, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ নিয়ে এতো অনুযোগ?

  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ চীনমুখী হয়ে যাচ্ছে
বাংলাদেশ হয়ে গেছে পাকিস্তানমুখী
বাংলাদেশ ভারতমুখী
এইসব মন্তব্য কানে আসে, চোখে পড়ে। শুনতে, দেখতে ভালো লাগে না। দেশটার প্রতি মায়া থাকলে অপমানজনক মনে হয়। যারা বলে, লেখে তাদের বিচার বিশ্লেষণে মনে প্রশ্ন জাগে, ব্যাঙের মগজ নিয়ে কি জন্মগ্রহন করেছি! ওদের এইসব মনে হয়, আমার মনে হয় না কেনো!
বাংলাদেশ কে আমার বাংলাদেশই মনে হয়, মোটেও কোনো দেশমুখী মনে হয় না। মনে হয় না তার জন্য গর্বিতবোধ করি। দেশ হরেকরকম মানুষের। ভাবনাও বিচিত্র। সকল ভাবনায় যদি বিশ্বাস করতে হয়, ঘর থেকে বেরিয়ে একদিনও শান্তি নিয়ে ঘরে ফেরা হবে না।
মানুষের মন একটা রান্নাঘর। অনেক মনের রান্নাঘরে সাতদিন, তিরিশ দিনের মাস বা বারো মাসের বছর জুড়ে শুধু মন্দের ঝোল দিয়েই মন্তব্য রান্না হয়। সে ঝোলও আবার লবনহীন, শুধু ঝাল দিয়েই রান্না করা।
যে দেশ আমার, যে দেশ আত্মার অংশ, তার চরিত্র সম্পর্কে হুট করে কোনো মন্তব্য করে অনেক মনে সুখ শান্তি জোটে কিন্ত বহু জনের কাছে দেশ সম্পর্কে মন্দ মন্তব্য শোনা স্বস্তির নয়। বেদনার, হতাশারও।
নদীর থাকে দুটো তীর। রাজনৈতিক দলের কাছে মন বন্ধক দিয়ে রাখা মানুষদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, তারা চেনে জানে এবং বুঝিয়ে বিশ্বাস করাতে চায় নদী হয় এক তীরের।
দলকে মনের বারো আনা দিয়ে যারা মাত্র চার আনা প্রেম দেশের জন্য রাখে নিশ্চয়ই তারা দেশের নয়, দলের মানুষ। যারা বারো আনা প্রেমের পাল্লায় পড়ে দেশ বিশ্লেষন, মানুষকে ব্যখ্যা করে, সে ব্যখ্যা একচোখা, একপেশে হওয়ারই কথা।
পঞ্চান্ন বছর সময় পেয়ে আমরা দেশের হয়ে উঠতে পারিনি। দেশ তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে না।
যখন দেশকে অন্য দেশমুখী বলে নিজেদের কাতরতা প্রকাশ করি দেশ তখন হাসে। হাসে আর মনে মনে বলে, কবে মানুষ হবি?
তোদের পূর্বপুরুষরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছে, দেশ পেয়েছিস “ফ্রী”তে তাই মায়া জন্মায়নি। দেশকে মনে করিস ভাড়ার বাসা।
তোরা যেদিন দেশকে নিজের বলে ভাবতে পারবি, দেশ নিয়ে এতো অনুযোগ, অভাব অভিযোগ থাকবে না।
Afzal Hossain’s Post

Ahsan Faroque

কিছু লেখা পড়া হয় চোখ দিয়ে, কিছু লেখা হৃদয় দিয়ে। এটি তেমনই একটি লেখা।
দেশকে ভালবাসা মানে শুধু মানচিত্রকে ভালোষবাসা নয়; তার মানুষ, তার ভিন্নমত, তার আশা-হতাশা—সবকিছুকেই আপন করে নেওয়া। নদীর যেমন দুই তীর থাকে, তেমনি একটি দেশেরও থাকে বহু মত, বহু পথ, বহু কণ্ঠ। কিন্তু নদীর পরিচয় কোনো এক তীরে নয়—তার প্রবাহে।
আপনার লেখায় সেই প্রবাহের কথাই যেন ধ্বনিত হয়েছে। দল বদলায়, সময় বদলায়, ক্ষমতার পালা বদলায়; কিন্তু দেশ থেকে যায় মানুষের সম্মিলিত স্বপ্ন হয়ে। সেই স্বপ্নকে যদি আমরা সংকীর্ণতার বেড়ায় না বেঁধে মমতার আলোয় দেখতে শিখি, তবে হয়তো একদিন সত্যিই বলতে পারব—বাংলাদেশ কোনো দেশমুখী নয়, বাংলাদেশ বাংলাদেশমুখী।
এমন মননশীল ও আত্মসমালোচনামূলক লেখার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। 🇧🇩
  • Reply

Sharafat Kayes

আপনার লেখার স্বকীয়তা, গভীরতা অনন্য।
৫২ ভাষা আন্দোলন, ৭১ মহান স্বাধীনতা উল্লেখ করেছেন।
২৪ এর জুলাই বলা হয়নি। আমাদের সন্তানেরা যারা ঐ সময় আন্দোলনে মাঠে ছিল আমার দৃষ্টিতে তাঁরাই শর্তহীনভাবে বাংলাদেশ পন্হী।
আর আমরা- চলতি হাওয়ার পন্হী।
জনপ্রিয়

দেশ নিয়ে এতো অনুযোগ?

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ চীনমুখী হয়ে যাচ্ছে
বাংলাদেশ হয়ে গেছে পাকিস্তানমুখী
বাংলাদেশ ভারতমুখী
এইসব মন্তব্য কানে আসে, চোখে পড়ে। শুনতে, দেখতে ভালো লাগে না। দেশটার প্রতি মায়া থাকলে অপমানজনক মনে হয়। যারা বলে, লেখে তাদের বিচার বিশ্লেষণে মনে প্রশ্ন জাগে, ব্যাঙের মগজ নিয়ে কি জন্মগ্রহন করেছি! ওদের এইসব মনে হয়, আমার মনে হয় না কেনো!
বাংলাদেশ কে আমার বাংলাদেশই মনে হয়, মোটেও কোনো দেশমুখী মনে হয় না। মনে হয় না তার জন্য গর্বিতবোধ করি। দেশ হরেকরকম মানুষের। ভাবনাও বিচিত্র। সকল ভাবনায় যদি বিশ্বাস করতে হয়, ঘর থেকে বেরিয়ে একদিনও শান্তি নিয়ে ঘরে ফেরা হবে না।
মানুষের মন একটা রান্নাঘর। অনেক মনের রান্নাঘরে সাতদিন, তিরিশ দিনের মাস বা বারো মাসের বছর জুড়ে শুধু মন্দের ঝোল দিয়েই মন্তব্য রান্না হয়। সে ঝোলও আবার লবনহীন, শুধু ঝাল দিয়েই রান্না করা।
যে দেশ আমার, যে দেশ আত্মার অংশ, তার চরিত্র সম্পর্কে হুট করে কোনো মন্তব্য করে অনেক মনে সুখ শান্তি জোটে কিন্ত বহু জনের কাছে দেশ সম্পর্কে মন্দ মন্তব্য শোনা স্বস্তির নয়। বেদনার, হতাশারও।
নদীর থাকে দুটো তীর। রাজনৈতিক দলের কাছে মন বন্ধক দিয়ে রাখা মানুষদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, তারা চেনে জানে এবং বুঝিয়ে বিশ্বাস করাতে চায় নদী হয় এক তীরের।
দলকে মনের বারো আনা দিয়ে যারা মাত্র চার আনা প্রেম দেশের জন্য রাখে নিশ্চয়ই তারা দেশের নয়, দলের মানুষ। যারা বারো আনা প্রেমের পাল্লায় পড়ে দেশ বিশ্লেষন, মানুষকে ব্যখ্যা করে, সে ব্যখ্যা একচোখা, একপেশে হওয়ারই কথা।
পঞ্চান্ন বছর সময় পেয়ে আমরা দেশের হয়ে উঠতে পারিনি। দেশ তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে না।
যখন দেশকে অন্য দেশমুখী বলে নিজেদের কাতরতা প্রকাশ করি দেশ তখন হাসে। হাসে আর মনে মনে বলে, কবে মানুষ হবি?
তোদের পূর্বপুরুষরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছে, দেশ পেয়েছিস “ফ্রী”তে তাই মায়া জন্মায়নি। দেশকে মনে করিস ভাড়ার বাসা।
তোরা যেদিন দেশকে নিজের বলে ভাবতে পারবি, দেশ নিয়ে এতো অনুযোগ, অভাব অভিযোগ থাকবে না।
Afzal Hossain’s Post

Ahsan Faroque

কিছু লেখা পড়া হয় চোখ দিয়ে, কিছু লেখা হৃদয় দিয়ে। এটি তেমনই একটি লেখা।
দেশকে ভালবাসা মানে শুধু মানচিত্রকে ভালোষবাসা নয়; তার মানুষ, তার ভিন্নমত, তার আশা-হতাশা—সবকিছুকেই আপন করে নেওয়া। নদীর যেমন দুই তীর থাকে, তেমনি একটি দেশেরও থাকে বহু মত, বহু পথ, বহু কণ্ঠ। কিন্তু নদীর পরিচয় কোনো এক তীরে নয়—তার প্রবাহে।
আপনার লেখায় সেই প্রবাহের কথাই যেন ধ্বনিত হয়েছে। দল বদলায়, সময় বদলায়, ক্ষমতার পালা বদলায়; কিন্তু দেশ থেকে যায় মানুষের সম্মিলিত স্বপ্ন হয়ে। সেই স্বপ্নকে যদি আমরা সংকীর্ণতার বেড়ায় না বেঁধে মমতার আলোয় দেখতে শিখি, তবে হয়তো একদিন সত্যিই বলতে পারব—বাংলাদেশ কোনো দেশমুখী নয়, বাংলাদেশ বাংলাদেশমুখী।
এমন মননশীল ও আত্মসমালোচনামূলক লেখার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। 🇧🇩
  • Reply

Sharafat Kayes

আপনার লেখার স্বকীয়তা, গভীরতা অনন্য।
৫২ ভাষা আন্দোলন, ৭১ মহান স্বাধীনতা উল্লেখ করেছেন।
২৪ এর জুলাই বলা হয়নি। আমাদের সন্তানেরা যারা ঐ সময় আন্দোলনে মাঠে ছিল আমার দৃষ্টিতে তাঁরাই শর্তহীনভাবে বাংলাদেশ পন্হী।
আর আমরা- চলতি হাওয়ার পন্হী।