, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাই সাবধান অনুমোদনহীন ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’: ফেসবুক পেজে পণ্য কিনে প্রতারিত ক্রেতা!

  • প্রকাশের সময় : ০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১১৫ পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা আশ্বাসে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে। সরকারি সংস্থা বিএসটিআই (BSTI)-এর কোনো অনুমোদন ছাড়াই তারা আচার, চ্যাপা শুটকি ও চিংড়ি বালাচাওয়ের মতো সংবেদনশীল খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছে। শুধু তাই নয়, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা পেজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী ঠিকানাও ব্যবহার করছে না।

 

সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

 

বিএসটিআই অনুমোদনের ভুয়া দাবি ও নিম্নমানের পণ্য ভুক্তভোগী জানান, তিনি ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ নামক পেজটি থেকে চিংড়ি বালাচাও এবং চ্যাপা শুটকি ভর্তা অর্ডার করেন। কেনার আগে পেজটির পক্ষ থেকে পণ্যগুলো বিএসটিআই অনুমোদিত বলে শতভাগ আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, প্যাকেটের কোথাও বিএসটিআই-এর কোনো সিল বা অনুমোদন নম্বর নেই।

 

শুধু জালিয়াতি নয়, খাবারের মান নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান: চিংড়ির বালাচাওটি মুখে দিতেই দেখা যায় সেটি চরম তেতো এবং খাওয়ার অযোগ্য। অন্যদিকে চ্যাপা শুটকি ভর্তাটি ছিল টক এবং এতে শুটকির কোনো স্বাভাবিক ঘ্রাণই ছিল না।”

 

গ্রাহকসেবার নামে টালবাহানা: পণ্য খারাপ হওয়ার বিষয়টি পেজের অ্যাডমিনকে জানানো হলে, তারা পণ্যটি রিটার্ন নেওয়ার বা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০-১২ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ডেলিভারি ম্যান পণ্য ফেরত নিতে আসেনি। পরবর্তীতে পেজটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা কোনো রেসপন্স করলেও প্রোডাক্ট রিটার্ন নেয়ইনি, যা স্পষ্টতই প্রতারণার শামিল।

 

ঠিকানা না থাকায় ভোক্তা অধিকারও অসহায়! ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ক্রেতা পরবর্তীতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চালাকির সাথে তাদের ফেসবুক পেজে কোনো অফিশিয়াল বা স্থায়ী ঠিকানা রাখেনি। ফলে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযুক্ত পেজটির ঠিকানায় কোনো আইনি নোটিশ বা চিঠি পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং নিরুপায় হয়ে অভিযোগটি নথিভুক্ত (নথিভুক্ত করে সাময়িক স্থগিত) করে রাখে।

 

ক্রেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা: অনলাইন কেনাকাটায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ পেজটির এই প্রতারণার ধরণ দেখে সচেতন মহল সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।‌ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ফেসবুক পেজ থেকে খাদ্যপণ্য কেনার আগে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া জরুরি: পেজের ‘About’ সেকশনে কোনো স্থায়ী শোরুম বা অফিসের ঠিকানা আছে কিনা তা যাচাই করা।

 

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর আসল লোগো ও লাইসেন্স নম্বর আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া। পেজের রিভিউ এবং অন্যান্য ক্রেতাদের মন্তব্য দেখে নেওয়া।

 

অসাধু চক্রের এমন প্রতারণা থেকে বাঁচতে ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ সহ এই ধরণের নামসর্বস্ব ও ঠিকানা বিহীন পেজ থেকে সব ধরনের পণ্য ও এই ধরনের পেজকে বয়কট করার জন্য সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

সবাই সাবধান অনুমোদনহীন ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’: ফেসবুক পেজে পণ্য কিনে প্রতারিত ক্রেতা!

প্রকাশের সময় : ০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা আশ্বাসে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে। সরকারি সংস্থা বিএসটিআই (BSTI)-এর কোনো অনুমোদন ছাড়াই তারা আচার, চ্যাপা শুটকি ও চিংড়ি বালাচাওয়ের মতো সংবেদনশীল খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছে। শুধু তাই নয়, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা পেজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী ঠিকানাও ব্যবহার করছে না।

 

সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

 

বিএসটিআই অনুমোদনের ভুয়া দাবি ও নিম্নমানের পণ্য ভুক্তভোগী জানান, তিনি ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ নামক পেজটি থেকে চিংড়ি বালাচাও এবং চ্যাপা শুটকি ভর্তা অর্ডার করেন। কেনার আগে পেজটির পক্ষ থেকে পণ্যগুলো বিএসটিআই অনুমোদিত বলে শতভাগ আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, প্যাকেটের কোথাও বিএসটিআই-এর কোনো সিল বা অনুমোদন নম্বর নেই।

 

শুধু জালিয়াতি নয়, খাবারের মান নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান: চিংড়ির বালাচাওটি মুখে দিতেই দেখা যায় সেটি চরম তেতো এবং খাওয়ার অযোগ্য। অন্যদিকে চ্যাপা শুটকি ভর্তাটি ছিল টক এবং এতে শুটকির কোনো স্বাভাবিক ঘ্রাণই ছিল না।”

 

গ্রাহকসেবার নামে টালবাহানা: পণ্য খারাপ হওয়ার বিষয়টি পেজের অ্যাডমিনকে জানানো হলে, তারা পণ্যটি রিটার্ন নেওয়ার বা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০-১২ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ডেলিভারি ম্যান পণ্য ফেরত নিতে আসেনি। পরবর্তীতে পেজটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা কোনো রেসপন্স করলেও প্রোডাক্ট রিটার্ন নেয়ইনি, যা স্পষ্টতই প্রতারণার শামিল।

 

ঠিকানা না থাকায় ভোক্তা অধিকারও অসহায়! ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ক্রেতা পরবর্তীতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চালাকির সাথে তাদের ফেসবুক পেজে কোনো অফিশিয়াল বা স্থায়ী ঠিকানা রাখেনি। ফলে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযুক্ত পেজটির ঠিকানায় কোনো আইনি নোটিশ বা চিঠি পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং নিরুপায় হয়ে অভিযোগটি নথিভুক্ত (নথিভুক্ত করে সাময়িক স্থগিত) করে রাখে।

 

ক্রেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা: অনলাইন কেনাকাটায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ পেজটির এই প্রতারণার ধরণ দেখে সচেতন মহল সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।‌ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ফেসবুক পেজ থেকে খাদ্যপণ্য কেনার আগে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া জরুরি: পেজের ‘About’ সেকশনে কোনো স্থায়ী শোরুম বা অফিসের ঠিকানা আছে কিনা তা যাচাই করা।

 

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর আসল লোগো ও লাইসেন্স নম্বর আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া। পেজের রিভিউ এবং অন্যান্য ক্রেতাদের মন্তব্য দেখে নেওয়া।

 

অসাধু চক্রের এমন প্রতারণা থেকে বাঁচতে ‘অনলাইন বার্মিজ মার্কেট’ সহ এই ধরণের নামসর্বস্ব ও ঠিকানা বিহীন পেজ থেকে সব ধরনের পণ্য ও এই ধরনের পেজকে বয়কট করার জন্য সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।