, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪বছরের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা : আসামি দরজি ওয়াহিদ গ্রেপ্তার, শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
  • ২ পড়া হয়েছে
অনলাইন১০ জুলাই, ২০২৬
সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)। ফরিদপুর শহরে টেপাখোলায়

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এক কিশোরীর (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি শুরু থেকে গোপন থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হতে থাকে।

ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। দুই দিন পর গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় মামলার একমাত্র আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪)। তিনি পেশায় দরজিদোকানি। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।

এদিকে শিশু পরিবারে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত বুধবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।

কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধীন ‘নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্র’-এ রাখা হয়েছে।

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে এমন ঘটনা সবাইকে বিস্মিত করেছে। ফরিদপুর শহরবাসী সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই শিশু পরিবারের কোনো নিবাসী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বা এ–জাতীয় কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায়নি। তবে ২৩ বছর আগে ওই শিশু পরিবারের সীমানাপ্রাচীর ছিল না। ওই সময় এলাকার বখাটে কিশোর–তরুণেরা শিশু পরিবারের পুকুরে গোসল করত ও নিবাসীদের উত্ত৵ক্ত করার ঘটনা ঘটত। তবে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার পর এই উপদ্রব বন্ধ হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

১৪বছরের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা : আসামি দরজি ওয়াহিদ গ্রেপ্তার, শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
অনলাইন১০ জুলাই, ২০২৬
সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)। ফরিদপুর শহরে টেপাখোলায়

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এক কিশোরীর (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি শুরু থেকে গোপন থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হতে থাকে।

ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। দুই দিন পর গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় মামলার একমাত্র আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪)। তিনি পেশায় দরজিদোকানি। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।

এদিকে শিশু পরিবারে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত বুধবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।

কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধীন ‘নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্র’-এ রাখা হয়েছে।

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে এমন ঘটনা সবাইকে বিস্মিত করেছে। ফরিদপুর শহরবাসী সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই শিশু পরিবারের কোনো নিবাসী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বা এ–জাতীয় কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায়নি। তবে ২৩ বছর আগে ওই শিশু পরিবারের সীমানাপ্রাচীর ছিল না। ওই সময় এলাকার বখাটে কিশোর–তরুণেরা শিশু পরিবারের পুকুরে গোসল করত ও নিবাসীদের উত্ত৵ক্ত করার ঘটনা ঘটত। তবে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার পর এই উপদ্রব বন্ধ হয়েছে।