
অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিজের এলাকায় যেতে বাধাগ্রস্ত হতেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। বাধা শুধু বাড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর চেহলাম অনুষ্ঠান আয়োজনেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।
সেই চেহলামে যোগ দিতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে। সবাই যখন খেতে বসেছিলেন, তখনই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও চার আনার দাম দেননি স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী!
ঘটনাটি নিয়ে রোটন আক্ষেপ করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমে খবরও হয়েছিল। কিন্তু তাতে কী? নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে রোটনের জন্য বাধার দেয়ালটি আর সরেনি। সেই বাধার কথা সবাই জানতেন, অথচ কেউ কিছু করেননি, কেউ প্রতিবাদও জানাননি।
দলের দুঃসময়ে যাঁরা রাজপথে ছিলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে যাঁরা জীবন-যৌবন ব্যয় করেছেন, ক্ষমতায় থাকার সময় সেই রোটনদেরই ঠাঁই হয়নি নিজেদের দলে।
রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা বোধ হয় এমনই। ক্ষমতার বলয়ে অনেকেরই জায়গা হয়, কিন্তু ত্যাগী কর্মীরা থেকে যান উপেক্ষিত। তাঁদের আক্ষেপ শোনার কেউ থাকে না, অভিমান বোঝারও কেউ থাকে না।
শেষ পর্যন্ত বুকভরা অভিমান আর নীরব দীর্ঘশ্বাস নিয়েই তাঁদের বিদায় নিতে হয়। আর ক্ষমতার রাজনীতি নিজের মতো করেই চলতে থাকে।
Shared post
চরম বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ
Yasmin Shargo
ত্যাগী কর্মিদের বাদ দিয়ে, যখন নতুন নতুন পদ পদবী পাওয়া নেতা ও ব্যবসায়ীদের চাটুকারিতা, তোষামোদ, উপঢৌকন সহ সন্ত্রাসীরা গুরুত্বপুর্ন হয়, তখনই এমনটা হয়।
এদের জন্যই আজ এ দলটির এমন নিগ্রীহিত অবস্থা। অথচ এমনটা হবার কথা ছিল না। এরশাদকে শ্বৈরাচার বলা হয়েছিল, ক্ষমতাচ্যুত করা হল। কিন্তু সবাইকে গন হারে দেশ ত্যাগ করতে হয়নি।
এসব চোর বদমাসদের আগেই চিনে রাখা উচিত ছিল!
যদি কোনদিন তাদের সময় আসে, অতীতের কর্মকান্ড থেকে তারা শিক্ষা নিবে আশা করি। চিন্হিত সে সব নেতাদের বাদ দিয়েই চলা জানতে হবে!
Sohel Mozumder Shipon
আওয়ামী লীগের ৯৫ ভাগ এমপিই এমন দানব হয়ে উঠেছিল, এরা নিজেদের মহারাজা মনে করতো, এরা আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে ভাই লীগ, পরিবার লীগ করেছে, আওয়ামী লীগ দূর্বল হয়ে ৫ আগস্টে পরেছে
MD Mainur Rahman
এই বদমায়েশের বাচ্চাদের মাথায় তোলার কারণেই ত্যাগীরা কষ্ট পেয়ে পেয়ে মরে যায়। আর ন্যাচারাল জাস্টিস এভাবেই আসে।
দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা সব সময় উপেক্ষিত হয়।
ফজলে করিম চৌধুরীর মতো এরকম শু*য়ো*রে*র বাচ্চা এমপিদের কারণেই আজকের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেসকল এমপি’রা ই নিজেদের তৃণমূল থেকে উঠে আসা দলের নেতাদের যাত্রাপথ বাধাগ্রস্ত করে নিজের অর্থব, অকর্মণ্য, ব্রেইনলেসদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেসব আসনে আজকের দিন পর্যন্ত তারা একটি মিছিলও করাতে পারে নাই।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে ধানমন্ডি ৩/এ-তে Mahfuzul Haider Chowdhury রোটন ভাইয়ের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো। হঠাৎ একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম ভাই, আপনি এলাকায় যাচ্ছেন না কেন? নির্বাচন তো আর বেশি দূর নয়।
তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, “এলাকায় গিয়ে কী করব বল? নির্বাচনের আগের রাতে বিমানে বাড়ি যাব, সকালে ঘুম থেকে উঠে ভোট টা দিয়েই আবার বিমানে উঠে ঢাকা ফিরে আসব।”
অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেন? উত্তরে তিনি বললেন, তার এলাকার এমপি নাকি বিরক্ত হন, যখন তিনি বাড়িতে যান।
আমি হতাশ হয়ে বলে উঠলাম, “ভাই, আপনি তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আপনার সঙ্গে একজন এমপি এভাবে আচরণ করার সাহস পায় কী করে?”
তিনি আর কিছু বললেন না। শুধু বললেন, “বাদ দে এসব কথা।”
এখন সেই মাফিয়া এমপিকে আর বিরক্ত হতে হবে না। কারণ রোটন ভাই আর তার নির্বাচনী এলাকায় আর কখনোই যাবেন না। তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।
Naem Nizam’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















