, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্টেই

  • প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
  • ০ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের সড়কদ্বীপে অবস্থিত স্বাধীনতা সংগ্রামের ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্টেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘরও ভাঙচুর করা হয় একই দিনে। সেই জাদুঘর ও ভাস্কর্যগুলো মেরামত করা হয়নি। যতদূর জানি, এখনো সেগুলো ওই অবস্থাতেই পড়ে আছে।
কিন্তু ঢাকার রাস্তার দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ অন্যান্য গুণী ব্যক্তিদের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। এই গ্রাফিতিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই আঁকা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে সেগুলোতে কালি দেওয়া যায়।
অবাক লাগল?
উক্ত কালি দেওয়ার ঘটনার পর জামায়াতি আইডিগুলোর অ্যাক্টিভিটিতে চোখ বুলালেই এই রাজনীতিটা ধরা বেশ সহজ, যদি ঘিলু বলে কিছু থেকে থাকে। তারা ন্যারেটিভ সেট করতে চাইছে যে, ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করা যদি অন্যায় না হয়, তবে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়াও অন্যায় নয়। কালি দিতে পাঠানো নারীকে দিয়ে বলাতে চেয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি বাংলাদেশ চাননি।
আচ্ছা, যারা কালি দিতে গেছে, তারা সত্যজিৎ রায় কিংবা অন্য কারও মুখে কালি দিল না কেন? কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই তাদের লক্ষ্য হলেন?
কারণ, তারা জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চাইছে আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতার ছবিতে কালি দিয়ে। তারা বলতে চায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ভারত নাকি এই গান আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
অথচ ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ মানে না, তারা কী করে জানবে আমাদের জাতীয় সংগীত কীভাবে নির্বাচিত হয়েছে!
অনেক জ্ঞানী ভাব নিয়ে যারা বলতে চায়, জাতীয় সংগীত ও বাহাত্তরের সংবিধান ভারতের চাপিয়ে দেওয়া, তারা তো মুক্তিযুদ্ধকেই ভারতের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু মনে করে না। তাদের বানানো ইতিহাস তো এমন মিথ্যায় ভরপুর হবেই।
ফিরে আসি মূল প্রসঙ্গে। ঢাকার রাস্তায় এই গ্রাফিতিগুলো আঁকাই হয়েছে এমন ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে। আর জামায়াত এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যবহার করেছে তাদের ভিন্ন নামের দোকানের ব্যানারে।
জামায়াতের রাজনীতি এটাই। তারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর বিরোধিতা করার জন্য বিভিন্ন নামে অনেকগুলো দোকান খুলে রেখেছে। আর সেসব দোকানের খদ্দের ও মালিকেরা মুখে নিজেদের ‘আমি জামায়াত নই’ বলে দাবি করলেও কার্যত জামায়াতের উদ্দেশ্যই পূরণ করে যাচ্ছে।

Aminul Hoque Polash’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্টেই

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের সড়কদ্বীপে অবস্থিত স্বাধীনতা সংগ্রামের ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্টেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘরও ভাঙচুর করা হয় একই দিনে। সেই জাদুঘর ও ভাস্কর্যগুলো মেরামত করা হয়নি। যতদূর জানি, এখনো সেগুলো ওই অবস্থাতেই পড়ে আছে।
কিন্তু ঢাকার রাস্তার দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ অন্যান্য গুণী ব্যক্তিদের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। এই গ্রাফিতিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই আঁকা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে সেগুলোতে কালি দেওয়া যায়।
অবাক লাগল?
উক্ত কালি দেওয়ার ঘটনার পর জামায়াতি আইডিগুলোর অ্যাক্টিভিটিতে চোখ বুলালেই এই রাজনীতিটা ধরা বেশ সহজ, যদি ঘিলু বলে কিছু থেকে থাকে। তারা ন্যারেটিভ সেট করতে চাইছে যে, ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করা যদি অন্যায় না হয়, তবে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়াও অন্যায় নয়। কালি দিতে পাঠানো নারীকে দিয়ে বলাতে চেয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি বাংলাদেশ চাননি।
আচ্ছা, যারা কালি দিতে গেছে, তারা সত্যজিৎ রায় কিংবা অন্য কারও মুখে কালি দিল না কেন? কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই তাদের লক্ষ্য হলেন?
কারণ, তারা জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চাইছে আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতার ছবিতে কালি দিয়ে। তারা বলতে চায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ভারত নাকি এই গান আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
অথচ ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ মানে না, তারা কী করে জানবে আমাদের জাতীয় সংগীত কীভাবে নির্বাচিত হয়েছে!
অনেক জ্ঞানী ভাব নিয়ে যারা বলতে চায়, জাতীয় সংগীত ও বাহাত্তরের সংবিধান ভারতের চাপিয়ে দেওয়া, তারা তো মুক্তিযুদ্ধকেই ভারতের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু মনে করে না। তাদের বানানো ইতিহাস তো এমন মিথ্যায় ভরপুর হবেই।
ফিরে আসি মূল প্রসঙ্গে। ঢাকার রাস্তায় এই গ্রাফিতিগুলো আঁকাই হয়েছে এমন ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে। আর জামায়াত এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যবহার করেছে তাদের ভিন্ন নামের দোকানের ব্যানারে।
জামায়াতের রাজনীতি এটাই। তারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর বিরোধিতা করার জন্য বিভিন্ন নামে অনেকগুলো দোকান খুলে রেখেছে। আর সেসব দোকানের খদ্দের ও মালিকেরা মুখে নিজেদের ‘আমি জামায়াত নই’ বলে দাবি করলেও কার্যত জামায়াতের উদ্দেশ্যই পূরণ করে যাচ্ছে।

Aminul Hoque Polash’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।