, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায়

  • প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
  • ১ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দুপুরে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাবেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তার পর ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবে।

পুলিশের বজ্রআঁটুনির মধ্যেই ফের দিল্লির রাজপথে নামতে চলেছে বিরোধী শিবির। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা স্থির রয়েছে, তা হল, দুপুরে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাবেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তার পর ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবে।

রবিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন রাহুল গাঁধী। ওই পোস্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, সোমবারের মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। রাহুলের কথায়, “দল, লিঙ্গ, জাত, সম্প্রদায়, রাজ্যের ভেদাভেদ সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাঁটব। যুব সম্প্রদায়, সব বিরোধী দল, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, যারা গণতন্ত্র এবং ভারতের সংবিধানের উপর বিশ্বাস রাখে, তারা আমাদের সঙ্গে হাঁটবে।”
রাহুল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করে গিয়ে তাঁরা দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। সেখানে তিনটি দাবির কথা জানানো হবে। এক, ‘ভোটচুরি’ বন্ধ করা। দুই, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং তিন, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ।

রবিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। ‘ইন্ডিয়া’-র তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেবেন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, সোমবার সেই একই দল থাকবে। অর্থাৎ, রাহুল ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির এই প্রতিনিধিদলে থাকার কথা।

অন্য দিকে, রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-ও। তবে তারা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেনি। সোমবার রাহুলদের কর্মসূচিতে সিজেপি-ও শামিল হবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র তরফে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “আরশোলারা (ককরোচ) যারা দিল্লিতে আছ, তারা থেকে যাও। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে লেখা হয়েছে, “যে আরশোলারা দিল্লির বাইরে আছ, তারা নিশ্চয়ই জানো যে, ট্রেন আবার চলছে।” প্রসঙ্গত, শনিবার সিজেপি-র কর্মসূচির মোকাবিলায় দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল হয়েছিল। রবিবার অবশ্য অধিকাংশ ট্রেনই ফের চালানো হচ্ছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি, বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শনিবারের পর রবিবারও দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিল্লিতে। চলে ধরপাকড়ও।

শনিবার দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়, মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং মেট্রো ও রেল চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ধরপাকড় করা হয় প্রতিবাদীদের। যা নিয়ে রবিবার মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কাউকে আটক করা যাবে না। তবে প্রতিবাদীদেরও পুলিশি নিয়ম মেনেই প্রতিবাদ করতে হবে।

রবিবার বিশেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালত মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ব্যারিকেড বসানোর প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আইন মেনে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বলে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলে, শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইননির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। বিশেষত, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা যেখানে কার্যকর নয়, সেই এলাকায় এমন জমায়েতের কারণে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ‘ঐক্যবদ্ধ’ বিরোধীদের নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা— এই আবহে সোমবার দিল্লি পুলিশ আরও একবার পরীক্ষায় নামতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায়

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দুপুরে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাবেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তার পর ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবে।

পুলিশের বজ্রআঁটুনির মধ্যেই ফের দিল্লির রাজপথে নামতে চলেছে বিরোধী শিবির। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা স্থির রয়েছে, তা হল, দুপুরে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাবেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তার পর ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবে।

রবিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন রাহুল গাঁধী। ওই পোস্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, সোমবারের মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। রাহুলের কথায়, “দল, লিঙ্গ, জাত, সম্প্রদায়, রাজ্যের ভেদাভেদ সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাঁটব। যুব সম্প্রদায়, সব বিরোধী দল, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, যারা গণতন্ত্র এবং ভারতের সংবিধানের উপর বিশ্বাস রাখে, তারা আমাদের সঙ্গে হাঁটবে।”
রাহুল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করে গিয়ে তাঁরা দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। সেখানে তিনটি দাবির কথা জানানো হবে। এক, ‘ভোটচুরি’ বন্ধ করা। দুই, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং তিন, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ।

রবিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। ‘ইন্ডিয়া’-র তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেবেন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, সোমবার সেই একই দল থাকবে। অর্থাৎ, রাহুল ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির এই প্রতিনিধিদলে থাকার কথা।

অন্য দিকে, রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-ও। তবে তারা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেনি। সোমবার রাহুলদের কর্মসূচিতে সিজেপি-ও শামিল হবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র তরফে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “আরশোলারা (ককরোচ) যারা দিল্লিতে আছ, তারা থেকে যাও। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে লেখা হয়েছে, “যে আরশোলারা দিল্লির বাইরে আছ, তারা নিশ্চয়ই জানো যে, ট্রেন আবার চলছে।” প্রসঙ্গত, শনিবার সিজেপি-র কর্মসূচির মোকাবিলায় দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল হয়েছিল। রবিবার অবশ্য অধিকাংশ ট্রেনই ফের চালানো হচ্ছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি, বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শনিবারের পর রবিবারও দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিল্লিতে। চলে ধরপাকড়ও।

শনিবার দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়, মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং মেট্রো ও রেল চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ধরপাকড় করা হয় প্রতিবাদীদের। যা নিয়ে রবিবার মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কাউকে আটক করা যাবে না। তবে প্রতিবাদীদেরও পুলিশি নিয়ম মেনেই প্রতিবাদ করতে হবে।

রবিবার বিশেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালত মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ব্যারিকেড বসানোর প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আইন মেনে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বলে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলে, শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইননির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। বিশেষত, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা যেখানে কার্যকর নয়, সেই এলাকায় এমন জমায়েতের কারণে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ‘ঐক্যবদ্ধ’ বিরোধীদের নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা— এই আবহে সোমবার দিল্লি পুলিশ আরও একবার পরীক্ষায় নামতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক