
অনলাইন ০৪ জুলাই, ২০২৬
কিংবদন্তি জননেতা তোফায়েল আহমেদ শুধু গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক ছিলেন না ইতিহাসের
অবিচ্ছেদ্য অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা
কিংবদন্তি জননেতা তোফায়েল আহমেদ ( জন্ম -১৯৪৩ সালে ২২ অক্টোবর, মৃত্যু – ২০২৬ সালে)।
ছাত্রনেতা থেকে জননেতা। জননেতা তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দিকপাল,৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান মহানায়ক,সাবেক মন্ত্রী,বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, বারবার নির্বাচিত সাংসদ,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, ডাকসু ভিপি।
বাঙালী ইতিহাসের নায়ক তোফায়েল আহমেদ এর রাজনৈতিক ইতিহাস গৌরব উজ্জ্বল। তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ। তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এদেশের প্রতিষ্ঠায় যে কজন ছাত্রনেতা নাম লিপিবদ্ধ আছে তার মধ্যে তিনি অন্যতম দিকপাল। এমন কিছু নাম আছে যারা কেবল কোনো দলের প্রতিনিধি নন, বরং একটি যুগের প্রতীক। তোফায়েল আহমেদ সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিচালনা পর্যন্ত — প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবন যেন বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসেরই এক জীবন্ত অধ্যায়। তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনিই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।এদেশের গঠনে তার অবদান অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য।
জননেতা তোফায়েল আহমেদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না ৭১ পরে দেশ গঠনে তার অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। ছাত্রনেতা থেকে জননেতা যিনি ইতিহাস তৈরি করেছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল ভূখণ্ডে প্রতিরোধের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, একজন বিশ্বস্ত সহচর যিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই মানুষটির রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনীতির চড়াই-উতরাইয়ের এক নিখুঁত দর্পণ।ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাসের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার অবদান অতুলনীয়। তিনি নিজ এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছে। একটা দ্বীপ অঞ্চলে যে উন্নয়ন করেছে তা দেখার মত।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর, দ্বীপজেলা ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তাঁর পিতা মৌলভী আজহার আলী এবং মাতা ফাতেমা বেগম ছিলেন ধর্মীয় ব্যক্তি। নদীমাতৃক এই দ্বীপের মাটি ও জলের সাথে তাঁর শৈশবের স্মৃতি যেন তাঁর ভেতরে এক গভীর জনমানবিক বোধ তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী জীবনে তাঁকে গণমানুষের নেতায় পরিণত করতে সাহায্য করেছিল।জন্মগ্রহণ থেকে তিনি সংগ্রাম করেছে বিধায় জীবন সংগ্রামে এক নির্ভীক ছাত্রনেতা থেকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা তোফায়েল আহমেদ।
১৯৬৪ সালে ধনিয়ার মফিজুল হক তালুকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আনোয়ারা বেগমের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী।
বরিশাল বিএল কলেজ ছাত্রজীবনেই তোফায়েল আহমেদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বীজ অঙ্কুরিত হয়। ১৯৬২ সালে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজে পড়ার সময় তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখেন ডাকসু নির্বাচনে। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। ডাকসুর এই পদ থেকেই তিনি সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন, যা বাংলাদেশের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যা ইতিহাসের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ঊনসত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে ইতিহাসের মহানায়ক১৯৬৯ সালটি তোফায়েল আহমেদের জীবনে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে যখন সমগ্র পূর্ব বাংলা জ্বলে উঠেছিল, তখন তোফায়েল আহমেদ চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে তিনি এই গণঅভ্যুত্থানের মাঠের নেতৃত্ব দেন।
আর সফল ছাত্রনেতা হিসেবে বিজয় অর্জন করেছে। সেই উত্তাল আন্দোলনের তীব্রতায় ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। পরদিন, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ইতিহাসের সেই মহামুহূর্তটি আজও বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। গণঅভ্যুত্থানের সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশেই ১৯৬৯ সালে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সংগঠক ও জাতীয় বীর।১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রনেতা থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তোফায়েল আহমেদ। সেই বছরই মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নিজ জেলা ভোলা থেকে।সেটা ছিল তোফায়েল আহমেদ এর স্মরণীয় সময় আর জাতীয় রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।
যখন তিনি নির্বাচন করতে এলাকায় গিয়ে তার পিতার কাছে কদমবুসি করতে যাই।তার পিতা জিজ্ঞেস করে কোথায় নির্বাচন করবি,তিনি বলেন এলাকায় এম এন এ নির্বাচন মানে তিনটা আসন নিয়ে, তার পিতা অবাক তাকিয়ে রয়ে ছেলের জন্য দোয়া করলেন। সেই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জিতে। নির্বাচনে জিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসুরী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পিএস নিয়োগ পান।বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষ পরিনত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের সংগঠক হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েন।তিনি সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব দিয়ে মুজিব বাহিনীকে আধুনিক ভাবে গড়ে তুলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। ঐতিহাসিক ‘মুজিব বাহিনী’র চার অঞ্চলভিত্তিক প্রধানের একজন ছিলেন তিনি। তাঁর দায়িত্বে ছিল দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল বরিশাল,পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চল নিয়ে গঠিত। তার নেতৃত্ব দক্ষিণ -পশ্চিম অঞ্চলে অত্যন্ত দক্ষতার ও সাহসীকতার সাথে পরিচালনা করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনা সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জননেতা তোফায়েল আহমেদ। তার ব্যবসা বান্ধব নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।তিনি জাহাজ শিল্প প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে ২০০৮-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত থাকেন। দেশের শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে তাঁর এই মন্ত্রিত্বকালীন অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তিনি ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার ও নতুন ইন্ড্রাষ্ট্রি গঠনে গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী রাজনীতির লিজেন্ড ও কিংবদন্তি জননেতা তোফায়েল আহমেদ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।দীর্ঘদিন দলীয় পদে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন — জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
জননেতা তোফায়েল আহমেদের জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনটি বিশেষ কারণে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।তিনি অমরত্ব লাভ করবে।প্রথমত, ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর ভূমিকা — যা একটি জাতির ভাষিক ও আবেগিক পরিচয়ের সাথে সম্পৃক্ত। দ্বিতীয়ত, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব যা আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিমাঞ্চলের সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান যা
লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামকে একটি সুসংগত রূপ দিয়েছিল।এই তিনটি কারণে ইতিহাস তাকে হাজার হাজার বছর ধরে মনে রাখবে।তিনি এসব কাজের জন্য আজীবন বাঙালীর হৃদয়ে বেচে আছে, থাকবে।
তিনি ছিলেন সেই বিরল রাজনীতিবিদদের একজন, যাঁরা ছাত্র রাজনীতির উত্তাল তরঙ্গ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের মঞ্চ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পেরেছিলেন।ভোলার মাটির সন্তান হয়ে ঢাকার ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার পরেও নিজ জেলার মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কখনো কমেনি।তিনি ভোলার সিংহপুরুষ। তিনি ভোলার মানুষের নিকট দ্বীপবন্ধু হিসেবে খ্যাত। আজীবন ভোলার জনগণ তাকে দ্বিপবন্ধু বলে ডাকে।ভোলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার অবদান অতুলনীয়।
জননেতা তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুতে দেশের ক্ষতি হল আর রাজনৈতিক অঙ্গন শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ব্যবসায়ী ও রাজনীতির ব্যক্তিরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক,শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তাঁর সহকর্মী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উভয়ের কাছ থেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি আসে যা তাঁর ব্যক্তিত্বের ব্যাপকতারই প্রমাণ।তিনি এমন একজন কিংবদন্তি জননেতা তার জন্য সাধারণ মানুষ থেকে করে সবাই চিন্তা করেছে। তিনি দেশ ও জাতির জন্য অনেক কিছু করেছে তার প্রমাণ।
জননেতা তোফায়েল আহমেদ একটি নাম নয় ইতিহাস। বাঙালির ইতিহাসে সব জায়গায় তার অবাধ বিচরণ। তিনি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি প্রজন্মের সাহসের প্রতীক,আদর্শের প্রতীক ও দেশপ্রেমিকের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যারা দেশের জন্য কাজ করেছে তাদের মধ্যে তিনি প্রথম সারির সংগঠক। স্বাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র ধরেছে — তোফায়েল আহমেদ একজন কিংবদন্তি ও জাতীয় বীর। রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ কণ্ঠের উচ্ছ্বাসের মাঝে যে মানুষটি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নিজেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমোচনীয় অক্ষরে লেখা নাম হয়ে গেছেন।ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষর হয়ে অমর।
মুক্তিযুদ্ধের পশ্চিমাঞ্চলের সংগঠক থেকে নয়বারের সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী — তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক যাত্রা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসের একটি অপরিহার্য অধ্যায়। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন তাঁর কর্ম, তাঁর সংগ্রাম এবং এক অদম্য জাতির স্মৃতিতে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি যা চিরকাল বেঁচে থাকবে।আগামী প্রজন্মের জন্য তিনি রাজনৈতিক লিজেন্ড ও ছাত্র রাজনীতির আইকন হিসেবে যুগ যুগ ধরে বেচে থাকবে।
৭৫ এর পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদকারী হিসাবে জননেতা তোফায়েল আহমেদ ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ।তিনি সেই কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছে। স্বৈরচ্ছার জিয়া,এরশাদ,খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ ১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে দলের ক্রাইসিস মোমেন্টে এর দায়িত্ব পালনকালন করতে গিয়ে জেল,জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তবুও তিনি দুর্বার গতিতে যাওয়া একজন আদর্শিক কিংবদন্তি জননেতা।তার নেতৃত্ব সব আন্দোলন সংগ্রামে বিজয়গাঁথার ইতিহাস রচিত হয়েছে। তিনি দেশপ্রেমিক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসুরী হিসেবে দলের দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজ করেছে বিধায় দল বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় আরোহণ করেছে।
ইতিহাসের নায়ক বঙ্গবন্ধুর তোফায়েল আহমেদ রাজনৈতিক জীবনে অনেক নেতাকর্মী সৃষ্টি করেছে।
দেশের প্রতিটি অঞ্চলে তার নেতাকর্মী রয়েছে।তার নেতাকর্মীরা দলের সম্পদের পরিণত হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
জীবনের শেষ অধ্যায় ও প্রয়াণ জীবনের শেষ বছরগুলোতে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে আক্রান্ত হন তোফায়েল আহমেদ। ২০২৬ সালের ১ জুন, সোমবার বিকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা তোফায়েল আহমেদ। তার প্রথম জানাযা ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে ও দ্বিতীয় জানাযা ভোলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষ লক্ষ লোকে দ্বিতীয় জানাযা ও নিজ গ্রামের মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে পিতা-মাতার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
যুগে যুগে তার কর্ম তাকে বাচিয়ে রেখেছে, তিনি আজীবন বাঙালির হৃদয়ে বেচে আছে, থাকবে। তিনি বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তিনি ইতিহাসের নায়ক, তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দিকপাল, তিনি দেশপ্রেমিক ও বঙ্গবন্ধু প্রেমিক এক অকুতোভয় সংগ্রামের দু:সাহসী নেতা।রাজনীতির অন্যতম দিকপাল হিসেবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছে। বাংলাদেশ নামক গঠনে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবে প্রথম সারির সংগঠক ছিলেন। তিনি ছাত্র-যুবক- স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে অসামান্য দায়িত্ব পালন করে আমাদেরকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে। তিনি আমাদের জাতীয় বীর, তিনি আমাদের নেতাদের নেতা। তিনি আমাদের ইতিহাসের নায়ক। আপনার প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম ও শ্রদ্ধা। আপনি আমাদের ইতিহাস, আপনি আমাদের বীর। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা রইল।।
লেখক – তসলিম উদ্দীন রানা
সদস্য,অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
সাবেক ছাত্রনেতা,লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক।





















