, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, ৬০ দিন বাড়তে পারে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, ৬০ দিন বাড়তে পারে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

তানিয়া আক্তার ফারজানা, টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি নতুন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেননি এবং ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের আলোচকদের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সমঝোতা অনুমোদন করলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর এটিই হবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। যদিও এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত পরিসরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হননি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতি চাইলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু অবরোধ শিথিল করতে পারে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই প্রণালিটি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে সচল হওয়ার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসে একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

এ ছাড়া ওমানকে কেন্দ্র করেও নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য ওমানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের আলোচনা ছিল নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়া এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, ৬০ দিন বাড়তে পারে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, ৬০ দিন বাড়তে পারে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

তানিয়া আক্তার ফারজানা, টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি নতুন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেননি এবং ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের আলোচকদের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সমঝোতা অনুমোদন করলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর এটিই হবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। যদিও এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত পরিসরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হননি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতি চাইলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু অবরোধ শিথিল করতে পারে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই প্রণালিটি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে সচল হওয়ার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসে একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

এ ছাড়া ওমানকে কেন্দ্র করেও নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য ওমানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের আলোচনা ছিল নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়া এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।