, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯৭১ সালের ১ লা আগষ্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার” বাংলাদেশ জর্জ হ্যারিসনে

  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

১৯৭১ সালের ১ লা আগষ্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ৪০ হাজার দর্শক ও ” বাংলাদেশ ” নামে একটি গান পৃথিবীর প্রায় ১৫ কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছিলো।
” বাংলাদেশ ” গানের রচয়িতা জর্জ হ্যারিসনে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতেই কিংবদন্তি সেতার বাদক রবিশঙ্করের সেতার বেজে উঠলো। বব ডিলান সুরে সুর মেলাতেই বেজে উঠলো এরিক ক্ল্যাপটন এর গীটার । এক মুহুর্ত দেরী না করে রিঙ্গো স্টার ড্রাম পেটানো শুরু করলেন। সমগ্র বিশ্বের বাঙালিরা যেন এক সুরে গেয়ে উঠলো বাঙালির মুক্তির গান। ইচ্ছা করলে আপনারাও এখন এই গানের তালে সুর মেলাতে মেলাতে বলুন –
𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 , 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡
𝐖𝐡𝐞𝐫𝐞 𝐬𝐨 𝐦𝐚𝐧𝐲 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐚𝐫𝐞 𝐝𝐲𝐢𝐧𝐠 𝐟𝐚𝐬𝐭
শেষ লাইন ছিল:
𝐑𝐞𝐥𝐢𝐯𝐞 𝐭𝐡𝐞 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐨𝐟 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡
𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 , 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 .
” বাংলাদেশ ” গানে বাংলাদেশের মুক্তি এসেছিল। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।এভাবেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ ও একটি লাল সবুজের পতাকা। এর আগে পৃথিবীতে বাঙালির কোন দেশ ছিলো না। আজ পৃথিবীতে বাঙালির একটা দেশ আছে। কিন্তু সেই দেশটির বাঙালিয়ানা , মানচিত্র, মুক্তিযুদ্ধ , সংবিধান সব একে একে মরে যাচ্ছে। ঠিক তার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের বাঙালি , পশ্চিমবঙ্গ আসম ও ত্রিপুরার বাঙালি সহ নারী ও পুরুষ সবাই এক হয়ে গাইছে –
” আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে” ।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এক বিউটি পাল আবার সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। আমাদের জাতি পরিচয় , আমাদের শেকড় , আমাদের বাঙালিয়ানা , শালীনতা, মানচিত্র ও স্বাধীনতা সব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আবার জেগে উঠেছে বাঙালি , জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। এই এক নবজাগরণের গল্প। নবজাতকের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
সিলেটের বিউটি পাল তার ” শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে ” এক গানের রিলস দিয়ে পৃথিবীতে ছটিয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৩৫ কোটি বাঙালিকে আবার এক সুতোয় বেঁধে নিয়েছেন। সেই সাথে জেগে উঠেছে সাড়ে পাঁচ বছরের বাঙালির হারানো সংস্কৃতি। জেগে উঠলো বাংলাদেশের নারী , জেগে উঠলো বাংলাদেশ। এই যেন ইতিহাসের আরেক পুনরাবৃত্তি। আবারো সারাবিশ্ব একেবারের জন্য প্রমাণ পেলো ” বাংলাদেশের ডিএনএ হচ্ছে বাঙালি” ।
বাঙালি নারীদের সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো শাড়ি পরে আমাদের উঠোনে রোজ সন্ধ্যায় মায়েদের আড্ডা বসতো ২০১০ সালেও।বাড়ির উঠোন ভরে যেতো শাড়ি পরা নারীদের পদচারণায়। কে কত সুন্দর করে শাড়ি পরবে , সেই প্রতিযোগিতায় লেগে যেতো। বাঙালিদের প্রাণের এসব আড্ডা বাংলাদেশের মধ্যে কবর দিয়েছে একদল মৌলবাদী জামায়াত শিবির।।
আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে আমাদের নানী , দাদী , ফুফু , খালা সবাই শাড়ি পড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাওয়াতে যেতো। আমাদের পরিবারের মেয়েরা থ্রিপিস পরে খুব সুন্দর সেজে অনুষ্ঠানে যেতো। কোন মেয়ে কোনদিন ইভটিজিং ও ধর্ষণের শিকার হয়নি। ভাই ও বোন পরম শ্রদ্ধা ও পারিবারিক শিক্ষার আমাদের একটি খুব সুন্দর সমাজ ছিলো। রাতের আঁধারে কোন নারী বিপদে পড়লেও সে ছিল সকল পুরুষের কাছে নিরাপদ।
👉এমন বাংলাদেশে হঠাৎ জান্নাতে যাওয়ার নাচানাচি শুরু হলো কেন ⁉️
২০১৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একদল তৌহিদী যৌনতার আবির্ভাব হলো। শাড়ি পরা নারী দেখলেই তারা রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত ও বাজে ব্যবহার করতে শুরু করলো। শাড়ি পরা মায়ের সাথে ছেলে হেঁটে গেলেও ওরা বাজে ইঙ্গিত করতো। এক এক করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের নারীদেরকে ওরা বস্তাবন্দি করে ফেললো। এখন আর বাংলাদেশের উঠোন গুলোতে রোজ সন্ধ্যায় মায়েদের মেলা বসে না। ছোট ছোট মেয়েরাও পোশাক পরে উঠোনে খেলতে ভয় পায়। এখন আর আমাদের নারীরা ( মা ও বোনেরা) নিজেদের পছন্দের পোশাক পরে নিরাপদে রাস্তায় হাঁটতে পারে না।
হঠাৎ গত দুই দশকে বাংলাদেশে একদল নারী ( কালো শয়তান ) আবির্ভাব হলো। তাবলীগের নাম করে ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে জামায়াত শিবিরের টাকায় মানুষকে হেদায়েত দিতে শুরু করলো। একদল টিকটক ও ওয়াজী হুজুরের আবির্ভাব হলো । কথায় কথায় তারা মাঠে ময়দানে “নারীদের হাত ও মুখ দেখা পাপ” এই জাতীয় ফতোয়া দিতে শুরু করলো। নিজেদের কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত হতে শুরু করলেন মা ও বাবারা। বাংলাদেশের সাড়ে আট কোটির নারীকে এই আতঙ্ক পুঁজি করে জামায়াত শিবির সহ মৌলবাদী , দেড় ফুটি ও তৌহিদী যৌনতা বাংলাদেশের মধ্যে ” মধ্যযুগীয় বর্বরতা ” শুরু করে দিলো। গত বিশ বছরে এই তৌহিদী যৌনতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নারী ধর্ষণ ও শিশু বলোতকার। আজ আপনার আদরের শিশু সন্তান পর্যন্ত বাংলাদেশে নিরাপদ নয়। তাই বলছি –
” বিউটি পাল এর মতো ভয়কে জয় করুন।”
এই বাংলাদেশ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বাংলাদেশ।এই বাংলাদেশ ডায়ানামাইট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনা দত্তের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সুহাসিনী গাঙ্গুলী ও লীলা নাগের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ সেতারা বেগম , তারামন বিবি ও গলা মিত্রের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী , সাজেদা চৌধুরী ও শহীদ রুমীর মা জাহানারা ইমামের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ সাবিনা ইয়াসমিন , ইন্দ্রানী সেন ও রেজোওয়ানা চৌধুরী বন্যার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ বিউটি পালের বাংলাদেশ।
আমার কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই। কিন্তু আপনাদের যাদের ঘরে আমাদের রাজকন্যারা বড় হচ্ছে , তাদের নিরাপদ এক বাংলাদেশের কথা কখনো ভেবেছেন ?
মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন ? অথচ , জেতাটা খুবই সহজ ।
➡️ বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী ৩ কোটির অধিক কন্যা শিশু আছে।
▪️ আমাদের কন্যাদের কপালে বড় করে টিপ দিবেন।
▪️ মা হয়ে মেয়ের পায়ে আলতা ও নুপুর পরিয়ে দিবেন।
▪️ ছোট ছোট কন্যা শিশুদের শাড়ি পরিয়ে রাজকন্যার মতো তৈরি করবেন।
▪️ আমাদের কন্যাদের ঠোঁটে লিপিস্টিক দিবেন।
▪️ কন্যাদের চুলে বেলী ফুলের মালা নিজ হাতে গেথে দিবেন।
▪️ বাবা হয়ে কন্যাদের জন্য রেশমী চুড়ি কিনবেন ।।
আমাদের ৩ কোটি কন্যার কপালে টিপ দেখে পাকিস্তান জিন্দাবাদ করাচী চলে যাবে। আমাদের মেয়েরা যখন দলে দলে শাড়ি পরে , নুপুর পায়ে , খোলা চুলে আবার সাহস করে হাঁটতে শুরু করে তখন এই তৌহিদী যৌনতা বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে। খুবই ছোট্ট একটি জীবন মানুষের। এই ছোট্ট জীবনে আদরের কন্যা সন্তানকে ” কালো শয়তান ” বানিয়ে কেন চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখছেন ❓
আমাদের মায়েরা , দাদীরা শাড়ী পরে পাপ না হলে আমাদের রাজকন্যাদের অপরাধ কোথায় ?
আমাদের দাদী, নানী ও গ্রামের মহিলারা এক হয়ে ঘরের উঠোনে পুঁথি গান , জারি গান , সারি গান গেয়েছে। ইউসুফ – জুলেখা , লাইলী ও মজনুর প্রেমের উপাখ্যান পড়েছে। তখন পাপ না হলে এখন কেন হবে?
গত বিশ বছরে বাংলাদেশের মধ্যে কি নতুন একদল মুসলমান মঙ্গল গ্রহ থেকে এলিয়েন হয়ে এসেছে?
কোরআন ও হাদিসের নতুন ব্যাখা নিয়ে এসেছে গলা টিপে ধরতে?
এরা এলিয়েন নয় , এরা নব্য যুগের শয়তান। এরাই ধর্মব্যাবসায়ী, এরাই বিহারী। এদের রুখে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আপনার আমার সবার।
👉 নারী হয়ে জন্মেছে বলে আমাদের কন্যা সন্তানরা কি মানুষ নয়?
👉 নারী হয়ে জন্মেছে বলে নারীদের স্বাদ আহ্লাদ কবর দিতে হবে 👏
👉 বাংলাদেশে নারী হয়ে জন্ম নেয়া কি পাপ?
দয়া করে সবাই বিবেকের আয়নার সামনে একবার দাঁড়ান। বাসায় গিয়ে নিজেদের আদরের কন্যা সন্তানদের হাতটা শক্ত করে ধরুন। বাবা ও মা হয়ে ওদের কাছে ক্ষমা চান। আমাদের মায়েরা যদি থ্রি পিস ছোটবেলায় মাঠে ঘাটে খেলতে পারে , শাড়ি পরে স্কুলে যাওয়ার গল্প বলতে পারে , তবে গত বিশ বছরে বাংলাদেশে যে কন্যা সন্তানদের জন্য তাদের কেন ” কালো শয়তান ” বানিয়ে ঘরের চার দেয়ালে বন্দী করে রাখা হবে?
সবাই নিজ নিজ কন্য সন্তানদের হাত ধরে অন্তত একবার ক্ষমা চান। রাজকন্যাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলুন –
” গত বিশ বছরে তোমাদের উপর অনেক অন্যায় হয়েছে। আর হতে দিবো না।এই পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে যতটুকু অধিকার পুরুষের আছে , ঠিক ততটুকু অধিকার বাংলাদেশের প্রতিটি রাজকন্যার আছে। বাবা ও মা হয়ে কন্যা সন্তানদের আর অধিকার বঞ্চিত করবেন না । আমাদের কন্যারা হাসবে , নাচবে , গাইবে , এসব মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে তাদের জন্মগত অধিকার। “
স্যালুট বিউটি পাল। আপনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি বাঙালিকে এক করে , ওদের চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন –
“History repeats itself.”
আগামীর বাংলাদেশের ৩ কোটি কন্যা সন্তানের ইনস্টিটিউশনের নাম হচ্ছে বিউটি পাল। ডিজিটাল পলিটিক্স ও জেন্ডার পলিটিক্স এর বিরুদ্ধে বাঙালির নিউরো সায়েন্টিফিক এক্সপ্লানেশন এর নাম বিউটি পাল।কগনেটিভ ডিসোনেন্সকে ” বুড়ো আঙুল” 👉 দেখিয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাঁচুক বাংলাদেশের সাড়ে আট কোটি নারী।আজ বাংলাদেশের সিম্বল অব উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এর প্রতীকের নাম বিউটি পাল। এভাবেই ভয়কে জয় করুন।
মনে রেখো 👉 face your fears and they will disappear .
( ভয়ের মুখোমুখি হও, দেখবে তা উধাও হয়ে গেছে।)
প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে লিখে দাও 👉 Fortune favours the brave .
( ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে।)
👉 এই দেশে সংখ্যায় পুরুষ সাড়ে আট কোটি হলে তোমরাও সাড়ে আট কোটি। সবাই সবার হাতে সাড়ে তিন হাত। তাই ভয়কে জয় করো বাংলার নারী , ভয়কে চিরদিনের জন্য জয় করে নাও বাংলাদেশ। এখনই নারী জাগরণের শ্রেষ্ঠ ও সোনালী সময়। বাংলাদেশের ইতিহাস একদিন তোমাদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে।
“সাহসী হও বাংলার নারী , জেগে উঠো বাংলাদেশ।”
তোমাদের সাহসের আলোয় আলোকিত হোক আগামীর নিরাপদ ও মানবিক এক বাংলাদেশ।।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম

লুসিড ড্রিম’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
২৬-৭-২০২৬
জনপ্রিয়

১৯৭১ সালের ১ লা আগষ্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার” বাংলাদেশ জর্জ হ্যারিসনে

প্রকাশের সময় : ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

১৯৭১ সালের ১ লা আগষ্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ৪০ হাজার দর্শক ও ” বাংলাদেশ ” নামে একটি গান পৃথিবীর প্রায় ১৫ কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছিলো।
” বাংলাদেশ ” গানের রচয়িতা জর্জ হ্যারিসনে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতেই কিংবদন্তি সেতার বাদক রবিশঙ্করের সেতার বেজে উঠলো। বব ডিলান সুরে সুর মেলাতেই বেজে উঠলো এরিক ক্ল্যাপটন এর গীটার । এক মুহুর্ত দেরী না করে রিঙ্গো স্টার ড্রাম পেটানো শুরু করলেন। সমগ্র বিশ্বের বাঙালিরা যেন এক সুরে গেয়ে উঠলো বাঙালির মুক্তির গান। ইচ্ছা করলে আপনারাও এখন এই গানের তালে সুর মেলাতে মেলাতে বলুন –
𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 , 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡
𝐖𝐡𝐞𝐫𝐞 𝐬𝐨 𝐦𝐚𝐧𝐲 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐚𝐫𝐞 𝐝𝐲𝐢𝐧𝐠 𝐟𝐚𝐬𝐭
শেষ লাইন ছিল:
𝐑𝐞𝐥𝐢𝐯𝐞 𝐭𝐡𝐞 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐨𝐟 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡
𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 , 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚 𝐃𝐞𝐬𝐡 .
” বাংলাদেশ ” গানে বাংলাদেশের মুক্তি এসেছিল। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।এভাবেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ ও একটি লাল সবুজের পতাকা। এর আগে পৃথিবীতে বাঙালির কোন দেশ ছিলো না। আজ পৃথিবীতে বাঙালির একটা দেশ আছে। কিন্তু সেই দেশটির বাঙালিয়ানা , মানচিত্র, মুক্তিযুদ্ধ , সংবিধান সব একে একে মরে যাচ্ছে। ঠিক তার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের বাঙালি , পশ্চিমবঙ্গ আসম ও ত্রিপুরার বাঙালি সহ নারী ও পুরুষ সবাই এক হয়ে গাইছে –
” আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে” ।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এক বিউটি পাল আবার সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। আমাদের জাতি পরিচয় , আমাদের শেকড় , আমাদের বাঙালিয়ানা , শালীনতা, মানচিত্র ও স্বাধীনতা সব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আবার জেগে উঠেছে বাঙালি , জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। এই এক নবজাগরণের গল্প। নবজাতকের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
সিলেটের বিউটি পাল তার ” শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে ” এক গানের রিলস দিয়ে পৃথিবীতে ছটিয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৩৫ কোটি বাঙালিকে আবার এক সুতোয় বেঁধে নিয়েছেন। সেই সাথে জেগে উঠেছে সাড়ে পাঁচ বছরের বাঙালির হারানো সংস্কৃতি। জেগে উঠলো বাংলাদেশের নারী , জেগে উঠলো বাংলাদেশ। এই যেন ইতিহাসের আরেক পুনরাবৃত্তি। আবারো সারাবিশ্ব একেবারের জন্য প্রমাণ পেলো ” বাংলাদেশের ডিএনএ হচ্ছে বাঙালি” ।
বাঙালি নারীদের সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো শাড়ি পরে আমাদের উঠোনে রোজ সন্ধ্যায় মায়েদের আড্ডা বসতো ২০১০ সালেও।বাড়ির উঠোন ভরে যেতো শাড়ি পরা নারীদের পদচারণায়। কে কত সুন্দর করে শাড়ি পরবে , সেই প্রতিযোগিতায় লেগে যেতো। বাঙালিদের প্রাণের এসব আড্ডা বাংলাদেশের মধ্যে কবর দিয়েছে একদল মৌলবাদী জামায়াত শিবির।।
আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে আমাদের নানী , দাদী , ফুফু , খালা সবাই শাড়ি পড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দাওয়াতে যেতো। আমাদের পরিবারের মেয়েরা থ্রিপিস পরে খুব সুন্দর সেজে অনুষ্ঠানে যেতো। কোন মেয়ে কোনদিন ইভটিজিং ও ধর্ষণের শিকার হয়নি। ভাই ও বোন পরম শ্রদ্ধা ও পারিবারিক শিক্ষার আমাদের একটি খুব সুন্দর সমাজ ছিলো। রাতের আঁধারে কোন নারী বিপদে পড়লেও সে ছিল সকল পুরুষের কাছে নিরাপদ।
👉এমন বাংলাদেশে হঠাৎ জান্নাতে যাওয়ার নাচানাচি শুরু হলো কেন ⁉️
২০১৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একদল তৌহিদী যৌনতার আবির্ভাব হলো। শাড়ি পরা নারী দেখলেই তারা রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত ও বাজে ব্যবহার করতে শুরু করলো। শাড়ি পরা মায়ের সাথে ছেলে হেঁটে গেলেও ওরা বাজে ইঙ্গিত করতো। এক এক করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের নারীদেরকে ওরা বস্তাবন্দি করে ফেললো। এখন আর বাংলাদেশের উঠোন গুলোতে রোজ সন্ধ্যায় মায়েদের মেলা বসে না। ছোট ছোট মেয়েরাও পোশাক পরে উঠোনে খেলতে ভয় পায়। এখন আর আমাদের নারীরা ( মা ও বোনেরা) নিজেদের পছন্দের পোশাক পরে নিরাপদে রাস্তায় হাঁটতে পারে না।
হঠাৎ গত দুই দশকে বাংলাদেশে একদল নারী ( কালো শয়তান ) আবির্ভাব হলো। তাবলীগের নাম করে ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে জামায়াত শিবিরের টাকায় মানুষকে হেদায়েত দিতে শুরু করলো। একদল টিকটক ও ওয়াজী হুজুরের আবির্ভাব হলো । কথায় কথায় তারা মাঠে ময়দানে “নারীদের হাত ও মুখ দেখা পাপ” এই জাতীয় ফতোয়া দিতে শুরু করলো। নিজেদের কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত হতে শুরু করলেন মা ও বাবারা। বাংলাদেশের সাড়ে আট কোটির নারীকে এই আতঙ্ক পুঁজি করে জামায়াত শিবির সহ মৌলবাদী , দেড় ফুটি ও তৌহিদী যৌনতা বাংলাদেশের মধ্যে ” মধ্যযুগীয় বর্বরতা ” শুরু করে দিলো। গত বিশ বছরে এই তৌহিদী যৌনতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নারী ধর্ষণ ও শিশু বলোতকার। আজ আপনার আদরের শিশু সন্তান পর্যন্ত বাংলাদেশে নিরাপদ নয়। তাই বলছি –
” বিউটি পাল এর মতো ভয়কে জয় করুন।”
এই বাংলাদেশ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বাংলাদেশ।এই বাংলাদেশ ডায়ানামাইট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনা দত্তের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সুহাসিনী গাঙ্গুলী ও লীলা নাগের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ সেতারা বেগম , তারামন বিবি ও গলা মিত্রের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী , সাজেদা চৌধুরী ও শহীদ রুমীর মা জাহানারা ইমামের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ সাবিনা ইয়াসমিন , ইন্দ্রানী সেন ও রেজোওয়ানা চৌধুরী বন্যার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ বিউটি পালের বাংলাদেশ।
আমার কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই। কিন্তু আপনাদের যাদের ঘরে আমাদের রাজকন্যারা বড় হচ্ছে , তাদের নিরাপদ এক বাংলাদেশের কথা কখনো ভেবেছেন ?
মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন ? অথচ , জেতাটা খুবই সহজ ।
➡️ বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী ৩ কোটির অধিক কন্যা শিশু আছে।
▪️ আমাদের কন্যাদের কপালে বড় করে টিপ দিবেন।
▪️ মা হয়ে মেয়ের পায়ে আলতা ও নুপুর পরিয়ে দিবেন।
▪️ ছোট ছোট কন্যা শিশুদের শাড়ি পরিয়ে রাজকন্যার মতো তৈরি করবেন।
▪️ আমাদের কন্যাদের ঠোঁটে লিপিস্টিক দিবেন।
▪️ কন্যাদের চুলে বেলী ফুলের মালা নিজ হাতে গেথে দিবেন।
▪️ বাবা হয়ে কন্যাদের জন্য রেশমী চুড়ি কিনবেন ।।
আমাদের ৩ কোটি কন্যার কপালে টিপ দেখে পাকিস্তান জিন্দাবাদ করাচী চলে যাবে। আমাদের মেয়েরা যখন দলে দলে শাড়ি পরে , নুপুর পায়ে , খোলা চুলে আবার সাহস করে হাঁটতে শুরু করে তখন এই তৌহিদী যৌনতা বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে। খুবই ছোট্ট একটি জীবন মানুষের। এই ছোট্ট জীবনে আদরের কন্যা সন্তানকে ” কালো শয়তান ” বানিয়ে কেন চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখছেন ❓
আমাদের মায়েরা , দাদীরা শাড়ী পরে পাপ না হলে আমাদের রাজকন্যাদের অপরাধ কোথায় ?
আমাদের দাদী, নানী ও গ্রামের মহিলারা এক হয়ে ঘরের উঠোনে পুঁথি গান , জারি গান , সারি গান গেয়েছে। ইউসুফ – জুলেখা , লাইলী ও মজনুর প্রেমের উপাখ্যান পড়েছে। তখন পাপ না হলে এখন কেন হবে?
গত বিশ বছরে বাংলাদেশের মধ্যে কি নতুন একদল মুসলমান মঙ্গল গ্রহ থেকে এলিয়েন হয়ে এসেছে?
কোরআন ও হাদিসের নতুন ব্যাখা নিয়ে এসেছে গলা টিপে ধরতে?
এরা এলিয়েন নয় , এরা নব্য যুগের শয়তান। এরাই ধর্মব্যাবসায়ী, এরাই বিহারী। এদের রুখে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আপনার আমার সবার।
👉 নারী হয়ে জন্মেছে বলে আমাদের কন্যা সন্তানরা কি মানুষ নয়?
👉 নারী হয়ে জন্মেছে বলে নারীদের স্বাদ আহ্লাদ কবর দিতে হবে 👏
👉 বাংলাদেশে নারী হয়ে জন্ম নেয়া কি পাপ?
দয়া করে সবাই বিবেকের আয়নার সামনে একবার দাঁড়ান। বাসায় গিয়ে নিজেদের আদরের কন্যা সন্তানদের হাতটা শক্ত করে ধরুন। বাবা ও মা হয়ে ওদের কাছে ক্ষমা চান। আমাদের মায়েরা যদি থ্রি পিস ছোটবেলায় মাঠে ঘাটে খেলতে পারে , শাড়ি পরে স্কুলে যাওয়ার গল্প বলতে পারে , তবে গত বিশ বছরে বাংলাদেশে যে কন্যা সন্তানদের জন্য তাদের কেন ” কালো শয়তান ” বানিয়ে ঘরের চার দেয়ালে বন্দী করে রাখা হবে?
সবাই নিজ নিজ কন্য সন্তানদের হাত ধরে অন্তত একবার ক্ষমা চান। রাজকন্যাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলুন –
” গত বিশ বছরে তোমাদের উপর অনেক অন্যায় হয়েছে। আর হতে দিবো না।এই পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে যতটুকু অধিকার পুরুষের আছে , ঠিক ততটুকু অধিকার বাংলাদেশের প্রতিটি রাজকন্যার আছে। বাবা ও মা হয়ে কন্যা সন্তানদের আর অধিকার বঞ্চিত করবেন না । আমাদের কন্যারা হাসবে , নাচবে , গাইবে , এসব মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে তাদের জন্মগত অধিকার। “
স্যালুট বিউটি পাল। আপনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি বাঙালিকে এক করে , ওদের চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন –
“History repeats itself.”
আগামীর বাংলাদেশের ৩ কোটি কন্যা সন্তানের ইনস্টিটিউশনের নাম হচ্ছে বিউটি পাল। ডিজিটাল পলিটিক্স ও জেন্ডার পলিটিক্স এর বিরুদ্ধে বাঙালির নিউরো সায়েন্টিফিক এক্সপ্লানেশন এর নাম বিউটি পাল।কগনেটিভ ডিসোনেন্সকে ” বুড়ো আঙুল” 👉 দেখিয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাঁচুক বাংলাদেশের সাড়ে আট কোটি নারী।আজ বাংলাদেশের সিম্বল অব উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এর প্রতীকের নাম বিউটি পাল। এভাবেই ভয়কে জয় করুন।
মনে রেখো 👉 face your fears and they will disappear .
( ভয়ের মুখোমুখি হও, দেখবে তা উধাও হয়ে গেছে।)
প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে লিখে দাও 👉 Fortune favours the brave .
( ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে।)
👉 এই দেশে সংখ্যায় পুরুষ সাড়ে আট কোটি হলে তোমরাও সাড়ে আট কোটি। সবাই সবার হাতে সাড়ে তিন হাত। তাই ভয়কে জয় করো বাংলার নারী , ভয়কে চিরদিনের জন্য জয় করে নাও বাংলাদেশ। এখনই নারী জাগরণের শ্রেষ্ঠ ও সোনালী সময়। বাংলাদেশের ইতিহাস একদিন তোমাদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে।
“সাহসী হও বাংলার নারী , জেগে উঠো বাংলাদেশ।”
তোমাদের সাহসের আলোয় আলোকিত হোক আগামীর নিরাপদ ও মানবিক এক বাংলাদেশ।।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম

লুসিড ড্রিম’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
২৬-৭-২০২৬