
ডাক্তার মশাইকে নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা চলতেছে। আসেন সত্যটা জানি। আমাদের প্রথমেই জানতে হবে যে এই দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণ গুলো কিভাবে আসে।
ধরুন ভারতের কোন এক ডিপার্টমেন্ট মনে করলেন বাংলাদেশ সরকারের কোন এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাবেন। তখন তারা আমন্ত্রণপত্রটি পাঠাবেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে সেই চিঠির এক কপি যাবে বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লিতে। এক কপি আসবে ভারতীয় হাই কমিশন ঢাকাতে। ভারতীয় হাই কমিশন ঢাকা সেই চিঠি পাঠাবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সেই চিঠি পৌঁছে দেবেন বাংলাদেশের উক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির দপ্তরে। মানে এখানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের দপ্তরে। সেখান থেকে যাবে জাহেদ সাহেবের হাতে। এরমধ্যে এক কপি যে বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লিতে দেওয়া হয়েছিলো সেই চিঠিও আসবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অফিসে।
এবার জাহেদ সাহেব যদি ভারতে যেতে চান। তাহলে তিনি তার দপ্তরের মাধ্যমে, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে, ভারতীয় হাইকমিশনকে জানাবেন। ভারতীয় হাইকমিশন সেটা আবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে কনফার্ম করবেন যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যেতে সম্মত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবার হয় সরাসরি নিজে যাবেন বা তার হয়ে তার দপ্তরের কেউ একজন পাসপোর্ট আর চিঠি নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকায় যাবেন এবং ভিসার আবেদন করবেন। এরপর তারা ভিসা দেবে। আমন্ত্রণ ডিপার্টমেন্ট এবং ভিসা ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন দুটি ডিপার্টমেন্ট। এমন নয় যে আপনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন মানে ভিসাও পাবেন। তবে এরকম হাই প্রোফাইল ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ পেলে ভিসা পেতে সমস্যা হয় না। ভিসা হলে নির্দিষ্ট দিনে তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ জানানো দেশ নিজেরাই প্লেনের টিকিট দিয়ে দেয়। কখনো আবার বাংলাদেশ সরকার নিজের টিকিটে পাঠায়। এটা নির্ভর করে আমন্ত্রনের ধরনের উপরে।
এবার তিনি কবে যাবেন, যে তথ্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লিতে ইতিমধ্যেই চলে গেছে। দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এই সফরকে সমন্বয় করবেন। তিনি কখন যাবেন, কোন রুটে যাবেন, কে তাকে রসিভ করবেন, তিনি কিভাবে কিসে চড়ে ভ্যেনুতে যাবেন, সেখানে ভারতের কেউ তাকে স্বাগত জানাতে আসবেন কিনা, এগুলো সমন্বয় করবে বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লির নিয়োজিত কোন ব্যক্তি। এটা বাংলাদেশ অংশের কাজ। একই সাথে দিল্লি এয়ারপোর্টে নির্ঝঞ্ঝাট ইমিগ্রেশন যেনো হয় এই জন্য আগে থেকেই এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে রাখবেন অথবা ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করবেন এয়ারপোর্ট অথোরিটিকে বিষয়টা অবগত করতে।
বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যা জানলাম তা হলো তিনটা গুরুত্ব তথ্য।
১. প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কাছে থাকার কথা কুটনৈতিক পাসপোর্ট। কিন্তু তার কাছে কুটনৈতিক পাসপোর্ট নেই। ফলে তিনি কুটনৈতিক সফরে গেছেন না ব্যক্তিগত সফরে গেছেন তা বোঝা দিল্লি এয়ারপোর্টের জন্য সম্ভব হয়নি প্রথমে। পরে যখন তারা নিশ্চিত হয়েছেন তখন তাকে ইমিগ্রেশন পাস দিয়েছেন।
২. বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে দিল্লি এয়ারপোর্টকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। ফলে জায়েদ সাহেবের এক্সট্রা খাতির আশা করাটা বোকামি হয়েছে। চিঠি ছাড়া যে কারো যে কোন সফরই রেগুলার প্রোসেসে হবে এটাই নরমাল।
৩. জায়েদ সাহেবের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তার ইউটিউব চ্যানেল আগে থেকেই ভারতে ব্যান করে রাখা। ফলে তিনি এয়ারপোর্টের লাল তালিকায় থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। ফলে এয়ারপোর্ট অথোরিটি যাচাই-বাছাই না করেই তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেবে না। এটা ভারতের জন্য সিকিওরিটি কনসার্ন।
ফলে ডাক্তার সাহেবকে এয়ারপোর্ট অথোরিটি যেই একটু তল্লাশি করেছে, সওয়াল জবাব করেছে ওমনি তার ইগো হার্ট হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার সাথে ভারত শিষ্টাচার বহিঃভূত আচারন করেছে এই মর্মে ভারতে আর না ঢুকে এখন নাকি দেশে ফিরে আসতেছে। দেশে এসে নিশ্চয় তিনি প্রেস ব্রিফিং করে নিজের মনের মাধুরি মিলিয়ে গল্প শোনাবেন আমাদের।
এই ইস্যুটা মূলত জায়েদ সাহেবের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল বিষয়ে অনভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ হাই কমিশন দিল্লির অপেশাদারিত্ব। এখানে ভারতের দোষ খুবই সামান্য যা বুঝলাম। কিন্তু ইস্যুটাকে বিএনপির এক্টিভিস্টরা ফুলিয়ে ফাপিয়ে প্রচার করছে যে, “জায়েদকে অসম্মান করার জন্য তিনি ফিরে আসছে। তার হ্যাডম আছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।” এখানে হ্যাডমের কিছু নাই। আপনি যদি বুঝতে পারেন যে এটা আপনার দেশের ফল্ট, দেশের প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাজ ইগো দেখানো না। ফল্টটা এড্রেস করে সমাধান করা।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে প্রধান্মন্ত্রী উপদেষ্টাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অশোভন বা অসম্মানজনক আচরণের শিকার হননি।
বিএনপি সরকারের উচিত বর্তমান হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত বিবেচনা করা। এ ধরনের ঘটনা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং যথাযথ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা না করা হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ধন্যবাদ!SK Tutul





















