, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

কাকেনিয়ে এসেছি?ওমন্ত্রীর মেয়ে! অদ্ভুত ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি

  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন ২৩ জুলাই, ২০২৬:

মেয়ের ভিসার কাজে এম্বাসিতে গিয়ে এক অদ্ভুত ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়েছিলাম।নিয়ম অনুযায়ী, ১৭ বছরের মেয়ের অভিভাবক হিসেবে আমার থাকার অনুমতি ছিল ওখানে।সবার জন্য স্পষ্ট নিয়ম_অনূর্ধ্ব-১৮ ছাড়া আর কারো অভিভাবক সাথে থাকতে পারবেন না।এটা কম বেশি অনেকেই জানি…

শুরু থেকেই আমার পাশে একজন ভদ্রলোক বসেছিলেন।এত রেস্ট্রিক্টেড একটা জায়গায় বসে উনার অনবরত মোবাইলে উচ্চ গলায় কথা বলার যন্ত্রণা এবং আচরণ দেখে সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল,উনি যে মেয়েটিকে ভিসার কাজে নিয়ে এসেছেন, সে উনার মেয়ে বা কোনো আত্মীয় নন। মেয়েটির বয়স ২৪ বছর। অর্থাৎ, নিয়ম অনুযায়ী ওই ভদ্রলোকের সেখানে বসে থাকার কোনো এক্তিয়ারই নেই। অথচ দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওখানকার লোকজন সহ মোবাইলে বিভিন্ন জনের সাথে প্রভাব খাটানোর ও তদবির করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন প্রকাশ্যে।
বিষয়টি দেখে একদিকে যেমন বিরক্ত হচ্ছিলাম, অন্যদিকে অবাকও লাগছিলো। আর কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো আমি নিজেই তাকে উচিত কথা শুনিয়ে দিতাম!
যাইহোক;কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে ঘোষণা আসল,প্রাপ্তবয়স্ক কারো অভিভাবক এবং ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো আবেদনকারীর বাবা-মা বা লোকাল অভিভাবক ওখানে থাকতে পারবেন না। নিয়ম মেনে আমি আমার ড্রাইভারকে ফোন করলাম। ড্রাইভার জানালেন তিনি ১০ মিনিট পর পৌঁছাবেন।আমি দায়িত্বরত একজন ভদ্রমহিলাকে ১০ মিনিট আরো অপেক্ষা করতে চাই বলে অনুরোধ করলাম, তিনিও হাসিমুখে সম্মতি জানান।
কিন্তু আসল বিপত্তি বাঁধলো আমার পাশের সেই ‘ভিআইপি’ ভদ্রলোককে নিয়ে। কাউন্টার থেকে যখন ওনাকেও সসম্মানে নিচে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হলো, তিনি হুট করেই একটু ক্ষুব্ধ হলেন। যেন ওনার আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে!
সুরেলি কন্ঠে সম্ভবত নওগার সুরে বললেন, “আমি কেন নিচে যাব? আমি সরকারি লোক! আর আপনি জানেন আমি কাকে নিয়ে এসেছি? ও মন্ত্রীর মেয়ে!
কথাটা শুনে মনে মনে হাসলাম আর ভাবলাম হায়রে কপাল, ‘যে লাউ সেই কদু’!
স্বাধীন হয়ে দিন বদলালেও আমাদের দেশের এই ক্ষমতার দাপট আর ভিআইপি সংস্কৃতির কোনো বদল নাই। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সব জায়গায় প্রভাব খাটানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা কবে শেষ হবে?
পুরো ঘটনা শেষে এক ঘণ্টা ধরে মনের মধ্যে কেবল কয়েকটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে:
আমরা আসলে কোথায় ছিলাম?
আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?
আর আমাদের আগামী দিনগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
সব দেখে-শুনে এখন একটাই সান্ত্বনা_আগামীতে একমাত্র আল্লাহ-ই ভরসা!
Audite Karim’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

কাকেনিয়ে এসেছি?ওমন্ত্রীর মেয়ে! অদ্ভুত ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি

প্রকাশের সময় : ০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ২৩ জুলাই, ২০২৬:

মেয়ের ভিসার কাজে এম্বাসিতে গিয়ে এক অদ্ভুত ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়েছিলাম।নিয়ম অনুযায়ী, ১৭ বছরের মেয়ের অভিভাবক হিসেবে আমার থাকার অনুমতি ছিল ওখানে।সবার জন্য স্পষ্ট নিয়ম_অনূর্ধ্ব-১৮ ছাড়া আর কারো অভিভাবক সাথে থাকতে পারবেন না।এটা কম বেশি অনেকেই জানি…

শুরু থেকেই আমার পাশে একজন ভদ্রলোক বসেছিলেন।এত রেস্ট্রিক্টেড একটা জায়গায় বসে উনার অনবরত মোবাইলে উচ্চ গলায় কথা বলার যন্ত্রণা এবং আচরণ দেখে সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল,উনি যে মেয়েটিকে ভিসার কাজে নিয়ে এসেছেন, সে উনার মেয়ে বা কোনো আত্মীয় নন। মেয়েটির বয়স ২৪ বছর। অর্থাৎ, নিয়ম অনুযায়ী ওই ভদ্রলোকের সেখানে বসে থাকার কোনো এক্তিয়ারই নেই। অথচ দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওখানকার লোকজন সহ মোবাইলে বিভিন্ন জনের সাথে প্রভাব খাটানোর ও তদবির করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন প্রকাশ্যে।
বিষয়টি দেখে একদিকে যেমন বিরক্ত হচ্ছিলাম, অন্যদিকে অবাকও লাগছিলো। আর কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো আমি নিজেই তাকে উচিত কথা শুনিয়ে দিতাম!
যাইহোক;কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে ঘোষণা আসল,প্রাপ্তবয়স্ক কারো অভিভাবক এবং ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো আবেদনকারীর বাবা-মা বা লোকাল অভিভাবক ওখানে থাকতে পারবেন না। নিয়ম মেনে আমি আমার ড্রাইভারকে ফোন করলাম। ড্রাইভার জানালেন তিনি ১০ মিনিট পর পৌঁছাবেন।আমি দায়িত্বরত একজন ভদ্রমহিলাকে ১০ মিনিট আরো অপেক্ষা করতে চাই বলে অনুরোধ করলাম, তিনিও হাসিমুখে সম্মতি জানান।
কিন্তু আসল বিপত্তি বাঁধলো আমার পাশের সেই ‘ভিআইপি’ ভদ্রলোককে নিয়ে। কাউন্টার থেকে যখন ওনাকেও সসম্মানে নিচে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হলো, তিনি হুট করেই একটু ক্ষুব্ধ হলেন। যেন ওনার আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে!
সুরেলি কন্ঠে সম্ভবত নওগার সুরে বললেন, “আমি কেন নিচে যাব? আমি সরকারি লোক! আর আপনি জানেন আমি কাকে নিয়ে এসেছি? ও মন্ত্রীর মেয়ে!
কথাটা শুনে মনে মনে হাসলাম আর ভাবলাম হায়রে কপাল, ‘যে লাউ সেই কদু’!
স্বাধীন হয়ে দিন বদলালেও আমাদের দেশের এই ক্ষমতার দাপট আর ভিআইপি সংস্কৃতির কোনো বদল নাই। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সব জায়গায় প্রভাব খাটানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা কবে শেষ হবে?
পুরো ঘটনা শেষে এক ঘণ্টা ধরে মনের মধ্যে কেবল কয়েকটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে:
আমরা আসলে কোথায় ছিলাম?
আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?
আর আমাদের আগামী দিনগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
সব দেখে-শুনে এখন একটাই সান্ত্বনা_আগামীতে একমাত্র আল্লাহ-ই ভরসা!
Audite Karim’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।