আসল শক্তি।
আপনারা বিগত দিনের মতো আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন, সহযোগিতা করবেন এবং ছাতক-দোয়ারাবাজারে সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকবেন — এই কামনা করছি। পাশাপাশি আপনারাও সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ থাকবেন — এ প্রত্যাশা।

শাহজাহান চৌধুরী

জনপ্রিয়

৭০ বছরের ব্যবসায়িক গৌরব

প্রকাশের সময় : ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

৭০ বছরের ব্যবসায়িক গৌরব, ৬৫ বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ৪৫ বছরের জনপ্রতিনিধিত্ব — আমাদের পারিবারিক ইতিবৃত্ত

আমি শাহজাহান চৌধুরী — ছাতকের চৌধুরী পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত একজন প্রবাসী। আমার প্রয়াত পিতা আরজ মিয়া চৌধুরী ছিলেন সিলেট অঞ্চলের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমরা সাত ভাই ও দুই বোন; আমি সবার বড়।
ছাত্রজীবনে আমি এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী জীবনে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি এবং সেখানে পোনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট, ম্যানহাটন, বোম্বে ইন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল গ্রোসারি এবং বাংলামোটর অটো রিপেয়ার শপসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এর পাশাপাশি আমেরিকা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং আমেরিকা সিলেট গণদাবি পরিষদের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে আমি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি।
সম্মানিত ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আপনাদের জ্ঞাতার্থে আজকের এই লেখা। আপনারা নিজেরাই অবগত আছেন যে, বিগত ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার স্নেহভাজন ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। আমার ভাই প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
এ ছাড়াও ছাতক পৌরবাসী আমার আরেক স্নেহধন্য ভাই আবুল কালাম চৌধুরীকেও ধারাবাহিকভাবে চারবার মেয়র নির্বাচিত করে আমাদের ঋদ্ধ করেছেন। এটি আপনাদের পরম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের পরিবারের প্রতি যে ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন এবং পাশে থেকেছেন, তারই প্রেক্ষিতে আজ আমি ফেসবুকে এই বিস্তারিত লেখাটি লিখছি।
আমি পরিবারের বড় সন্তান। এখন পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছি। তাই আপনাদের সামনে আমার পরিবারের কিছু ইতিবৃত্ত তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আপনাদের মূল্যবান সময় থেকে কিছুটা ব্যয় করে পুরো লেখাটি পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।
প্রিয় ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আমাদের পরিবার ব্যবসা, রাজনীতি ও সমাজসেবার ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা সফল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ছাতকের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিন প্রজন্ম ধরে আমাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের যাত্রা ৭০ বছরের অধিক, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ৬৫ বছরের, এবং সমাজসেবা ও জনপ্রতিনিধিত্বে সরাসরি অংশগ্রহণ আজও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পরিবারের রাজনীতি কখনো আকস্মিক ছিল না; এটি ব্যবসায়িক সাফল্য, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং মানুষের অর্জিত আস্থার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রজন্মক্রমে গড়ে উঠেছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে অবিচল থেকেছে। যুদ্ধ চলাকালে আমাদের জিপ গাড়ি ব্যবহার করে লামাকাজি ফেরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য সরবরাহ করা হতো।
মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ছাতক অ্যাটাক করে যেদিন ওইদিন আমার এক দাদা হাজী ময়না মিয়া চৌধুরী ও এক চাচা সমুজ মিয়া চৌধুরী কে হায়েনারা গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় পাক হানাদার বাহিনী। এসময় ছাতকে আমাদের অফিসের পাশেই পাকিস্তানী এক গেঞ্জি ব্যবসায়ী যার নাম ছিল ‘গেঞ্জিওয়ালা খা’ ওই ব্যক্তি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আমার পিতা আরজ মিয়া চৌধুরী স্বাধীনতার পূর্বে, আনুমানিক ১৯৫৫ সালের দিকে, পাথর ব্যবসা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর তিনি ভারত থেকে চুনাপাথর, কমলালেবু, সাতকড়া, তেজপাতা, ওষুধ ও কাঠ আমদানি করে সিলেট অঞ্চলে তাঁর ব্যবসায়িক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে কয়েক বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ইজারাদার ছিলেন।
অতীত ও বর্তমান আমাদের পারিবারিক অবস্থান মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরই নির্ভরশীল। আমার দাদা ও পিতার হাত ধরেই আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎপত্তি ঘটে। বিশেষ করে এস অ্যান্ড এ চৌধুরী শপিং কমপ্লেক্স, এস আর চৌধুরী কমপ্লেক্সে, জাহাজ, ট্রাক, পেট্রোল পাম্প, সুরমা অটোমেটিক রাইস মিল, সুরমা স্টোন ক্রাশার মিল, চুনাপাথর আমদানি, পাথর, বালু ও মাটি ব্যবসাসহ আমাদের পরিবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
আমার এক দাদা প্রয়াত মদরিছ মিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৮ সালে ছাতক থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ছাতকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
আমার পিতার চাচাতো ভাই প্রয়াত সামসু মিয়া চৌধুরী ১৯৭০ সালে এমপি নির্বাচিত হন এবং তিনিও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
আমার আপন বড় চাচা সুজন মিয়া চৌধুরী পাকিস্তান আমলের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ছাতকের বহুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় তিনি ছাতক থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং থানা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ আমলে তিনি প্রথম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সুজন চৌধুরী ছাতক ডিগ্রি কলেজের সভাপতি, ছাতক উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ছাতক চন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ছাতক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ভূমি দান করা হয়। উল্লেখ্য যে, আমার চাচা সুজন মিয়া চৌধুরী ছাতক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা অনস্বীকার্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমার আপন বড় চাচার নামে চাইরচিরা রণমঙ্গল সুজন চৌ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
এবার পরবর্তী প্রজন্মের প্রসঙ্গে আসি।
আমার ছোট ভাই আবুল কালাম চৌধুরী ছাত্রজীবনে সক্রিয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি হন এবং ছাতক পৌরসভার মেয়র হিসেবে ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারবার নির্বাচিত হন। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুনামগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আমার আরেক ছোট ভাই জামাল আহমদ চৌধুরী চুনাপাথর ব্যবসায় সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর উদ্যোগেই ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ চুনাপাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। তিনি পাঁচবার এই গ্রুপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।
আরেক ভাই কামাল চৌধুরী একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
আমার আরেক ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে পূর্বেই বলেছি। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের পাঁচবারের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই ছাতকে ছাত্রলীগের পুনরুত্থান ঘটে। পরবর্তীতে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক ভাই শাহীন আহমদ চৌধুরীও একজন ব্যবসায়ী। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সবার ছোট আহমদ সাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের একাধিকবারের এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট। এফবিসিসিআইয়ের বডি মেম্বার এবং সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্বরত আছেন। সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তন্মধ্যে রোশনারা আলী কয়েকবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানেও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মামাতো ভাই মুহাইমিন তালুকদার টাওয়ার হ্যামলেটসের কয়েকবারের কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র ছিলেন এবং বর্তমানে সেখানকার ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আমাদের বাড়িতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন — প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী; রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের; প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, ১৯৮১; খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মেজর ইকবাল, ১৯৮১; তৈমুর রাজা চৌধুরী; অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত; মন্ত্রী শাহজাহান খান; ফরিদ গাজী এমপি; ফারুক খান, বাণিজ্যমন্ত্রী; নজরুল ইসলাম বাবু এমপি; সাবেক বিসিআইসি সভাপতি মাতলু আহমেদ; হাসান মাহমুদ; আব্দুল মান্নান; বিচারপতি মানিক; সুলতান মোহাম্মদ মনসুর; বিশিষ্ট শিল্পপতি ও এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্শেদুল আলম; মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এবং আরও অনেকে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের পরিবারের লোকজন কোনো সরকারি কার্যক্রমে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করেননি। অনেক মন্ত্রী-এমপি আমাদের বাড়িতে এসেছেন, কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমাদের ব্যবসা সবসময়ই বেসরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক।
পাকিস্তান আমলে আমার পিতা কনকর্ড বাস্ত শিল্প এবং জহুরুল ইসলামের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে পাথর সরবরাহ করতেন। বর্তমানে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, শাহ্ সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, বসুন্ধরা সিমেন্ট, সেভেন রিং সিমেন্ট, ক্রিসেন্ট সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান। এ ছাড়া বড় বড় জাহাজ কোম্পানির সঙ্গেও আমাদের ব্যবসা রয়েছে এবং আমাদের নিজস্ব জাহাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত চলাচল করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবার হিসেবে দলীয় কোন্দল হয়তো ছিল, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা কখনো ছিল না — এখনো নেই।
প্রিয় ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী, আমার পরিবারের লোকজন, বিশেষ করে আমার ছোট ভাইদের প্রতিও আমার আবদার থাকবে — তারাও যেন আরও বেশি আপনাদের কাছাকাছি থাকে, আরও জনদরদী হয়, আরও মানবিক হয়। আমার পিতা ও পূর্বপুরুষরা যেমন মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন, তেমনি তাঁরাও যেন নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করেন, বিগত দিনের মতো জননেতৃত্ব গড়ে তোলেন এবং গরিব-দুঃখী, মেহনতি মানুষের সঙ্গে সৎ আচরণ করেন — এটাই আমার একান্ত প্রত্যাশা।
আমি মনে করি, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সমাজসেবায়ও আমাদের পরিবারের বিশ্বাসযোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা শিখে এসেছি — নেতৃত্ব অর্থ ক্ষমতার দাপট নয়; নেতৃত্ব মানে মানুষের দায়িত্ব বহন করা। ন্যায়বোধই আসল শক্তি।
আপনারা বিগত দিনের মতো আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন, সহযোগিতা করবেন এবং ছাতক-দোয়ারাবাজারে সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকবেন — এই কামনা করছি। পাশাপাশি আপনারাও সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ থাকবেন — এ প্রত্যাশা।

শাহজাহান চৌধুরী