, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাহাটির জাফলং রেস্টুরেন্টে  শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ | আটক ১

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ২৯ পড়া হয়েছে
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা, ২৪ জুন ২০২৬
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯নং খোলাহাটি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ভেড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন ‘জাফলং’ বিনোদন কেন্দ্র ও রেস্টুরেন্টে ৬-৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে আজ, ২৪ জুন, এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি ১০-১২ দিন আগের ঘটনা বলে দাবি করা হলেও এলাকাবাসী আজ জানার পর রেস্টুরেন্ট অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত হোটেল কর্মচারী আমিরুল ইসলাম, পিতা জয়নাল, গ্রাম দারিয়াপুর ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ১০-১২ দিন আগে বাচ্চাটি তার মায়ের সাথে রেস্টুরেন্টে এসেছিল। তখন অনেক লোকজন ছিল। বাচ্চাটি একবার আমার কোলে উঠেছিল, এটুকুই। এটা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শিশুটির মা মাঝেমধ্যেই হোটেলে আসেন। বাড়তি খাবার থাকলে তারা এসে নিয়ে যান। অসহায় গরিব মানুষ হিসেবে আমরা অনেক সময় সাহায্য করি।
 তবে শিশুটির বা তার মায়ের কোনো বক্তব্য বা ছবি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি ১০-১২ দিন আগের। কিন্তু আজ ২৪ জুন বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শতাধিক নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু একত্রিত হয়ে ‘জাফলং’ফুড এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ঘেরাও করে। উত্তেজিত জনতা হোটেলে ভাঙচুর চালায় এবং অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে ‘নিজেরাই বিচার’ করার দাবি জানায়।
ঘটনাস্থল গাইবান্ধা-লালমনিরহাট রেললাইন সংলগ্ন হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের অনেকে রেললাইনের পাথর হাতে নিয়ে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স আনা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত আমিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক এলাকাবাসীর বক্তব্য নিয়েছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে।
একাংশের বক্তব্য: যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে ৬-৭ বছরের শিশু ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত, আহত বা অজ্ঞান হয়ে যেত। ১০-১২ দিন পর কেন এই অভিযোগ? বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
অন্যদিকে কয়েকজন শিশুটির মায়ের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, মেয়েটির মা অসহায়, গরিব। তিনি বিভিন্ন দোকানে যান, লোকজনের কাছে পান-চা খেতে চান। তার আচার-আচরণ নিয়েও এলাকায় কথা আছে। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সব পক্ষের বক্তব্য শুনছি। মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। গুজবে কান না দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে অনুরোধ করছি।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের চোখে নির্দোষ। আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।
জনপ্রিয়

লাহাটির জাফলং রেস্টুরেন্টে  শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ | আটক ১

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা, ২৪ জুন ২০২৬
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯নং খোলাহাটি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ভেড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন ‘জাফলং’ বিনোদন কেন্দ্র ও রেস্টুরেন্টে ৬-৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে আজ, ২৪ জুন, এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি ১০-১২ দিন আগের ঘটনা বলে দাবি করা হলেও এলাকাবাসী আজ জানার পর রেস্টুরেন্ট অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত হোটেল কর্মচারী আমিরুল ইসলাম, পিতা জয়নাল, গ্রাম দারিয়াপুর ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ১০-১২ দিন আগে বাচ্চাটি তার মায়ের সাথে রেস্টুরেন্টে এসেছিল। তখন অনেক লোকজন ছিল। বাচ্চাটি একবার আমার কোলে উঠেছিল, এটুকুই। এটা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শিশুটির মা মাঝেমধ্যেই হোটেলে আসেন। বাড়তি খাবার থাকলে তারা এসে নিয়ে যান। অসহায় গরিব মানুষ হিসেবে আমরা অনেক সময় সাহায্য করি।
 তবে শিশুটির বা তার মায়ের কোনো বক্তব্য বা ছবি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি ১০-১২ দিন আগের। কিন্তু আজ ২৪ জুন বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শতাধিক নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু একত্রিত হয়ে ‘জাফলং’ফুড এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ঘেরাও করে। উত্তেজিত জনতা হোটেলে ভাঙচুর চালায় এবং অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে ‘নিজেরাই বিচার’ করার দাবি জানায়।
ঘটনাস্থল গাইবান্ধা-লালমনিরহাট রেললাইন সংলগ্ন হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের অনেকে রেললাইনের পাথর হাতে নিয়ে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স আনা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত আমিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক এলাকাবাসীর বক্তব্য নিয়েছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে।
একাংশের বক্তব্য: যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে ৬-৭ বছরের শিশু ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত, আহত বা অজ্ঞান হয়ে যেত। ১০-১২ দিন পর কেন এই অভিযোগ? বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
অন্যদিকে কয়েকজন শিশুটির মায়ের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, মেয়েটির মা অসহায়, গরিব। তিনি বিভিন্ন দোকানে যান, লোকজনের কাছে পান-চা খেতে চান। তার আচার-আচরণ নিয়েও এলাকায় কথা আছে। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সব পক্ষের বক্তব্য শুনছি। মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। গুজবে কান না দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে অনুরোধ করছি।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের চোখে নির্দোষ। আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।