, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের কারাগার পেরিয়ে ঘরে ফেরা ২৮ শ্রমিকের মুখে হাসি

  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৩১ পড়া হয়েছে
প্রতিশ্রুতি রেখেছেন এমপি মোশারফ
ভারতের কারাগার পেরিয়ে ঘরে ফেরা ২৮ শ্রমিকের মুখে হাসি
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ দালালের প্রলোভনে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিদশায় কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক। গত ২৭ মে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন তারা। দীর্ঘ দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় পরিবারগুলোতে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ।
দেশে ফেরা শ্রমিকদের বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কুহলী, দোহার, তেঘরী ও দাসগ্রাম এবং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভাটগ্রামে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুহলী গ্রামের রানা আহমেদ, আতিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, ফিরোজ হোসেন এবং তেঘরী গ্রামের সেলিম হোসেনসহ আরও অনেকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এসব শ্রমিক। পরে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি হোটেল থেকে দিল্লি সিআইডি তাদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের চেন্নাই সেন্ট্রাল কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে ১৪ মাস কারাভোগ করতে হয়।
কারামুক্তির পরও আরও তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে তাদের। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে এসব শ্রমিককে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।শনিবার (৬ জুন) সকালে দেশে ফেরা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি তাদের দুর্ভোগ, বন্দিজীবন ও দেশে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।ফেরত আসা শ্রমিক রাজু আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ মাস আমরা অনেক কষ্ট করেছি। এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে দেশে ফিরতে পেরে আমরা খুবই খুশি। পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।
বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আটকে পড়া শ্রমিক ও তাদের পরিবার দীর্ঘদিন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তারা দেশে ফিরতে পেরেছেন। এটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ভবিষ্যতে কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে না যান, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।এ বিষয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহর রহমত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয়

ভারতের কারাগার পেরিয়ে ঘরে ফেরা ২৮ শ্রমিকের মুখে হাসি

প্রকাশের সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রতিশ্রুতি রেখেছেন এমপি মোশারফ
ভারতের কারাগার পেরিয়ে ঘরে ফেরা ২৮ শ্রমিকের মুখে হাসি
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ দালালের প্রলোভনে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিদশায় কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক। গত ২৭ মে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন তারা। দীর্ঘ দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় পরিবারগুলোতে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ।
দেশে ফেরা শ্রমিকদের বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কুহলী, দোহার, তেঘরী ও দাসগ্রাম এবং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভাটগ্রামে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুহলী গ্রামের রানা আহমেদ, আতিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, ফিরোজ হোসেন এবং তেঘরী গ্রামের সেলিম হোসেনসহ আরও অনেকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এসব শ্রমিক। পরে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি হোটেল থেকে দিল্লি সিআইডি তাদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের চেন্নাই সেন্ট্রাল কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে ১৪ মাস কারাভোগ করতে হয়।
কারামুক্তির পরও আরও তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে তাদের। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে এসব শ্রমিককে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।শনিবার (৬ জুন) সকালে দেশে ফেরা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি তাদের দুর্ভোগ, বন্দিজীবন ও দেশে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।ফেরত আসা শ্রমিক রাজু আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ মাস আমরা অনেক কষ্ট করেছি। এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে দেশে ফিরতে পেরে আমরা খুবই খুশি। পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।
বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আটকে পড়া শ্রমিক ও তাদের পরিবার দীর্ঘদিন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তারা দেশে ফিরতে পেরেছেন। এটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ভবিষ্যতে কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে না যান, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।এ বিষয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহর রহমত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।