, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনারেল ওয়াকার ভাবছিলেন জনগণ তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে

  • প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
  • ০ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

👉:- ভারত ও পাকিস্তান দুইটা দেশ ১৯৪৭ সালে স্বাধিনতা পাইছে। ভারত স্বাধিন হওয়ার পর এ পর্যন্ত কখনই সেখানে সেনা ক্যু হয় নাই, সেনাবাহিনী ভারত শাসন করার খায়েশ দেখায় নাই। এই দীর্ঘ পথ চলায় ভারতের অবস্থা যে খুবই মসৃণ ছিলো তাও না।
👇:- সেভেন সিস্টার্স নিয়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলমান ছিলো, চায়নার সাথে দুইটা যুদ্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিম্বঙ্গে নকশাল বিদ্রোহে প্রায় লাখ তিনেক যুবক নিহত হইছে, স্বর্ণ মন্দিরে শিখ বিদ্রোহের প্রভাব এখনও চলমান, দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মাহাত্মা গান্ধী নাথুরাম গুদজের হাতে খুন হইছে দেশ স্বাধিনের এক বছরের মাথায়।
👉:- প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী খুন হইছেন শিখ বিদ্রোহ দমন করার অপরাধে দুইজন শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে।
ছেলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ভোটের ক্যাম্পেইন চালাতে গিয়ে বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হইছে শ্রীলঙ্কায় চলমান জাতীগত বিভেদ নিরসনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী পাঠায়ে। তিনি তামিল টাইগারদের তোপের মুখে পরেন।
কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও ঘুষ কেলেংকারী’তে ফাঁস হওয়া তেহেলিকা ডট কমের রিপোর্টের কারণে ক্ষমতাচ্যুত হইছেন।
দেশটি কয়েকবার পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়াইছেন। প্রায় দেড়শো কোটি মানুষের মন রক্ষা করে সেই দেশে গণতন্ত্র এখনও টিকে আছে। যেখানে প্রায় পঁচিশ কোটি মুসলমানের বাস এবং তারাও কমবেশি সুখি।
এইবার পাকিস্তানের দিকে একবার তাকাই, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান লাহোরের জনসভায় আতাতায়ীর গুলিতে নিহত হন।
প্রধানমন্ত্রী হন, মীর জাফরের বংশধর থেকে আগত সাহেবজাদা ইসকান্দার মীর্জা, তিনি সেনাবাহিনীর লোক ছিলেন। মেজর জেনারেল বা লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তাকেও এক সময় সরে যেতে হয়, ক্ষমতা কেড়ে নেন আইয়ুব খান।
ইসকান্দার মীর্জা অস্ট্রিয়ায় নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মারা যান, তার লাশ পাকিস্তান সরকার গ্রহণ করে নাই পরে বৈবাহিক সূত্রে পারস্যে মাটি দেওয়া হয়। তার বংশধর এখন ক্যানাডায় বসবাস করে।
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান একটানা প্রায় পনেরো বছর ক্ষমতায় ছিলেন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, ক্ষমতা গ্রহণ করে জেনারেল ইয়াহিয়া খান। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসেই নির্বাচন দেন, কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ক্র‍্যাক ডাউনে নেমে পরেন।
ভারতের সেভেন সিস্টার্স দীর্ঘদিন স্বাধিনতার জন্যে লড়ছে, কিন্তু তারা এখনও ভারতের অংশ। এর কারণ সেখানে যুদ্ধটা ছিলো দলীয় পর্যায়ে, আর বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সর্বস্তরের মানুষকে শত্রু মনে করে কিলিং শুরু করে। ফলে গেরিলা যুদ্ধের সম্মুখীন হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধিন হয়ে যায়।
বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো’কে জেনারেল জিয়াউল হক ৭৫ এ ক্ষমতাচ্যুত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। জেনারেল জিয়াউল হক ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি মারা যান নেপাল থেকে পাকিস্তান গামী বিমানে বোমা হামলায়।
এরপর নওয়াজ শরিফ ও বেইনোজির ভুট্টো পালাক্রমে কিছু দিন ক্ষমতায় থাকে। বেইনোজির ভুট্টো’কে গুলি করে হত্যা করে তারই দেশের মানুষ। নওয়াজ শরিফের কাছ থেকে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে দেশ ছাড়া করেন। নওয়াজ শরিফ সম্ভবতঃ এখন বিদেশে নির্বাসনে।
জেনারেল পারভেজ মোশাররফ’কে ক্ষমতাচ্যুত করে আসিফ আলী জারদারি কিছু দিন ক্ষমতায় ছিলো, এরপর ইমরান খানের নতুন রাজনৈতিক দল তেহেরেকি ইনসাফ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে জেনারেল আসিফ মুনির।
আসিফ মুনির তাকে সরিয়ে তার দলকে ক্ষমতার বাইরে রেখে, তাকে জেলে ঢুকিয়ে নির্বাচন দেন, ক্ষমতায় আসে শাহবাজ শরিফ, নওয়াজ শরিফের ভাই, এবং রাষ্ট্রপতি সম্ভবতঃ আসিফ আলী জারদারি পিপিপি থেকে। মানে মুসলিম লীগ, পিপিপি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি।
এইবার আসি বাংলাদেশের দিকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে স্বাধিন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিজ দেশের স্থপতি’কে নিজেরাই স্বপরিবারে, আত্মীয়স্বজনসহ খুন করে। ক্ষমতার রক্তক্ষয়ী পালা বদলে তা বিভিন্ন হাত ঘুরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাতে চলে যায়।
তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তিনি ২২ বার সেনা ক্যু এর সম্মুখীন হন, এবং কয়েক হাজার অফিসার’কে ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারেন। তিনিও ২৩ তম সেনাবিদ্রোহে নিহত হন।
সাময়িক ক্ষমতা ভার গ্রহণ করা বিচারপতি ছাত্তার’কে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল এরশাদ। জেনারেল এরশাদ ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল আতিকুর রহমান বা জেনারেল নুর উদ্দিন। দুইজন জেনারেল খুব কাছাকাছি সময়ে ছিলো। জেনারেল আতিকুরের মেয়েই মূলত তারেক জিয়ার প্রথম বউ। তিনি ডাক্তার ছিলেন, গত হয়েছেন।
জেনারেল এরশাদের বিদায়ের পর গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আসার একটা সম্ভাবনা ছিলো। বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও মাগুরার উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে বিরোধী দলগুলোর আস্থা হারান। ১৯৯৬ সালে চলমান আন্দোলনে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল নাসিম।
২০০৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চরম মাত্রায় পৌঁছায়, সে সময় বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তাদেরই ঘরের ছেলে মইন ইউ আহমেদ। ২০২৪ সালের আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তার বোনের জামাই জেনারেল ওয়াকার।
জেনারেল ওয়াকার ভাবছিলেন জনগণ তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। আসলে রাজনৈতিক সমীকরণ এতো সহজ না, তিনি যতোটা ভাবছিলেন। হটাৎ করে আত্মীয় কোটায় জেনারেল হইলে যা হয় আর কি? স্বপ্নদোষে পরিণত হইছে তার স্বপ্ন।
এই হইতেছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ ও গান্ডু মার্কা লোভী জেনারেলদের কার্যকলাপ। এই দুই দেশ মানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেনারেলই দুষ্টুচক্রের সাথে জড়িত, অবৈধ সম্পদের মালিক এবং তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না, কারণ তাদের বন্দুকের নল আছে।

MD Baizid Sarkar’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

জেনারেল ওয়াকার ভাবছিলেন জনগণ তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

👉:- ভারত ও পাকিস্তান দুইটা দেশ ১৯৪৭ সালে স্বাধিনতা পাইছে। ভারত স্বাধিন হওয়ার পর এ পর্যন্ত কখনই সেখানে সেনা ক্যু হয় নাই, সেনাবাহিনী ভারত শাসন করার খায়েশ দেখায় নাই। এই দীর্ঘ পথ চলায় ভারতের অবস্থা যে খুবই মসৃণ ছিলো তাও না।
👇:- সেভেন সিস্টার্স নিয়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলমান ছিলো, চায়নার সাথে দুইটা যুদ্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিম্বঙ্গে নকশাল বিদ্রোহে প্রায় লাখ তিনেক যুবক নিহত হইছে, স্বর্ণ মন্দিরে শিখ বিদ্রোহের প্রভাব এখনও চলমান, দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মাহাত্মা গান্ধী নাথুরাম গুদজের হাতে খুন হইছে দেশ স্বাধিনের এক বছরের মাথায়।
👉:- প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী খুন হইছেন শিখ বিদ্রোহ দমন করার অপরাধে দুইজন শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে।
ছেলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ভোটের ক্যাম্পেইন চালাতে গিয়ে বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হইছে শ্রীলঙ্কায় চলমান জাতীগত বিভেদ নিরসনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী পাঠায়ে। তিনি তামিল টাইগারদের তোপের মুখে পরেন।
কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও ঘুষ কেলেংকারী’তে ফাঁস হওয়া তেহেলিকা ডট কমের রিপোর্টের কারণে ক্ষমতাচ্যুত হইছেন।
দেশটি কয়েকবার পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়াইছেন। প্রায় দেড়শো কোটি মানুষের মন রক্ষা করে সেই দেশে গণতন্ত্র এখনও টিকে আছে। যেখানে প্রায় পঁচিশ কোটি মুসলমানের বাস এবং তারাও কমবেশি সুখি।
এইবার পাকিস্তানের দিকে একবার তাকাই, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান লাহোরের জনসভায় আতাতায়ীর গুলিতে নিহত হন।
প্রধানমন্ত্রী হন, মীর জাফরের বংশধর থেকে আগত সাহেবজাদা ইসকান্দার মীর্জা, তিনি সেনাবাহিনীর লোক ছিলেন। মেজর জেনারেল বা লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তাকেও এক সময় সরে যেতে হয়, ক্ষমতা কেড়ে নেন আইয়ুব খান।
ইসকান্দার মীর্জা অস্ট্রিয়ায় নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মারা যান, তার লাশ পাকিস্তান সরকার গ্রহণ করে নাই পরে বৈবাহিক সূত্রে পারস্যে মাটি দেওয়া হয়। তার বংশধর এখন ক্যানাডায় বসবাস করে।
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান একটানা প্রায় পনেরো বছর ক্ষমতায় ছিলেন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, ক্ষমতা গ্রহণ করে জেনারেল ইয়াহিয়া খান। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসেই নির্বাচন দেন, কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ক্র‍্যাক ডাউনে নেমে পরেন।
ভারতের সেভেন সিস্টার্স দীর্ঘদিন স্বাধিনতার জন্যে লড়ছে, কিন্তু তারা এখনও ভারতের অংশ। এর কারণ সেখানে যুদ্ধটা ছিলো দলীয় পর্যায়ে, আর বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সর্বস্তরের মানুষকে শত্রু মনে করে কিলিং শুরু করে। ফলে গেরিলা যুদ্ধের সম্মুখীন হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধিন হয়ে যায়।
বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো’কে জেনারেল জিয়াউল হক ৭৫ এ ক্ষমতাচ্যুত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। জেনারেল জিয়াউল হক ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি মারা যান নেপাল থেকে পাকিস্তান গামী বিমানে বোমা হামলায়।
এরপর নওয়াজ শরিফ ও বেইনোজির ভুট্টো পালাক্রমে কিছু দিন ক্ষমতায় থাকে। বেইনোজির ভুট্টো’কে গুলি করে হত্যা করে তারই দেশের মানুষ। নওয়াজ শরিফের কাছ থেকে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে দেশ ছাড়া করেন। নওয়াজ শরিফ সম্ভবতঃ এখন বিদেশে নির্বাসনে।
জেনারেল পারভেজ মোশাররফ’কে ক্ষমতাচ্যুত করে আসিফ আলী জারদারি কিছু দিন ক্ষমতায় ছিলো, এরপর ইমরান খানের নতুন রাজনৈতিক দল তেহেরেকি ইনসাফ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে জেনারেল আসিফ মুনির।
আসিফ মুনির তাকে সরিয়ে তার দলকে ক্ষমতার বাইরে রেখে, তাকে জেলে ঢুকিয়ে নির্বাচন দেন, ক্ষমতায় আসে শাহবাজ শরিফ, নওয়াজ শরিফের ভাই, এবং রাষ্ট্রপতি সম্ভবতঃ আসিফ আলী জারদারি পিপিপি থেকে। মানে মুসলিম লীগ, পিপিপি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি।
এইবার আসি বাংলাদেশের দিকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে স্বাধিন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিজ দেশের স্থপতি’কে নিজেরাই স্বপরিবারে, আত্মীয়স্বজনসহ খুন করে। ক্ষমতার রক্তক্ষয়ী পালা বদলে তা বিভিন্ন হাত ঘুরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাতে চলে যায়।
তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তিনি ২২ বার সেনা ক্যু এর সম্মুখীন হন, এবং কয়েক হাজার অফিসার’কে ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারেন। তিনিও ২৩ তম সেনাবিদ্রোহে নিহত হন।
সাময়িক ক্ষমতা ভার গ্রহণ করা বিচারপতি ছাত্তার’কে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল এরশাদ। জেনারেল এরশাদ ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল আতিকুর রহমান বা জেনারেল নুর উদ্দিন। দুইজন জেনারেল খুব কাছাকাছি সময়ে ছিলো। জেনারেল আতিকুরের মেয়েই মূলত তারেক জিয়ার প্রথম বউ। তিনি ডাক্তার ছিলেন, গত হয়েছেন।
জেনারেল এরশাদের বিদায়ের পর গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আসার একটা সম্ভাবনা ছিলো। বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও মাগুরার উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে বিরোধী দলগুলোর আস্থা হারান। ১৯৯৬ সালে চলমান আন্দোলনে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল নাসিম।
২০০৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চরম মাত্রায় পৌঁছায়, সে সময় বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তাদেরই ঘরের ছেলে মইন ইউ আহমেদ। ২০২৪ সালের আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তার বোনের জামাই জেনারেল ওয়াকার।
জেনারেল ওয়াকার ভাবছিলেন জনগণ তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। আসলে রাজনৈতিক সমীকরণ এতো সহজ না, তিনি যতোটা ভাবছিলেন। হটাৎ করে আত্মীয় কোটায় জেনারেল হইলে যা হয় আর কি? স্বপ্নদোষে পরিণত হইছে তার স্বপ্ন।
এই হইতেছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ ও গান্ডু মার্কা লোভী জেনারেলদের কার্যকলাপ। এই দুই দেশ মানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেনারেলই দুষ্টুচক্রের সাথে জড়িত, অবৈধ সম্পদের মালিক এবং তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না, কারণ তাদের বন্দুকের নল আছে।

MD Baizid Sarkar’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।