, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

রাশিয়ার অর্থায়নে একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৭২ পড়া হয়েছে

 অনলাইন সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
রাশিয়ার অর্থায়নে একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানিয়েছে বাংলাদেশ। এখন সেই ঋণের কিস্তি বাংলাদেশ পরিশোধ করতে পারছে না। কারণ রাশিয়ার ব্যাংকে টাকা পাঠানোই যাচ্ছে না। এবার রাশিয়া তাই বলছে, ভারতের টাকায় মানে রুপিতে লেনদেন করি।
কিন্তু বাংলাদেশ চাইলেই কি তা করতে পারবে? বাংলাদেশ সেটাও করতে পারছে না। কেন পারছে না? কারণটা লুকিয়ে আছে আমেরিকার সাথে করা একটা চুক্তিতে।
প্রথমে আসল গল্পটা বুঝে নেওয়া যাক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। খরচ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এই টাকার ৯০ শতাংশই দিয়েছে রাশিয়া ঋণ হিসেবে। সমস্যাটা শুরু হলো ইউক্রেন যুদ্ধের পর। আমেরিকা আর ইউরোপ রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা দিল। এখন বাংলাদেশ চাইলেও ঋণের কিস্তি রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না। টাকা জমা হচ্ছে সোনালী ব্যাংকে একটা অ্যাকাউন্টে, কিন্তু সেখান থেকে টাকা রাশিয়ায় যাচ্ছে না।
আগে একবার চেষ্টা হয়েছিল চীনের মুদ্রা ইউয়ানে টাকা পাঠানোর; কাজ হয়নি। ব্যাংকগুলো ভয় পেয়েছিল আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার। এবার রাশিয়া নতুন বুদ্ধি বের করেছে ভারতের রুপি। কেন রুপি? কারণ ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে আগে থেকেই রুপিতে ব্যবসার একটা রাস্তা খোলা আছে সেই ২০২৩ সাল থেকে। রাশিয়া ভাবছে, নতুন কিছু বানাতে হবে না, এই রাস্তাটাই ব্যবহার করা যাক। কিন্তু এখানেও ঝামেলা রয়েছে।
এই বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, বাংলাদেশ ওয়াশিংটনে আমেরিকার সাথে একটা বড় বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে। এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (Agreement on Reciprocal Trade) বা ART।
সেই চুক্তির ভেতরেই লুকানো আছে একটা শর্ত। সেটা হলো, আমেরিকা যদি কোনো দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও সেই দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাগজে-কলমে বলা আছে আগে দুই পক্ষ বসে আলোচনা করবে, কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের হাতে বলার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। অর্থাৎ, আমেরিকা যাকে নিষিদ্ধ করবে, বাংলাদেশকেও কার্যত তাকে এড়িয়ে চলতে হবে।
আর এখানে আরও বড় একটা ধাক্কা রয়েছে। কারণ একই চুক্তিতে লেখা আছে, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আমেরিকার শত্রু তালিকায় থাকা কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি কিংবা জ্বালানি কিনতে পারবে না। সহজ কথায়, রাশিয়া বা চীনের সাথে রূপপুরের মতো দ্বিতীয় কোনো প্রকল্প এই চুক্তি থাকতে বাংলাদেশে আর হবে না।
এমনকি বাংলাদেশ যদি চীন বা রাশিয়ার সাথে নতুন কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি করে, আমেরিকা পুরো এই চুক্তিটাই বাতিল করে দিতে পারবে। আবার আগের মতো ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশি পণ্যের উপর।
অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন বাণিজ্যকে অস্ত্র বানিয়ে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া একটা গোলামী চুক্তি।

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

রাশিয়ার অর্থায়নে একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

 অনলাইন সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
রাশিয়ার অর্থায়নে একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানিয়েছে বাংলাদেশ। এখন সেই ঋণের কিস্তি বাংলাদেশ পরিশোধ করতে পারছে না। কারণ রাশিয়ার ব্যাংকে টাকা পাঠানোই যাচ্ছে না। এবার রাশিয়া তাই বলছে, ভারতের টাকায় মানে রুপিতে লেনদেন করি।
কিন্তু বাংলাদেশ চাইলেই কি তা করতে পারবে? বাংলাদেশ সেটাও করতে পারছে না। কেন পারছে না? কারণটা লুকিয়ে আছে আমেরিকার সাথে করা একটা চুক্তিতে।
প্রথমে আসল গল্পটা বুঝে নেওয়া যাক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। খরচ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এই টাকার ৯০ শতাংশই দিয়েছে রাশিয়া ঋণ হিসেবে। সমস্যাটা শুরু হলো ইউক্রেন যুদ্ধের পর। আমেরিকা আর ইউরোপ রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা দিল। এখন বাংলাদেশ চাইলেও ঋণের কিস্তি রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না। টাকা জমা হচ্ছে সোনালী ব্যাংকে একটা অ্যাকাউন্টে, কিন্তু সেখান থেকে টাকা রাশিয়ায় যাচ্ছে না।
আগে একবার চেষ্টা হয়েছিল চীনের মুদ্রা ইউয়ানে টাকা পাঠানোর; কাজ হয়নি। ব্যাংকগুলো ভয় পেয়েছিল আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার। এবার রাশিয়া নতুন বুদ্ধি বের করেছে ভারতের রুপি। কেন রুপি? কারণ ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে আগে থেকেই রুপিতে ব্যবসার একটা রাস্তা খোলা আছে সেই ২০২৩ সাল থেকে। রাশিয়া ভাবছে, নতুন কিছু বানাতে হবে না, এই রাস্তাটাই ব্যবহার করা যাক। কিন্তু এখানেও ঝামেলা রয়েছে।
এই বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, বাংলাদেশ ওয়াশিংটনে আমেরিকার সাথে একটা বড় বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে। এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (Agreement on Reciprocal Trade) বা ART।
সেই চুক্তির ভেতরেই লুকানো আছে একটা শর্ত। সেটা হলো, আমেরিকা যদি কোনো দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও সেই দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাগজে-কলমে বলা আছে আগে দুই পক্ষ বসে আলোচনা করবে, কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের হাতে বলার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। অর্থাৎ, আমেরিকা যাকে নিষিদ্ধ করবে, বাংলাদেশকেও কার্যত তাকে এড়িয়ে চলতে হবে।
আর এখানে আরও বড় একটা ধাক্কা রয়েছে। কারণ একই চুক্তিতে লেখা আছে, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আমেরিকার শত্রু তালিকায় থাকা কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি কিংবা জ্বালানি কিনতে পারবে না। সহজ কথায়, রাশিয়া বা চীনের সাথে রূপপুরের মতো দ্বিতীয় কোনো প্রকল্প এই চুক্তি থাকতে বাংলাদেশে আর হবে না।
এমনকি বাংলাদেশ যদি চীন বা রাশিয়ার সাথে নতুন কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি করে, আমেরিকা পুরো এই চুক্তিটাই বাতিল করে দিতে পারবে। আবার আগের মতো ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশি পণ্যের উপর।
অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন বাণিজ্যকে অস্ত্র বানিয়ে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া একটা গোলামী চুক্তি।

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।