
অনলাইন ০৪ জুলাই, ২০২৬
এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জুলাই মাসে বামপন্থীরা সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে—যেমন অ্যাক্টিভিজম, মিছিল, রাজপথে আন্দোলন, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও অনলাইন অ্যাক্টিভিজম—সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে বামপন্থীদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। বামপন্থীদের ‘ক্রিমিনালাইজ’ করা হয় এবং ‘শাহবাগী’ নামক ট্যাগ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়। অথচ যারা এই কাজটি করেছে, তাদের জুলাইয়ের আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদানই ছিল না।
স্নাইপারের তদন্তের কথা উঠলেই উত্তেজনা বেড়ে যায়! কারন স্নাইপারের রহস্য উন্মোচন করলেই বেড়িয়ে আসবে খুনী কে বা কারা?? সাধারণ মানুষ শ্রমিক নারী ও শিশুদের পাশাপাশি ছাত্রদের খুন করলো কে??
স্নাইপার রাইফেলের রহস্য উন্মোচন করা হোক।
প্রতারণার জুলাই এমনই। প্রশ্ন তুললেই গেল-গেল করে উঠে। সত্যকে ভয় পায়। কারণ ভিত্তিটাই মিথ্যার উপর দাঁড়ানো। জুলাই দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করার খেলায় নেমেছে বিএনপি জামাত। কিন্তু মিথ্যা দিয়ে সত্যকে যতই আড়াল করার চেষ্টা হোক সত্য সূর্যের মতো উঁকি দিবেই।
জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, নানাভাবেই হচ্ছে। জুলাইয়ের মাহাত্ম্য সবার আগে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে জুলাইকে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হীন চেষ্টার মধ্য দিয়ে। কিন্তু জুলাই আমাদের সবার, জুলাই পতিত হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রতিটি জনতার। জুলাইয়ে যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে, জুলাই যেমন তাঁর, জুলাই একইভাবে পতিত হাসিনার শাসনামলে গুম হয়ে যাওয়া, জেল খাটা, বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়া লড়াকুর; জুলাইকে জিইয়ে রেখে, এগিয়ে নিয়ে, সফল করার নেপথ্য কারিগরদের।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনোভাবেই শুধু এক-দেড় মাসের আন্দোলনের ফসল না, দীর্ঘ প্রায় পনেরো বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের চুড়ান্ত পরিণতির নাম জুলাই। কিন্তু এই জুলাই নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, যারা জুলাইকে সফল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নেপথ্যে থেকেছেন, তাঁদের ছোট করা হয়েছে। ইতিহাস বলে প্রতিটি আন্দোলন নিয়েই কৃতিত্বের অপ-রাজনীতি হয়, তাই বলে সত্য মুছে যায় না। জুলাই যেমন আমাদের বেদনার অশ্রু, তেমনি মুক্তির একরাশ অফুরাণ হাসি।
জুলাই নিয়ে ক্রেডিটের রাজনীতি জুলাইকে ছোট করতে করতে এখন আওয়ামী শক্তির কাছে সহজে খারিজযোগ্য করে তুলেছে। মনে রাখতে হবে, জুলাইকে খাটো করলে খাটো হয়ে যাবে দেশের মুক্তিকামী সকল মানুষ, খাটো হয়ে যাবে দীর্ঘ পনেরো বছরের লড়াই-সংগ্রামও।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে দক্ষিণপন্থীর নৈরাজ্যের ইতিহাস। যে গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের স্পিরিট ধ্বংস করা হয়েছে, সেটাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নক্সা। এ-র দায়দায়িত্ব বামপন্থীদের নিতে হবে। বিএনপির নিকট ছিল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। যার ফাঁদ থেকে বিএনপি রক্ষা পাবে না। আসন্ন গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত রূপান্তর থেকে জনগণের বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করাই হবে রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের লড়াই।
আসুন, আমরা সঠিক ইতিহাস তুলে ধরি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বামপন্থীদের অংশ গ্রহণ থাকলেও গনঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব ডানপন্থী জোটের ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ শক্তির হাতে চলে গিয়েছিল।। আমাদের সবার উচিত এটার কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতের জন্য সচেতন হওয়া।।





















