, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের নায়ক জননেতা আব্দুর রাজ্জাক

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১২ পড়া হয়েছে
ইতিহাসের নায়ক জননেতা আব্দুর রাজ্জাক আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর – তসলিম উদ্দীন রানা
👇:- জননেতা আব্দুর রাজ্জাক (জন্ম ১ আগস্ট ১৯৪২ – মৃত্যু ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ইং)। জাতীয় বীর,১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের নিউক্লিয়াস বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর প্রধান সংগঠক ও সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক সিপাহাশালা ও অন্যতম দিকপাল,৬২’র শিক্ষা আন্দোলন,বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন,স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম দিকপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তন্মধ্যে নিউক্লিয়াস ও মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সারা বাংলাদেশে চষে বেড়িয়েছেন ও অনস্বীকার্য ভুমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য,প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দু-দুবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ৫০’র দশকের শেষের দিকে। মৃত্যুর পূর্বাবধি তিনি শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং ১৯৭০ সালে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৯৯১, ও ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২টি করে আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন।আব্দুর রাজ্জাক ১৯৬৬-১৯৬৭ ও ১৯৬৭-১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু-দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালের দু-দুবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।তিনি একজন কিংবদন্তি জননেতা ও গণমানুষের নেতা ছিলেন। তিনি হাজার হাজার নেতা বানানোর কারিগর ও অসংখ্য কর্মী সৃষ্টির পেছনে তার অবদান অনন্য।সারা বাংলাদেশে তিনি অনেক নেতা সৃষ্টি করেছেন।এমন কোন জেলা ও উপজেলা নাই যেখানে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের কর্মী নেই।সব জায়গায় তার বিছরণ ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি অত্যন্ত মেধাবী,কর্মী বান্ধব মানুষের নেতা ছিলেন।তিনি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সিপাহাশালা।তিনি জীবনে কোন নির্বাচনে হারেনি,তিনি জনতার নেতা, তিনি মানুষের নেতা,তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিনিধি।
মানবতা ও উন্নয়নের আজন্ম সাধক ছিলেন জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক।মানুষ, মানবতা ও উন্নয়নের আজন্ম সাধক ছিলেন জাতীয় নেতা জাতীয় বীর আব্দুর রাজ্জাক।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবির আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের একজন মন্ত্রীর হিসেবে অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন।সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তার অনন্য উদাহরণ।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নেতা আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২ মে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে ডামুড্যা মুসলিম পাইলট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর এলএলবি ডিগ্রি নেন।তার পিতা ইমাম উদ্দিন ও মা আখফাতুননেসার ঘর আলো করা ছেলেটির রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাবি’তে জনপ্রিয় ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তার মত একজন আদর্শিক, সজ্জন ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছাত্রনেতা দুষ্কর। তিনি ছাত্র সময়াজের নয়ণমণি।তিনি ১৯৬৫-৬৭ সালে ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
যৌবনের ৩০ বছর পেরোনোর আগেই জাতীয় রাজনীতিতে একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ৬৪’র ছাত্র আন্দোলন,১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন জাতীয় বীর আব্দুর রাজ্জাক।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হন।
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের ভোট দিয়ে শুরু হয় আব্দুর রাজ্জাকের নির্বাচনি জয়যাত্রা। ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আব্দুর রাজ্জাক।
মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীতে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে ক’জন যুবনেতা ‘চার খলিফা’ নামে সুপরিচিত ছিলেন, আব্দুর রাজ্জাক তাদেরই অন্যতম।তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর।
জেনারেল ওবানের সঙ্গে মুজিব বাহিনীর চার প্রধান (বাঁ থেকে) সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমেদ। তিনি এদেশের সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন।বাঙালির সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ থেকে তিন বছর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা ঘটনার পর তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিলো তাঁকে।তিনি স্বৈরচ্ছার জিয়া,এরশাদ, স্বৈরচ্ছারিনী খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শ্রেণির যোদ্ধা ও অন্যতম দিকপাল ছিলেন। এদেশের যতগুলো অসম্প্রাদিয়ক ও অগ্রণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তিনি অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে।তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তার নি:স্বার্থ অবদান রয়েছে। তবে দমে যাননি, পরবর্তী সময়ে বিরূপ পরিস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাল ধরেন এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় দলের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে কোনো কালো হাত থাবা বসালেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।তিনি অসম্ভব সাহসী ও সুবক্তা ছিলেন। তার বক্তব্য জাদুর পরশে ছাত্র-জনতা খুব ধৈর্য ধরে শুনতেন।তিনি সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এর মাধ্যমে সারা বাংলায় দক্ষ ও মেধাবী কর্মী সৃষ্টি করেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু নিজের ত্যাগ ও প্রচেষ্টা দিয়ে দলকে সবসময় আগলে রেখেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে ১৯৮১ সালের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন তিনি।
সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকতেন আব্দুর রাজ্জাক।সব সময় সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতেন।মানুষের সাথে তার অসম্ভব ভালবাসা ছিল।
৯০ দশকে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে স্বাধীনতাবিরোধী,রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সূচিত আন্দোলনের সংগঠক এবং গণআদালতের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।তিনি বাংলাদেশের শান্তি পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আবারো তার পুরনো দল
আওয়ামী লীগে ৯০ সালে ফিরলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।তারপর দীর্ঘদিন দলটির নীতি-নির্ধারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারে পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলে। তাঁর অদুরদর্শিতায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়।যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও যুগোপযোগী।
জীবনের সোনালি সময় দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কোনো লোভ-লালসা কখনও তাঁর ব্যক্তিত্বের কাছে স্থান পায়নি। সৎ জীবনযাপন ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নেন।তিনি ছিলেন নির্লোভ, নিরহংকার,
পরিচ্ছন্ন ও সততার মুর্ত প্রতীক।তার মত এমন সৎ নেতা পাওয়া দুষ্কর। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার সমালোচনা বিরোধী পক্ষের লোক পর্যন্ত করতে পারিনি। তিনি ছাত্রনেতা থেকে জননেতা। তিনি গণমানুষের নেতা। তিনি একজন আদর্শিক রাজনীতির লিজেন্ড ও কিংবদন্তি জননেতা।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দক্ষ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন আব্দুর রাজ্জাক। নিজের সংসদীয় আসন শরীয়তপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জন্য সদা তৎপর ছিলেন। সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক কলেজ ও বুড়িরহাট পলিটেকনিক কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাবার নামে করেছেন আলহাজ ইমাম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়।
আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী থাকাকালে রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি নদীভাঙন কবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জয়ন্তী নদীতে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জীবনমান উন্নয়নে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, ব্যাংক ও ড্যামুড্যা পৌরসভা। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেন।
জননেতা আব্দুর রাজ্জাক একই আসনে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর ছেলে আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক। বাবার স্মরণে নিজের এলাকায় কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের নলমুড়িতে ফেরিঘাটের নামকরণ হয়েছে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের নামে। এছাড়া জাতীয় এই নেতার নামে শরীয়তপুর পৌরসভার কোর্ট চত্বর পুলিশ বক্স থেকে আটং বুড়িরহাট সড়কের নামকরণ হয়েছে,সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ, আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ,আব্দুর রাজ্জাক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রমুখ।
আদর্শের উত্তরসূরী সৃষ্টির মাধ্যমে বাঙালী জাতির জন্য তিনিই হাজার হাজার নেতা রেখ ও কোটি কোটি কর্মী রেখে যান । যারা আজকের দিনে
বাঙালীর সম্পদ হয়ে প্রিয় বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের ভুমিকা রেখেছে অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য।
স্বাধীন দেশ হয়েছে জননেতা রাজ্জাকদের জন্য, তিনিই ইতিহাস।তার সুযোগ্য ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছে।জননেতা আব্দুর রাজ্জাক ছিল আদর্শিক রাজনীতির কারিগর। তার আদর্শ চির উন্নত মম শির হয়ে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।তার আত্ত্বার শান্তি পাবে, তার স্বাধীনতা সার্থক হয়েছে। তার স্বপ্নের বাংলা আজ অনেক এগিয়ে যাবে কিন্তু বর্তমানে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশকে বহুবছর পিছিয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত দু:খজনক। তারা আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে যার জন্য জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের মত বলিষ্ঠ,
দু:সাহসী ও আদর্শিক নেতা বড়ই প্রয়োজন। তিনি নিজের জীবন উজাড় করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।তিনি অসম্প্রাদায়িক,গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ চেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে তাহলে তার আত্মা শান্তি পাবে।
রাজনীতির লিজেন্ড আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ মানুষের কাছে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।কে এই রাজ্জাক আজকের প্রজন্ম জানতে হবে।তিনি কে? কি তার পরিচয়? তিনি কে? কেন তিনি জনতার নেতা?তিনি মুক্তিযুদ্ধের কি?কি জন্য তিনি জনপ্রিয়? কেন তিনি জাতীয় বীর? কেন বারবার নির্বাচিত সাংসদ? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য তার ইতিহাস জানতে হবে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের।নতুন প্রজন্মের নিকট তার ইতিহাস জানতে হবে, পড়তে হবে।তিনি একজন কিংবদন্তি জননেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,জাতীয় বীর, বিরল একজন সুপুরুষ ও মহান ব্যক্তিত্ব এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কিডনি ও লিভারের জটিলতা নিয়ে ২০১১ সালে ২১ ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি বনানী কবরস্থানে আজও শায়িত আছেন।এই জনদরদী, গণ মানুষের ভালবাসার মানুষ, ইতিহাসের নায়ক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,জনপ্রিয় প্রতিনিধি ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির লিজেন্ড আব্দুর রাজ্জাক আজও আমাদের হৃদয়ে চির অম্লান ও শ্রদ্ধার পাত্র।আজকের দিনে তার আদর্শে শানিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে চলতে হবে তাহলে তার আত্মা শান্তি পাবে।
যুগে যুগে তিনি মানুষের নিকট শ্রদ্ধা নিয়ে বেচে থাকবে।ইতিহাসের নায়ক আব্দুর রাজ্জাক আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর হিসেবে আজীবন মানুষের হৃদয়ে মনের কোটায় আছে, থাকবে। তার কর্ম তাকে বাচিয়ে রেখেছে আমাদের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বেচে আছে,থাকবে।
লেখক – তসলিম উদ্দীন রানা
সদস্য,অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক।
MD Baizid Sarkar’
জনপ্রিয়

ইতিহাসের নায়ক জননেতা আব্দুর রাজ্জাক

প্রকাশের সময় : ১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ইতিহাসের নায়ক জননেতা আব্দুর রাজ্জাক আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর – তসলিম উদ্দীন রানা
👇:- জননেতা আব্দুর রাজ্জাক (জন্ম ১ আগস্ট ১৯৪২ – মৃত্যু ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ইং)। জাতীয় বীর,১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের নিউক্লিয়াস বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর প্রধান সংগঠক ও সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক সিপাহাশালা ও অন্যতম দিকপাল,৬২’র শিক্ষা আন্দোলন,বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন,স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম দিকপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তন্মধ্যে নিউক্লিয়াস ও মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সারা বাংলাদেশে চষে বেড়িয়েছেন ও অনস্বীকার্য ভুমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য,প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দু-দুবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ৫০’র দশকের শেষের দিকে। মৃত্যুর পূর্বাবধি তিনি শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং ১৯৭০ সালে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৯৯১, ও ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২টি করে আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন।আব্দুর রাজ্জাক ১৯৬৬-১৯৬৭ ও ১৯৬৭-১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু-দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালের দু-দুবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।তিনি একজন কিংবদন্তি জননেতা ও গণমানুষের নেতা ছিলেন। তিনি হাজার হাজার নেতা বানানোর কারিগর ও অসংখ্য কর্মী সৃষ্টির পেছনে তার অবদান অনন্য।সারা বাংলাদেশে তিনি অনেক নেতা সৃষ্টি করেছেন।এমন কোন জেলা ও উপজেলা নাই যেখানে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের কর্মী নেই।সব জায়গায় তার বিছরণ ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি অত্যন্ত মেধাবী,কর্মী বান্ধব মানুষের নেতা ছিলেন।তিনি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সিপাহাশালা।তিনি জীবনে কোন নির্বাচনে হারেনি,তিনি জনতার নেতা, তিনি মানুষের নেতা,তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিনিধি।
মানবতা ও উন্নয়নের আজন্ম সাধক ছিলেন জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক।মানুষ, মানবতা ও উন্নয়নের আজন্ম সাধক ছিলেন জাতীয় নেতা জাতীয় বীর আব্দুর রাজ্জাক।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবির আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের একজন মন্ত্রীর হিসেবে অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন।সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তার অনন্য উদাহরণ।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নেতা আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২ মে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে ডামুড্যা মুসলিম পাইলট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর এলএলবি ডিগ্রি নেন।তার পিতা ইমাম উদ্দিন ও মা আখফাতুননেসার ঘর আলো করা ছেলেটির রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাবি’তে জনপ্রিয় ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তার মত একজন আদর্শিক, সজ্জন ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছাত্রনেতা দুষ্কর। তিনি ছাত্র সময়াজের নয়ণমণি।তিনি ১৯৬৫-৬৭ সালে ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
যৌবনের ৩০ বছর পেরোনোর আগেই জাতীয় রাজনীতিতে একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ৬৪’র ছাত্র আন্দোলন,১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন জাতীয় বীর আব্দুর রাজ্জাক।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হন।
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের ভোট দিয়ে শুরু হয় আব্দুর রাজ্জাকের নির্বাচনি জয়যাত্রা। ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আব্দুর রাজ্জাক।
মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীতে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে ক’জন যুবনেতা ‘চার খলিফা’ নামে সুপরিচিত ছিলেন, আব্দুর রাজ্জাক তাদেরই অন্যতম।তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর।
জেনারেল ওবানের সঙ্গে মুজিব বাহিনীর চার প্রধান (বাঁ থেকে) সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমেদ। তিনি এদেশের সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন।বাঙালির সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ থেকে তিন বছর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা ঘটনার পর তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিলো তাঁকে।তিনি স্বৈরচ্ছার জিয়া,এরশাদ, স্বৈরচ্ছারিনী খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শ্রেণির যোদ্ধা ও অন্যতম দিকপাল ছিলেন। এদেশের যতগুলো অসম্প্রাদিয়ক ও অগ্রণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তিনি অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে।তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তার নি:স্বার্থ অবদান রয়েছে। তবে দমে যাননি, পরবর্তী সময়ে বিরূপ পরিস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাল ধরেন এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় দলের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে কোনো কালো হাত থাবা বসালেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।তিনি অসম্ভব সাহসী ও সুবক্তা ছিলেন। তার বক্তব্য জাদুর পরশে ছাত্র-জনতা খুব ধৈর্য ধরে শুনতেন।তিনি সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এর মাধ্যমে সারা বাংলায় দক্ষ ও মেধাবী কর্মী সৃষ্টি করেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু নিজের ত্যাগ ও প্রচেষ্টা দিয়ে দলকে সবসময় আগলে রেখেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে ১৯৮১ সালের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন তিনি।
সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকতেন আব্দুর রাজ্জাক।সব সময় সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতেন।মানুষের সাথে তার অসম্ভব ভালবাসা ছিল।
৯০ দশকে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে স্বাধীনতাবিরোধী,রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সূচিত আন্দোলনের সংগঠক এবং গণআদালতের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।তিনি বাংলাদেশের শান্তি পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আবারো তার পুরনো দল
আওয়ামী লীগে ৯০ সালে ফিরলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।তারপর দীর্ঘদিন দলটির নীতি-নির্ধারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারে পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলে। তাঁর অদুরদর্শিতায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়।যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও যুগোপযোগী।
জীবনের সোনালি সময় দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কোনো লোভ-লালসা কখনও তাঁর ব্যক্তিত্বের কাছে স্থান পায়নি। সৎ জীবনযাপন ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নেন।তিনি ছিলেন নির্লোভ, নিরহংকার,
পরিচ্ছন্ন ও সততার মুর্ত প্রতীক।তার মত এমন সৎ নেতা পাওয়া দুষ্কর। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার সমালোচনা বিরোধী পক্ষের লোক পর্যন্ত করতে পারিনি। তিনি ছাত্রনেতা থেকে জননেতা। তিনি গণমানুষের নেতা। তিনি একজন আদর্শিক রাজনীতির লিজেন্ড ও কিংবদন্তি জননেতা।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দক্ষ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন আব্দুর রাজ্জাক। নিজের সংসদীয় আসন শরীয়তপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জন্য সদা তৎপর ছিলেন। সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক কলেজ ও বুড়িরহাট পলিটেকনিক কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাবার নামে করেছেন আলহাজ ইমাম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়।
আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদমন্ত্রী থাকাকালে রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি নদীভাঙন কবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জয়ন্তী নদীতে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জীবনমান উন্নয়নে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, ব্যাংক ও ড্যামুড্যা পৌরসভা। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেন।
জননেতা আব্দুর রাজ্জাক একই আসনে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর ছেলে আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক। বাবার স্মরণে নিজের এলাকায় কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের নলমুড়িতে ফেরিঘাটের নামকরণ হয়েছে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের নামে। এছাড়া জাতীয় এই নেতার নামে শরীয়তপুর পৌরসভার কোর্ট চত্বর পুলিশ বক্স থেকে আটং বুড়িরহাট সড়কের নামকরণ হয়েছে,সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজ, আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ,আব্দুর রাজ্জাক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রমুখ।
আদর্শের উত্তরসূরী সৃষ্টির মাধ্যমে বাঙালী জাতির জন্য তিনিই হাজার হাজার নেতা রেখ ও কোটি কোটি কর্মী রেখে যান । যারা আজকের দিনে
বাঙালীর সম্পদ হয়ে প্রিয় বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের ভুমিকা রেখেছে অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য।
স্বাধীন দেশ হয়েছে জননেতা রাজ্জাকদের জন্য, তিনিই ইতিহাস।তার সুযোগ্য ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছে।জননেতা আব্দুর রাজ্জাক ছিল আদর্শিক রাজনীতির কারিগর। তার আদর্শ চির উন্নত মম শির হয়ে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।তার আত্ত্বার শান্তি পাবে, তার স্বাধীনতা সার্থক হয়েছে। তার স্বপ্নের বাংলা আজ অনেক এগিয়ে যাবে কিন্তু বর্তমানে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশকে বহুবছর পিছিয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত দু:খজনক। তারা আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে যার জন্য জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের মত বলিষ্ঠ,
দু:সাহসী ও আদর্শিক নেতা বড়ই প্রয়োজন। তিনি নিজের জীবন উজাড় করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।তিনি অসম্প্রাদায়িক,গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ চেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে তাহলে তার আত্মা শান্তি পাবে।
রাজনীতির লিজেন্ড আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ মানুষের কাছে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।কে এই রাজ্জাক আজকের প্রজন্ম জানতে হবে।তিনি কে? কি তার পরিচয়? তিনি কে? কেন তিনি জনতার নেতা?তিনি মুক্তিযুদ্ধের কি?কি জন্য তিনি জনপ্রিয়? কেন তিনি জাতীয় বীর? কেন বারবার নির্বাচিত সাংসদ? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য তার ইতিহাস জানতে হবে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের।নতুন প্রজন্মের নিকট তার ইতিহাস জানতে হবে, পড়তে হবে।তিনি একজন কিংবদন্তি জননেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,জাতীয় বীর, বিরল একজন সুপুরুষ ও মহান ব্যক্তিত্ব এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কিডনি ও লিভারের জটিলতা নিয়ে ২০১১ সালে ২১ ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি বনানী কবরস্থানে আজও শায়িত আছেন।এই জনদরদী, গণ মানুষের ভালবাসার মানুষ, ইতিহাসের নায়ক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,জনপ্রিয় প্রতিনিধি ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির লিজেন্ড আব্দুর রাজ্জাক আজও আমাদের হৃদয়ে চির অম্লান ও শ্রদ্ধার পাত্র।আজকের দিনে তার আদর্শে শানিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে চলতে হবে তাহলে তার আত্মা শান্তি পাবে।
যুগে যুগে তিনি মানুষের নিকট শ্রদ্ধা নিয়ে বেচে থাকবে।ইতিহাসের নায়ক আব্দুর রাজ্জাক আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর হিসেবে আজীবন মানুষের হৃদয়ে মনের কোটায় আছে, থাকবে। তার কর্ম তাকে বাচিয়ে রেখেছে আমাদের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বেচে আছে,থাকবে।
লেখক – তসলিম উদ্দীন রানা
সদস্য,অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক।
MD Baizid Sarkar’