, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন

  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৩৭ পড়া হয়েছে

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
নিহত গোলাম রসুল মজুমদার লিটন ও ঘাতক সাফায়েত আলী ওরফে সাফু
কুমিল্লায় শ্রেণিকক্ষে মো. গোলাম রসুল মজুমদার লিটন (৪৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।এ মামলায় গ্রেপ্তার সাফায়েত আলী ওরফে সাফুকে (৩৫) রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার রহস্য বের হয়।

নিহত গোলাম রসুল মজুমদার লিটন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের নলকুড়ি গ্রামের মৃত তফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ  গোলাম রসুল মজুমদার লিটন  মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন, এসময় একই গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সাফায়েত আলী শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পেছন থেকে এসে ধারাল দা দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে সাফায়েতকে আটক করে পুলিশে দেয়।এ ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মাহমুদা হেলেন চৌধুরী বাদী হয়ে সাফায়েত আলী ও তার বড় ভাই কেরামত আলীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সাফায়েত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে পুলিশ সাফায়েতের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। থানা পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট না হওয়ায় মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক দিদারুল ফেরদাউস জানান, কারাবন্দি আসামি সাফায়েত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মতিয়ার রহমান বলেন, সাফায়েত আলী মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রবাসে ছিলেন সেখান থেকে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন। মাদকের কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে নিজের ভাইয়ের কাছে জমি বিক্রি করে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও হতাশ হয়ে পড়েন। এসব পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিস-বিচার করেছিলেন প্রতিবেশী মাদরাসা শিক্ষক গোলাম রসুল মজুমদার লিটন। এসব সামাজিক বিচার ও বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি ক্ষোভ থেকেই শিক্ষক লিটনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাফায়েত মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক লিটনকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পিবিআই হেফাজতে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
জনপ্রিয়

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন

প্রকাশের সময় : ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
নিহত গোলাম রসুল মজুমদার লিটন ও ঘাতক সাফায়েত আলী ওরফে সাফু
কুমিল্লায় শ্রেণিকক্ষে মো. গোলাম রসুল মজুমদার লিটন (৪৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।এ মামলায় গ্রেপ্তার সাফায়েত আলী ওরফে সাফুকে (৩৫) রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার রহস্য বের হয়।

নিহত গোলাম রসুল মজুমদার লিটন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের নলকুড়ি গ্রামের মৃত তফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ  গোলাম রসুল মজুমদার লিটন  মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন, এসময় একই গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সাফায়েত আলী শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পেছন থেকে এসে ধারাল দা দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে সাফায়েতকে আটক করে পুলিশে দেয়।এ ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মাহমুদা হেলেন চৌধুরী বাদী হয়ে সাফায়েত আলী ও তার বড় ভাই কেরামত আলীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সাফায়েত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে পুলিশ সাফায়েতের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। থানা পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট না হওয়ায় মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক দিদারুল ফেরদাউস জানান, কারাবন্দি আসামি সাফায়েত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মতিয়ার রহমান বলেন, সাফায়েত আলী মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রবাসে ছিলেন সেখান থেকে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন। মাদকের কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে নিজের ভাইয়ের কাছে জমি বিক্রি করে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও হতাশ হয়ে পড়েন। এসব পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিস-বিচার করেছিলেন প্রতিবেশী মাদরাসা শিক্ষক গোলাম রসুল মজুমদার লিটন। এসব সামাজিক বিচার ও বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি ক্ষোভ থেকেই শিক্ষক লিটনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাফায়েত মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক লিটনকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পিবিআই হেফাজতে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।