
অনলাইন রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
জিয়ার আমলে জন্মেছি।এরশাদের সময়ে শিশু থেকে কিশোরী হয়েছি।খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে স্কুল পেরিয়ে কলেজে গিয়েছি।আওয়ামী লীগের প্রথম ক্ষমতায় আসার সময় ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি।খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় টেনিউরে জবে ঢুকেছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে সেনসিটিভ ব্যাংকের শাখার ক্রেডিটে কাজ করেছি।
আমি ঢাকা শহরে বর্ন এন্ড ব্রটাপ। আমার বাবা শিল্প মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি,মা বাংলাদেশ ব্যাংকের ম্যানেজার।আমরা উচ্চ মধ্যবিত্ত।কারও শাসন আমলেই আমার আসলে কি যায় আসে! ফেনীর বাসিন্দারা তো বটেই নোয়াখালী নিয়ে যাদের সামান্য চেনাজানা আছে আমার মায়ের গুষ্টিকে সবাই একনামে চেনে।মায়ের মৃত্যুর দশ বছর পরেও দু চার কথার পরেই বলবে ও তুমি কোহিনূরের মেয়ে! আমার বাপের বাড়ি কুমিল্লার নাম বললে দুই চার কথার পরেই বলবে ও তুমি আজিম সাহেবের মেয়ে!
আমার মন চেয়েছে সারা এলাকা সাইকেল চালিয়েছি।আমার মন চেয়েছে আমি কনসার্টে গিয়েছি।আমার ভালো লাগে স্প্যানিশ গিটার বাজাতে,আমি বাজিয়েছি।আমার ইচ্ছা হয়েছে বগালেক যাবো,গিয়েছি।
কারও শাসন আমলেই আমাদের শ্রেণীভুক্ত মানুষদের সত্যিকারার্থে কিচ্ছু যায় আসে না।
এখন বাংলাদেশে এই যে মাহা মির্জা টাইপ যেসব নারীরা আছে তাদেরও দেশের যেই অবস্থাই হোক কিছু যায় আসে না।দুই একটা ইস্যুতে মাহা টাইপ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে শুদ্ধ বাংলা বলা প্রপার ফেইস কাটিং এর কয়েকজন তথাকথিত নারীবাদী সামাজিক কোন বিষয়কে উপলক্ষ করে বক্তৃতা দিলে আমাদের মিডিয়াগুলো এগুলো তুলে ধরবে। বোরখা হিজাব নিকাবে মাহা মির্জা বা আমার আদতে কোন টানাপোড়েন কি তৈরী হয়?হয় না।
কিন্তু আমরা আমাদের ব্যবসা জারি রাখার জন্য বলব,দেখো হিজাব পরেও সে অমুক জিনিস অর্জন করেছে,মাদ্রাসায় পড়েও বিসিএসে গিয়েছে।
এখানে আমরা উচ্চ মধ্যবিত্তরা বোরখা হিজাব নিকাবকে নরমালাইজ করে দিচ্ছি,যেন আমাদের যে দোকান জেন্ডার,ইকুয়ালিটি,ইকুইটি এসব চালু থাকে।এদিকে বোরখা হিজাব নিকাব আবায়া খিমার এগুলোকে স্বাভাবিকীকরণ করতে করতে আমরা যে যারা এই পোশাক ফলো করছে না তাদের যে অপরায়ন করছি,তাদেরকে যে প্রতিনিয়ত নিগ্রহের শিকার হওয়ার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি ভরা ময়দানে সেটা আর এড্রেস করছি না।
মাহারা যখন বোরখা নিকাব হিজাব খিমার আবায়ার পক্ষে জনমত তৈরী করেন,একই সাথে কিন্তু যে জনগোষ্ঠী বা যে নারী এ পোশাক ফলো করছে না তাদের যেন শেমিং করা না হয় সেই পাবলিক পারসেপশন গঠনে বাক্য ব্যয় করছেন না।
মাহারা অনেক অনেক লম্বা আলাপ দেয়,আদারিং বা অপরায়ন করার-এই আদারিং যে তাদেরই শুরু করা তাদের জেন্ডার,ইকুইটি,ইকুয়ালিটি ইত্যাদি ঘিরে যে এনজিও বাণিজ্য তা চলমান রাখতে এ নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই।
মাহা বা আমি আমরা জিন্স পরব,টপ্স পরব,মদ খাবো,সিগারেট টানব,স্লিভলেস পরব,বড় টিপ দিব- সবই চালিয়ে যাবো।
আমাদের এই মদ খাওয়া,বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ দেশ,রাষ্ট্র,সরকার,সমাজ,পরিবার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন কিছু নিয়েই আমাদের কোনদিন কোন মাথাব্যথার উদ্রেক হওয়ার কোন কারণ বাংলাদেশে তো বটেই গ্যালাক্সিতেও নেই।
(মাহার ভিডিওর লিংক কমেন্ট বক্সে দেয়া থাকবে)
Afsana Kishwar Lochan’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















