
স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের দিনকাল –
–Sorwar Ahmed+
প্রধান মন্ত্রী তারেক জিয়ার মৌলভী বাজার সফর শেষে জেলা বাসীর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব হয়তো মিলানো হচ্ছে।হিসাবে সর্বকালে এবং সব সময়ে গড়মিল থাকেই।চাওয়ার মধ্যে Elasticity of demand কিংবা কল্পনা ও আবেগের সংমিশ্রণ থাকে।অন্যদিকে প্রাপ্তি আসে নিরেট বাস্তবতার রসি বেয়ে। সুতরাং চাওয়া এবং পাওয়াতে গড়মিলতো থাকবেই।
তারেক জিয়ার আগমণ উপলক্ষ্যে রাজনগর শ্রীমঙ্গল ও মৌলবী বাজারের দাবীর ফিরিস্তি লম্বাই হচ্ছিলো।সাংবাদিকতার রেষারেষির কারণে পাসকার্ড প্রদান কালেও তার ছাপ পড়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি।যার ফলে দাবীর খসড়া তাদের হাতে পৌছেনি।ফেসবুকে যাহা ভেসে উঠেছে তাতে দেখেছি,সদরের এম পি এম নাসের রহমান শমসের নগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুকরণ,মৌলভী বাজারে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং মৌলভী বাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবীটি সুন্দরভাবেই যৌক্তিকতা দিয়ে উপস্থাপণ করেছেন।প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ নিয়ে দাবীগুলো শুনলেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি।তবে কিছু যে দিয়ে যাননি এমনতো নয়। ফ্যামেলি কার্ডতো দিয়ে গেছেন। বাড়তি দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়তো সীমাবদ্ধতার হাতছানি আছে।মনে পড়ে -সম্ভবতঃ ২০০৩ সনে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান মন্ত্রী হিসেবে কুলাউড়া সফরে এসেছিলেন।এ উপলক্ষে হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিরাট জনসভায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারি করণের ঘোষণা দিতে চাইছিলেন।এ সময় অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান পেছন থেকে স্পষ্ঠভাবে বারণ করতে না পারলেও উহ আহ শব্দকরায় চতুর খালেদা সাবধানী হয়ে উঠেছিলেন। বলেছিলেন স্কুলটির উন্নয়নে ষতটুকু করার ততটুকু করা হবে।বলা বাহুল্য -সে সময়ে উপজেলা পর্য্যায়ে বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারি করণের সিষ্টেম ছিলোনা।কিন্তু প্রধান মন্ত্রীর মুখ থেকে এ ধরণের প্রতিশ্রুতি আসলে সেটি অর্ডিনেস্সের মতো হয়ে যেতো। সুতরাং প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি প্রদান চাট্টিখানি বিষয় নয়।এ কারণে তারেক জিয়া দাবীর ভাইটালিটি অনুধাবন করলেও প্রতিশ্রুতি প্রদান থেকে হয়তো বিরত ছিলেন।
প্রতিশ্রুতি প্রদান ও বাস্তবায়নে ক্ষেত্রে সক্ষমতার প্রশ্নটি ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ একটি কেচ্ছার অবতারণা করতে হচ্ছে। এটি গণিমিয়ার ছেলের বিয়ের নয়।গল্পটি হচ্ছে ছনু মিয়ার।অগ্রহায়ন মাস শেষে ছনুমিয়া ঘরের বখনা জবাই করে মৌতাদের রুহের মাগফেরাতের জন্য মেজবানির আয়োজন করতো পৌষ মাসে। একবার পৌষ অতিক্রান্ত হলেও ছনু মিয়ার মেজবানির আলামত ছিলো নিরুদ্দেশ।পাড়া প্রতিবেশী এসে এ ব্যাপারে ছনু মিয়ার নিকট কৈফিয়ৎ চাইলে ছনু মিয়া বলেছিলো -গতবন্যায় ও খরায় হয়েছে ফসলহানি।গোয়ালে গরু থাকলেও গোলায় নেই ধান।মেজবানি করবো কেমনে?
ছনু মিয়ার হাল ধরেছে বর্তমান বি এন পি সরকারেরও।দেশীয় অর্থনীতির ফোঁকলা উত্তরাধিকার নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া কি সম্ভব?অর্থ নৈতিক সক্ষমতার পরিবর্তে এখন অক্ষমতাই সার। স্বাধীনতা উত্তর কালে যে বিধ্বস্থ অর্থনীতি ছিলো বর্তমান হাল অবস্থাকে তদ্রূপ প্রতীয়মান হচ্ছে। হানাদার বাহিনী যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো সেটি ছিলো দৃশ্যমান।কিন্তু ডীপ ষ্টেট ,ইউনুস এবং কথিত বিপ্লবীরা বাহিরের চাইতে ভেতরকে যেভাবে ফোঁকলা করে দিয়েছে সেটি লাইম লাইটে আসতে সময় লাগবে।তবে লাল বিপ্লব দেশকে যে ফোঁকলা করে দিয়েছে সেটি ভেতরে বাহিরেতো প্রমাণিত। ইনটেরিম ইউনুসের ক্ষমতা গ্রহনের পর তার অর্থ উপদেষ্টা একাধিক বার স্বীকার করেছিলেন যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান সংহত পর্য্যায়ে আছে। অর্থাৎ বিতাড়িত হাসিনা সরকার ব্যাংকিং খাতকে ছত্রভঙ্গ করলেও প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে সংহত অবস্থানে রেখে গিয়েছিলো। ইউনুসের সরকারের প্রস্থান এবং বি এন পি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর বর্তমান অর্থমন্ত্রী দেশীয় সংহত অর্থনীতিকে কি স্বস্থি দায়ক উল্লেখ করেছিলেন? বরং ঘুরে ফিরে লবেজানই বলেছেন। ধানের ভর্তিগোলার সন্ধান যদি ইঁদুরে পায় তাহলে গোলা খালি হতে যেমন সময় লাগেনা তেমনি সংহত অর্থনীতিকে শুন্যে নামিয়ে আনতেও বেশী দিন অপেক্ষা করতে হয়না।লুটেরা চক্র লুটে মগ্ন হলে খেলা খতম এমনিতেই হয়।এমতাবস্থায় দেশের আর্থিক বুনিয়াদ এখন খাদের কিনারে।
এখানে প্রাসঙ্গিক যে মেটুকুলাস ডিজাইনের গোমর ফাঁক করে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সোজাসাপ্টা বলেদিয়েছিলেন,বাইডেন প্রশাসন ডিপ ষ্টেটের ভিত্তিতে ২৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলো বাংলাদেশের রেজিম চেন্জের জন্য।দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য খাত থেকেও এ বিনিয়োগকে পরিপুষ্ট করা হয়েছিলো মাথা এবং অন্যান্য সেক্টরকে বাগে আনার লক্ষ্যে। এমতাবস্থায় রেজিম চেন্জ নিশ্চিত হবার পর বিনিয়োগকে লাভে মূলে তোলে নেয়া হয়েছে পরিকল্পিত ভাবেই। দেশীয় আর্থিক বেইজই ছিলো বিনিয়োগ উঠিয়ে নেয়ার ক্ষেত্র স্থল।গুন্জন উঠেছে ,যে পিটার হাঁস দক্ষ খেলোয়াড়ের মতো রেজিম চেন্জের খেলা জমিয়েছিলেন সেই হাঁসের তেলেসমাতিতে এল এন জির মূল্যবৃদ্ধি করেই ২৯ মিলিয়নের ত্রিগুণ উদ্ধার করা হয়েছে ইউনুসের শাসনামলে।আর বাকী খাত বা সেক্টরের লুটপাটতো এখনও প্রচারের মুখ দেখেনি।সুতরাং দেশীয় অর্থনীতির ফোঁকলা দশা ঢেকে রাখার নয়।বি এন পি জেনেশুনেই বিষপান করার মতোই ইউনুসের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থ নীতির মরদেহ কাঁধে ধারণ করেছে। তাই দুর্গতির দোষ ইউনুস সরকারের উপর না চাপিয়ে হাসিনা সরকারের ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছে।কিন্তু এটি যে বাতকি বাত সেটি পাবলিকের পক্ষে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।
ভঙ্গুর অর্থনীতি বিদ্যমান থাকলে বড় কিংবা মধ্যম মাপের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবার নয়।এ সত্যটি অনুধাবন করতে পারছে তারেক জিয়ার সরকার।তাই ঢালাওভাবে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে বোধহয় বিরত আছে।অন্যদিকে ভিশনারী বাজেটও প্রণয়ন করা হয়েছে।বাজেটে পাঁচ লক্ষকোটি টাকার দেশীয় রাজস্বকে টার্গেট ধরা হয়েছে।কিন্তু অর্থনৈতিক মঙ্গায় এ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঝণ গ্রহণেরও ভরসা করা মুশকিল।দফা ওয়ারি লুটের কারকতায় ব্যাংকিং সেক্টরও ফঁতুর। অতএব সুদিন স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন সেটি সময়ই বলে দেবে।





















