, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতাধররা খুনিদের প্রমোট করে কেন?

  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ১৫ পড়া হয়েছে
মিডিয়া ওয়াচ
ক্ষমতাধররা খুনিদের প্রমোট করে কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর আমি দীর্ঘদিন থেকেই জানার চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো পাইনি। গত ৫৪ বছরে যারাই ক্ষমতার শীর্ষে ছিল তারা সবাই খুনের আসামিদের শুধু মাফ করা নয়, প্রমোট করেছে। সেটা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই–জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে সর্বশেষ তারেক রহমান পর্যন্ত এ সময়ে যারাই ক্ষমতায় ছিল তারাই এই গর্হিত অন্যায় কাজটি করেছে।
ব্যাপারটা আবার আলোচনায় আসে গতকাল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা জনমনে আবারও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে আমি গতকালই একটা পোস্ট দিয়েছি।
বিএনপি এখন ক্ষমতায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবার ক্ষমতায় এসেই তার বাবা-মায়ের দেখানো পথই অনুসরণ করলেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে কি করেছিলেন সেটা আপনাদের বলি।
সেটা ২০০১ সালের কথা; বেগম জিয়া দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন। এর মাত্র কিছুদিন পর তিনি তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান। আমি তাদের একজন ছিলাম। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত বিধায় আমি যখন প্রশ্ন করতে উঠি আমাকে দেখেই হাসতে হাসতে বললেন, আরশাদ সাহেব কেমন আছেন? বললাম, ভালো আছি ম্যাডাম, দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। তবে আমার দুটো প্রশ্ন আছে। হাসতে হাসতে বললেন, বলেন কি প্রশ্ন।
আমি বললাম, বিএনপি একটা খুব বড় দল। আপনি যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন সেখানে একজন চাঞ্চল্যকর খুনের আসামিকে কেন আপনি অন্তর্ভুক্ত করলেন। হঠাৎ তার মুখের হাসি বিলিয়ে গেল। বললেন, কি বলতে চাচ্ছেন? বললাম, ম্যাডাম আপনি ক্ষমতায় আসার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ক্ষমতায় আসলে আপনার প্রধান কাজ হবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দূর করা। আমার প্রশ্ন, আপনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কেন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা বানালেন। তিনি চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নিটল হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। এখন আপনি আমাকে বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে এই মামলা কিভাবে এগোবে। তিনি এখন ফ্লাগওয়ালা গাড়িতে পুলিশ প্রহরায় চলাফেরা করবেন। পুলিশ তাকে দেখে সালাম দেবে। কিন্তু এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তার তো এখন জেলে থাকার কথা।
আমার প্রশ্ন শুনে বেগম জিয়া ভীষণ ক্ষেপে গেলেন। তিনি বললেন, তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে ঠিকই এবং কোর্ট তো তাকে কনভিক্ট করে নাই। আমি বললাম, ম্যাডাম, কোর্ট তাকে তো খালাসও দেয়নি। আইনের চোখে তিনি তো এখনো অপরাধী। এরকম একটি লোককে আপনার কেন মন্ত্রী বানাতে হইল। আপনার প্রতিশ্রুত আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠা হবে যখন খুনের আসামিদের মন্ত্রী বানানো হয়।
আমার প্রশ্নে তিনি বেশ রেগে যান এবং চলে যাওয়ার জন্য চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান। আমি তখন বললাম, ম্যাডাম, আপনাকে তো দুটো প্রশ্ন করতে চেয়েছি, আরো একটা প্রশ্ন তো বাকি আছে। এটা বলার পর বিএনপি-ঘরনার সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকেন প্রকাশ্যে। একপর্যায়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং আমি বসে পড়তে বাধ্য হই। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দেবেন। কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়াদকালে সেটা তিনি করেননি।
এবার আসি জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে। সেটা সম্ভবত ১৯৭৭/৭৮ সালের কথা। তিনি তখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং প্রেসিডেন্ট। তার মন্ত্রিসভায় স্বাধীনতা বিরোধী, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাওলানা মান্নানকে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। যতদূর মনে পড়ে তখন ইত্তেফাক একটা নিউজ করেছিল প্রথম পাতায় মাওলানা মান্নানের ছবি সহ। শিরোনাম ছিল ‘তাহাকে পাওয়া গিয়াছে, বঙ্গভবনে’। এই পত্রিকাতেই ১৯৭২ সালে মাওলানা মান্নানের ছবি ছাপা হয়েছিল ‘তাহাকে ধরাইয়া দিন’ এই শিরোনামে। আপনাদের হয়তো মনে আছে মাওলানা মান্নানের বিরুদ্ধে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আলিম চৌধুরীকে অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ ছিল। ১৯৭১ সালে যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় আলীম চৌধুরী তাদের মধ্যে ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াকে কেন এই মান্নান কে মন্ত্রিসভায় নিতে হল সেটা আমি এখনো জানিনা।
এবার আসি শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে। তার আমলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে খুরের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান চৌধুরী তার ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন জহির হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন। ১৯৯৪ বা ৯৫ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় তখন এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বিদেশে পালিয়ে যান। ফিরে আসেন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর।
দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ক্ষমতাশীন জেনারেল এরশাদও খুনিদের এভাবে মাফ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গাজীপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি আজম খান। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বলে তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির একজন নেতা বানান।
সব শেষে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। বাঙালির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা যিনি আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই তিনি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেন। দিন দিন তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় রক্ষী বাহিনীর মত একটা পেটুয়া বাহিনীর সৃষ্টি করেন। এই বাহিনীর হাতে সরকার বিরোধী অনেকেই নিহত হয়েছিল। এই ভিকটিমদের মধ্যে জাসদের নেতাকর্মীরা ছিল। রক্ষী বাহিনী দারা সংঘটিত খুনের দায়ে কাউকে তখন আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে আমার স্মরণ নেই।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলে পোস্ট শেষ করছি। সেটা সম্ভবত ১৯৭৪ সালের কথা। একদিন শেখ মুজিব পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে খুব উচ্চস্বরে বললেন, কোথায় সে সিরাজ শিকদার। তার আগের দিন পুলিশ কাস্টোডিতে এই সর্বহারা পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তখন বলা হয়েছিল পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। সেটা অবশ্য কেউ বিশ্বাস করেনি।
এই কথাগুলো লিখলাম আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যে এদেশে ক্ষমতায় এসেই শাসকরা একের পর এক এই গর্হিত অপরাধগুলোকে লেজিটিমাইজ করেছে। গত ৫৪ বছরে দেশ যে কখনোই সংঘাত, সহিংসতা থেকে মুক্তি পায়নি এটার একমাত্র কারণ ক্ষমতাসীনরা আইনের শাসনকে পদদলিত করেছেন একের পর এক।
আমার ধারণা এখন দলদাসরা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আমি শুধু তাদের উদ্দেশ্যে একটাই অনুরোধ করবো, নেতা-নেত্রীর অন্ধভক্ত না হয়ে সত্যের পক্ষে কথা বলবেন।
Arshad Mahmud’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

ক্ষমতাধররা খুনিদের প্রমোট করে কেন?

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
মিডিয়া ওয়াচ
ক্ষমতাধররা খুনিদের প্রমোট করে কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর আমি দীর্ঘদিন থেকেই জানার চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো পাইনি। গত ৫৪ বছরে যারাই ক্ষমতার শীর্ষে ছিল তারা সবাই খুনের আসামিদের শুধু মাফ করা নয়, প্রমোট করেছে। সেটা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই–জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে সর্বশেষ তারেক রহমান পর্যন্ত এ সময়ে যারাই ক্ষমতায় ছিল তারাই এই গর্হিত অন্যায় কাজটি করেছে।
ব্যাপারটা আবার আলোচনায় আসে গতকাল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা জনমনে আবারও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে আমি গতকালই একটা পোস্ট দিয়েছি।
বিএনপি এখন ক্ষমতায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবার ক্ষমতায় এসেই তার বাবা-মায়ের দেখানো পথই অনুসরণ করলেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে কি করেছিলেন সেটা আপনাদের বলি।
সেটা ২০০১ সালের কথা; বেগম জিয়া দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন। এর মাত্র কিছুদিন পর তিনি তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান। আমি তাদের একজন ছিলাম। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত বিধায় আমি যখন প্রশ্ন করতে উঠি আমাকে দেখেই হাসতে হাসতে বললেন, আরশাদ সাহেব কেমন আছেন? বললাম, ভালো আছি ম্যাডাম, দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। তবে আমার দুটো প্রশ্ন আছে। হাসতে হাসতে বললেন, বলেন কি প্রশ্ন।
আমি বললাম, বিএনপি একটা খুব বড় দল। আপনি যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন সেখানে একজন চাঞ্চল্যকর খুনের আসামিকে কেন আপনি অন্তর্ভুক্ত করলেন। হঠাৎ তার মুখের হাসি বিলিয়ে গেল। বললেন, কি বলতে চাচ্ছেন? বললাম, ম্যাডাম আপনি ক্ষমতায় আসার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ক্ষমতায় আসলে আপনার প্রধান কাজ হবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দূর করা। আমার প্রশ্ন, আপনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কেন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা বানালেন। তিনি চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নিটল হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। এখন আপনি আমাকে বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে এই মামলা কিভাবে এগোবে। তিনি এখন ফ্লাগওয়ালা গাড়িতে পুলিশ প্রহরায় চলাফেরা করবেন। পুলিশ তাকে দেখে সালাম দেবে। কিন্তু এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তার তো এখন জেলে থাকার কথা।
আমার প্রশ্ন শুনে বেগম জিয়া ভীষণ ক্ষেপে গেলেন। তিনি বললেন, তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে ঠিকই এবং কোর্ট তো তাকে কনভিক্ট করে নাই। আমি বললাম, ম্যাডাম, কোর্ট তাকে তো খালাসও দেয়নি। আইনের চোখে তিনি তো এখনো অপরাধী। এরকম একটি লোককে আপনার কেন মন্ত্রী বানাতে হইল। আপনার প্রতিশ্রুত আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠা হবে যখন খুনের আসামিদের মন্ত্রী বানানো হয়।
আমার প্রশ্নে তিনি বেশ রেগে যান এবং চলে যাওয়ার জন্য চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান। আমি তখন বললাম, ম্যাডাম, আপনাকে তো দুটো প্রশ্ন করতে চেয়েছি, আরো একটা প্রশ্ন তো বাকি আছে। এটা বলার পর বিএনপি-ঘরনার সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকেন প্রকাশ্যে। একপর্যায়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং আমি বসে পড়তে বাধ্য হই। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দেবেন। কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়াদকালে সেটা তিনি করেননি।
এবার আসি জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে। সেটা সম্ভবত ১৯৭৭/৭৮ সালের কথা। তিনি তখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং প্রেসিডেন্ট। তার মন্ত্রিসভায় স্বাধীনতা বিরোধী, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাওলানা মান্নানকে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। যতদূর মনে পড়ে তখন ইত্তেফাক একটা নিউজ করেছিল প্রথম পাতায় মাওলানা মান্নানের ছবি সহ। শিরোনাম ছিল ‘তাহাকে পাওয়া গিয়াছে, বঙ্গভবনে’। এই পত্রিকাতেই ১৯৭২ সালে মাওলানা মান্নানের ছবি ছাপা হয়েছিল ‘তাহাকে ধরাইয়া দিন’ এই শিরোনামে। আপনাদের হয়তো মনে আছে মাওলানা মান্নানের বিরুদ্ধে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আলিম চৌধুরীকে অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ ছিল। ১৯৭১ সালে যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় আলীম চৌধুরী তাদের মধ্যে ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াকে কেন এই মান্নান কে মন্ত্রিসভায় নিতে হল সেটা আমি এখনো জানিনা।
এবার আসি শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে। তার আমলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে খুরের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান চৌধুরী তার ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন জহির হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন। ১৯৯৪ বা ৯৫ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় তখন এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বিদেশে পালিয়ে যান। ফিরে আসেন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর।
দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ক্ষমতাশীন জেনারেল এরশাদও খুনিদের এভাবে মাফ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গাজীপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি আজম খান। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বলে তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির একজন নেতা বানান।
সব শেষে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। বাঙালির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা যিনি আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই তিনি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেন। দিন দিন তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় রক্ষী বাহিনীর মত একটা পেটুয়া বাহিনীর সৃষ্টি করেন। এই বাহিনীর হাতে সরকার বিরোধী অনেকেই নিহত হয়েছিল। এই ভিকটিমদের মধ্যে জাসদের নেতাকর্মীরা ছিল। রক্ষী বাহিনী দারা সংঘটিত খুনের দায়ে কাউকে তখন আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে আমার স্মরণ নেই।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলে পোস্ট শেষ করছি। সেটা সম্ভবত ১৯৭৪ সালের কথা। একদিন শেখ মুজিব পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে খুব উচ্চস্বরে বললেন, কোথায় সে সিরাজ শিকদার। তার আগের দিন পুলিশ কাস্টোডিতে এই সর্বহারা পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তখন বলা হয়েছিল পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। সেটা অবশ্য কেউ বিশ্বাস করেনি।
এই কথাগুলো লিখলাম আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যে এদেশে ক্ষমতায় এসেই শাসকরা একের পর এক এই গর্হিত অপরাধগুলোকে লেজিটিমাইজ করেছে। গত ৫৪ বছরে দেশ যে কখনোই সংঘাত, সহিংসতা থেকে মুক্তি পায়নি এটার একমাত্র কারণ ক্ষমতাসীনরা আইনের শাসনকে পদদলিত করেছেন একের পর এক।
আমার ধারণা এখন দলদাসরা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আমি শুধু তাদের উদ্দেশ্যে একটাই অনুরোধ করবো, নেতা-নেত্রীর অন্ধভক্ত না হয়ে সত্যের পক্ষে কথা বলবেন।
Arshad Mahmud’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।