মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দৈনিক কালের কণ্ঠে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন জাতীয় দৈনিকটির সম্পাদকীয় নেতৃত্বে গতকাল সোমবার এ আকস্মিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ। প্রায় দুই বছর ধরে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় দায়িত্বে থাকা এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে কেন সরে যেতে হলো, তা নিয়ে সংবাদপত্রটির ভেতরে-বাইরে নানা ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
কালের কণ্ঠের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতা এবং গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসান হাফিজের বিদায়ের পেছনে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সম্পাদকীয় নীতির প্রশ্ন, তার পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা, জাতীয় প্রেস ক্লাব রাজনীতির দ্বন্দ্ব, মালিকপক্ষের কৌশলগত ভাবনা এবং সাংবাদিক রাজনীতির হিসাব—সব মিলিয়ে একাধিক কারণ কাজ করে থাকতে পারে। তবে এসব কারণের অনেকগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষই সুখবর ডটকমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালের কণ্ঠের দীর্ঘদিনের সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের দায়িত্বের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞ সাংবাদিক হাসান হাফিজকে কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসান হাফিজ দেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্য অঙ্গনের পরিচিত মুখ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জন্ম নেওয়া এ কবি দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক বাংলা, জনকণ্ঠ, আমার দেশ, খবরের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা ও সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। ২০২৪ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পান তিনি।
তবে কালের কণ্ঠে তার নিয়োগের পর থেকেই সেটি শুধু একটি পেশাগত নিয়োগ ছিল না; বরং দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। কারণ, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের অনেক গণমাধ্যমেই সম্পাদকীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল ঘটে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব আসে, আবার কোথাও পুরোনোদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
কালের কণ্ঠের বর্তমান ও সাবেক কয়েক সাংবাদিকের ভাষ্য, সেই সময় সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত একটি প্রভাবশালী অংশ হাসান হাফিজকে সম্পাদক পদে বসানোর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। একই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দেখা যায় ওই অংশটির সক্রিয় ভূমিকায়। যদিও এ দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সংশ্লিষ্ট কয়েক সাংবাদিক নেতা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সুখবর ডটকমের কাছে এমন ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন।
হাসান হাফিজের সঙ্গে সাংবাদিক নেতাদের এখন সেই সম্পর্কেই ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কালের কণ্ঠের ভেতরের একাধিক সূত্রের দাবি, যেসব সাংবাদিক নেতার সমর্থনে তিনি এতদিন শক্ত অবস্থানে ছিলেন বলে ধারণা করা হতো, তাদের একটি অংশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তার দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় প্রেস ক্লাব নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক রাজনীতির বিভিন্ন সমীকরণ নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এর প্রভাব কালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় নেতৃত্বেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পাদক পদে না থাকায় প্রেস ক্লাবের আগামী নির্বাচনে হাসান হাফিজের প্রভাব কমবে বলে তাদের ধারণা।
অবশ্য এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন অন্য একটি পক্ষ। তাদের মতে, হাসান হাফিজের পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা মূলত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কালের কণ্ঠের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমের কাছে দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের কোনো চাপ ছিল না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিবেচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তবে একই সময়ে ভিন্ন ধরনের তথ্যও সামনে এসেছে। কালের কণ্ঠের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, দায়িত্ব ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্তে হাসান হাফিজ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এ ধরনের যোগাযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্মকর্তাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। যোগাযোগ করলে হাসান হাফিজও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আরেকটি ব্যাখ্যা ঘুরপাক খাচ্ছে সম্পাদকীয় নীতির প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। কালের কণ্ঠ ২০১০ সালে প্রকাশনার শুরু থেকেই নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মধ্যপন্থী জাতীয়তাবাদী অবস্থানের সংবাদপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন সময় সম্পাদক বদলালেও পত্রিকাটির মূল ব্র্যান্ড পরিচয় অনেকটাই একই ছিল।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাব কালের কণ্ঠেও কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পত্রিকাটি আবারও অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে ফেরার চেষ্টা করে। একটা পর্যায় থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল সমালোচনা করে পত্রিকাটি। যা ওই সময়ের বাস্তবতায় অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম করেনি।
কালের কণ্ঠের কয়েক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মতে, পত্রিকার পাঠকসমাজ বহুমাত্রিক। একটি জাতীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাপ অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে উঠলে তা দীর্ঘমেয়াদে পাঠকসংখ্যা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ভাষ্য, সম্পাদক হিসেবে হাসান হাফিজের বিএনপি-জামায়াতপন্থী হিসেবে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনপরিসরে যে ধরনের আলোচনা ছিল, তা পত্রিকার ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য সব সময় সুবিধাজনক হয়নি। বিষয়টি মালিকপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছিল।
অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। হাসান হাফিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাংবাদিক বলছেন, তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা অন্যায়। তাদের মতে, তিনি দীর্ঘদিনের পেশাদার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সময়ে নানা মতাদর্শের সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। ফলে তাকে কোনো একক রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা ঠিক হবে না।
কালের কণ্ঠের শীর্ষ পর্যায়ের তিন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি মূলত পেশাগত নেতৃত্বের প্রশ্ন। তাদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি জাতীয় দৈনিক পরিচালনার জন্য যে ধরনের বহুমাত্রিক সম্পাদকীয় দক্ষতা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ সক্ষমতা এবং আধুনিক নিউজরুম পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেখানে নতুন ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল কর্তৃপক্ষ। সেজন্যই সম্পাদক পদে পরিবর্তন এসেছে।
তাদের একজন বলেন, “হাসান হাফিজের সাহিত্যিক ও সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু আধুনিক সংবাদপত্র পরিচালনা এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। কর্তৃপক্ষ হয়তো ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নতুন কাউকে আনতে চাইছে।” তবে এ বক্তব্যেরও স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। কারণ, বসুন্ধরা গ্রুপ বা কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্পাদক পরিবর্তনের ঘটনা যে কোনো সংবাদপত্রেই ঘটতে পারে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পরিবর্তন হলে সেটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে যখন কারণগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয় না, তখন গুঞ্জন ও জল্পনা আরও বেড়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বিশ্বাসযোগ্যতা। সম্পাদকীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে তার কারণ সম্পর্কে যত বেশি স্বচ্ছতা থাকবে, পাঠকের আস্থা তত বেশি অক্ষুণ্ন থাকবে। অন্যথায় রাজনৈতিক প্রভাব, মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপ কিংবা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে।
গণমাধ্যম গবেষকরা আরও মনে করেন, দেশের সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। ফলে সম্পাদক নিয়োগ, বা অপসারণের ঘটনা প্রায়ই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক কৌশল, পাঠকপ্রবণতা, ডিজিটাল রূপান্তর কিংবা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে কালের কণ্ঠের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইতিমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পত্রিকাটির ভেতরে ও বাইরে কয়েক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু জানায়নি।
হাসান হাফিজের বিদায় তাই আপাতত একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এটি কি সাংবাদিক রাজনীতির নতুন সমীকরণের ফল, সম্পাদকীয় নীতির পরিবর্তনের অংশ, নাকি কেবলই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সেই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয় নেতৃত্বে এ পরিবর্তন গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন হাসান হাফিজ—যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে কালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রায় দুই বছর পর নানা প্রশ্ন, গুঞ্জন ও ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
হাসান হাফিজের দায়িত্ব ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে গণমাধ্যমের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এত অল্প সময়ে সম্পাদকীয় নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তনের কারণ নিয়ে।
ফেসবুকে রাকিবুল ইসলাম নামে এক নেটিজেন লিখেছেন, “একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক পরিবর্তন হতেই পারেন। কিন্তু পাঠকের কাছে পরিষ্কার বার্তা থাকা জরুরি, কেন পরিবর্তন হচ্ছে।” তানজিলা রহমান নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকতার মান, স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় যেন কোনো পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্যদিকে সাইফুল হক নামে এক পাঠক লিখেছেন, “ব্যক্তি নয়, একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি তার পেশাদারত্ব। নতুন নেতৃত্ব সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।” তবে কিছু নেটিজেন আবার মনে করছেন, কালের কণ্ঠের মতো বড় সংবাদমাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে নতুন চিন্তা ও নতুন ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে একাধিক পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় দায়িত্বে পরিবর্তনের কথাও সামনে আসে। এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, ব্যবস্থাপনা কৌশল বা সম্পাদকীয় পুনর্বিন্যাসের অংশ হতে পারে।
গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জাতীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে সম্পাদক পদে ধারাবাহিক পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি পাঠক, সংবাদকর্মী ও বাজার—সব পক্ষের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত তৈরি করে। ফলে নতুন নেতৃত্ব কে হচ্ছেন এবং তারা কীভাবে পত্রিকার সম্পাদকীয় অবস্থান এগিয়ে নেন, সেটিই এখন সবার আগ্রহের বিষয়।






















