
|
|||
আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে
(২য় অংশ)
আগের লেখায় আওয়ামী লীগের বিচ্যুতি সম্পর্কে কিছুটা বলা হয়েছিল। কখনো কখনো আওয়ামী লীগ দক্ষিণপন্থার সাথে আপোষ করেছে। কখনো কখনো লুটেরা দুর্বৃত্ত রেন্টসিকিং পুঁজির কাছে, কখনোবা রিয়েল অ্যাস্টেট দখলবাজি পুঁজি, কখনো ব্যাংক-লোনের মুৎসুদ্দি পুঁজি, কখনোবা বৈদেশিক ঋণ/অনুদানের কমিশন পুঁজির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের একনাগার শাসনামলে নেতৃত্বের কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত উঁচু পদে আসীন একাংশ মারাত্মক অহংবোধে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ক্ষমতার অহংকারে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। কখন যে সংগঠনের ভেতরে ভয়ংকর ক্ষয়রোগ বাসা বেঁধে দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গেছে শীর্ষ নেতৃত্ব তা টের পায়নি। দলটির সদস্যদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণি থেকে এসেছে যারা মূলত এই দলের চালিকাশক্তি। এই দলের সমর্থক সদস্যদের মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ সর্বহারা মেহনতি ও প্রান্তিক পর্যায় থেকে এসেছে, কিন্তু এরা এই দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কোন ভূমিকা নিতে পারে না। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থেকে আসা পেটিবুর্জোয়ারা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবসময় দোদুল্যমানতায় থাকে। এই পেটিবুর্জোয়ারা দলের কমিটিতে নেতৃত্ব দেয়। এদের বৃহদাংশ উচ্চাভিলাসী হয়। এরা তাদের অর্থনৈতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বীয় অবস্থান পরিবর্তন করে বুর্জোয়া হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষায় ব্যস্ত থাকে। মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত পেটিবুর্জোয়াদের আরেকটি অংশ আছে যারা লুটপাট দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে। এই অংশটি আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক রাজনীতি— সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচারের ঘোষণা বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করে। রাজনৈতিকভাবে কমিটেড এইঅংশটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়। এরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে কথা বলে। সর্বোপরি বহুত্ববাদী সমাজ-সংস্কৃতি বিনির্মাণে এই অংশটি কাজ করে। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতাসীন সময়ে অসুস্থ পুঁজিপতিদের দৌরাত্ম্যে তারা কোণঠাস হয়ে পড়ে এবং ক্ষীণকণ্ঠ হয়ে যায়। তখন দল ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যায়। দলের অভ্যন্তরে কোন রাজনীতির চর্চা থাকেনা। সংগঠনেও কোন নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকেনা। সংগঠনটি একটি চরম অরাজক অবস্থায় নিপতিত হয়। আওয়ামী লীগের বেলায় তাই ঘটেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেত্রী
একজন খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতির মানুষ হয়েও সংগঠনের অভ্যন্তরে কখন যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বহুত্ববাদী
সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ক্ষয়েক্ষয়ে ঝরে গেছে তার খোঁজ রাখতে পারেননি।
সুসময়ে দলের অভ্যন্তরে পেটিবুর্জোয়াদের বিপ্লবী অংশটি কোণঠাসা থাকলেও দুঃসময়ে এসে এরাই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের এই দুঃসময়ে কিংবা বিপর্যয়ের সময়ে আশা-ভরসাস্থল একটিই, সেটি তার শীর্ষনেত্রী। বিগত চব্বিশের জুলাই আগস্টের কৃত্রিম আন্দোলনে এই দলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামো তছনছ হয়ে গেলেও সংগঠনের শেকড় ও শিখর সঠিক আছে। তৃণমূল-শেকড়ে আছে বিপ্লবী সর্বহারা মেহনতি মানুষ ও নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত পেটিবুর্জোয়া ও কল্যাণকামী বুর্জোয়া শ্রেণির এক বৃহদাংশ। আর শিখরে আছে এই শ্রেণির বিপ্লবী প্রতিনিধি শেখ হাসিনা।
লেখক: আহমাদ সাদ
শিক্ষক কলামিস্ট
(২য় অংশ)






















