, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

  • প্রকাশের সময় : ১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে

 অনলাইন

ঋণখেলাপি হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। একই সঙ্গে তার প্রার্থিতা বাতিল করায় ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ঋণখেলাপি হলে কেউ ভবিষ্যতে এমপি হতে পারবেন না—এই রায়ের মাধ্যমে সেটি প্রতিষ্ঠিত হলো। এটি একটি মাইলফলক রায় হয়ে থাকবে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন অভিযোগকারী দুই পক্ষ। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টও রিট দুটি খারিজ করে দেয়ায় আসলামের প্রার্থিতা বহাল থাকে।

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন আনোয়ার সিদ্দিকী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

সেদিন আদালত আদেশে বলেন, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসলাম চৌধুরী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

জয় পেলেও আটকে ছিল গেজেট ও শপথ

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আসলাম চৌধুরী। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে এমপি হিসেবে তার শপথ গ্রহণও আটকে যায়।

এর পর ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকীও আপিল আবেদন করেন।

এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে বিষয়টির শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আদালত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর মতামত গ্রহণ করেন।

সবশেষে আজ আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে তিনি এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

জনপ্রিয়

এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

প্রকাশের সময় : ১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 অনলাইন

ঋণখেলাপি হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। একই সঙ্গে তার প্রার্থিতা বাতিল করায় ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ঋণখেলাপি হলে কেউ ভবিষ্যতে এমপি হতে পারবেন না—এই রায়ের মাধ্যমে সেটি প্রতিষ্ঠিত হলো। এটি একটি মাইলফলক রায় হয়ে থাকবে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন অভিযোগকারী দুই পক্ষ। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টও রিট দুটি খারিজ করে দেয়ায় আসলামের প্রার্থিতা বহাল থাকে।

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন আনোয়ার সিদ্দিকী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

সেদিন আদালত আদেশে বলেন, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসলাম চৌধুরী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

জয় পেলেও আটকে ছিল গেজেট ও শপথ

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আসলাম চৌধুরী। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে এমপি হিসেবে তার শপথ গ্রহণও আটকে যায়।

এর পর ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকীও আপিল আবেদন করেন।

এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে বিষয়টির শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আদালত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর মতামত গ্রহণ করেন।

সবশেষে আজ আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে তিনি এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।