, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

“এখনকার ছেলেমেয়েরা খুব অবাধ্য।”

  • প্রকাশের সময় : ১১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩০ পড়া হয়েছে
অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
একসময় বাবা-মায়ের সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলাটাই ছিল অসম্ভব। আজ অনেক সন্তান চোখে চোখ রেখে নিজের মতামত জানায় কখনও তারা তর্কও করে। এই পরিবর্তন দেখে আমরা বলি, “এখনকার ছেলেমেয়েরা খুব অবাধ্য।”
কিন্তু সত্যিই কি তারা অবাধ্য, নাকি তাদের পৃথিবীটাই আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা?
আমাদের শৈশবে পরিবার ছিল শেখার সবচেয়ে বড় জায়গা। আজকের সন্তানদের শিক্ষক শুধু বাবা-মা নন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধু, ইউটিউব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব মিলিয়ে তারা প্রতিদিন হাজারো মতামতের মধ্যে বড় হচ্ছে।
তাই তারা প্রশ্ন করে। যুক্তি চায়। নিজের মত প্রকাশ করতে চায়। আর আমরা অনেক সময় সেই প্রশ্নকেই অসম্মান বলে ধরে নিই।
আবার এটাও সত্য, আজকের সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ভালো ফল করতে হবে, সফল হতে হবে, সবাইকে ছাপিয়ে যেতে হবে—এই অদৃশ্য প্রতিযোগিতা তাদের প্রতিদিন ক্লান্ত করে তুলছে।
অনেক সময় যে সন্তানটি রাগ দেখায়, সে হয়তো ভেতরে ভীষণ ভেঙে পড়েছে। যে সন্তানটি সারাদিন মোবাইল নিয়ে থাকে, সে হয়তো বাস্তবের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে নিজেকে বেশি নিরাপদ মনে করে। আর যে সন্তানটি চুপচাপ থাকে, সে হয়তো শুধু একজন মানুষ খুঁজছে, যে তাকে বিচার না করে শুনবে।
তবে দোষ শুধু সন্তানদের নয়, আবার শুধু বাবা-মায়েরও নয়।
অনেক বাবা-মা এখনও মনে করেন, শাসন মানেই ভালোবাসা। অন্যদিকে অনেক সন্তান স্বাধীনতার অর্থ দায়িত্বহীনতা ভেবে ভুল করে। ফলে একই বাড়িতে থেকেও দুই প্রজন্মের মধ্যে অদৃশ্য একটি দূরত্ব তৈরি হয়।
একজন সন্তান নিখুঁত বাবা-মা চায় না। সে চায় এমন একজন মানুষ, যার কাছে নিজের ভুল, ভয় আর ব্যর্থতার কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
আবার একজন বাবা-মাও নিখুঁত সন্তান চান না। তারা শুধু চান, সন্তান যেন তাদের সম্মান করে, বিশ্বাস করে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের কাছেই ফিরে আসে।
হয়তো আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আরও বেশি শাসন নয়, আরও বেশি কথোপকথন।
আরও বেশি উপদেশ নয়, আরও বেশি শোনা।
আরও বেশি রাগ নয়, আরও বেশি বোঝার চেষ্টা।
কারণ, সন্তানকে বড় করা শুধু তাকে ভালো স্কুলে পড়ানোর নাম নয়। তার মনের ভাষা বোঝাও একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
হয়তো আজকের সন্তানরা অবাধ্য নয়।
হয়তো তারা শুধু এমন একটি ভাষায় নিজেদের প্রকাশ করছে, যা আমরা এখনও পুরোপুরি শিখে উঠতে পারিনি।
আপনার কী মনে হয়?
আজকের সন্তানরা সত্যিই বেশি অবাধ্য, নাকি আমরা তাদের অনুভূতি, চাপ এবং বদলে যাওয়া পৃথিবীকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না?
✍️ An Animesh An Animesh🎯
#everyonefollowersPriya Roy’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

“এখনকার ছেলেমেয়েরা খুব অবাধ্য।”

প্রকাশের সময় : ১১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
একসময় বাবা-মায়ের সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলাটাই ছিল অসম্ভব। আজ অনেক সন্তান চোখে চোখ রেখে নিজের মতামত জানায় কখনও তারা তর্কও করে। এই পরিবর্তন দেখে আমরা বলি, “এখনকার ছেলেমেয়েরা খুব অবাধ্য।”
কিন্তু সত্যিই কি তারা অবাধ্য, নাকি তাদের পৃথিবীটাই আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা?
আমাদের শৈশবে পরিবার ছিল শেখার সবচেয়ে বড় জায়গা। আজকের সন্তানদের শিক্ষক শুধু বাবা-মা নন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধু, ইউটিউব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব মিলিয়ে তারা প্রতিদিন হাজারো মতামতের মধ্যে বড় হচ্ছে।
তাই তারা প্রশ্ন করে। যুক্তি চায়। নিজের মত প্রকাশ করতে চায়। আর আমরা অনেক সময় সেই প্রশ্নকেই অসম্মান বলে ধরে নিই।
আবার এটাও সত্য, আজকের সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ভালো ফল করতে হবে, সফল হতে হবে, সবাইকে ছাপিয়ে যেতে হবে—এই অদৃশ্য প্রতিযোগিতা তাদের প্রতিদিন ক্লান্ত করে তুলছে।
অনেক সময় যে সন্তানটি রাগ দেখায়, সে হয়তো ভেতরে ভীষণ ভেঙে পড়েছে। যে সন্তানটি সারাদিন মোবাইল নিয়ে থাকে, সে হয়তো বাস্তবের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে নিজেকে বেশি নিরাপদ মনে করে। আর যে সন্তানটি চুপচাপ থাকে, সে হয়তো শুধু একজন মানুষ খুঁজছে, যে তাকে বিচার না করে শুনবে।
তবে দোষ শুধু সন্তানদের নয়, আবার শুধু বাবা-মায়েরও নয়।
অনেক বাবা-মা এখনও মনে করেন, শাসন মানেই ভালোবাসা। অন্যদিকে অনেক সন্তান স্বাধীনতার অর্থ দায়িত্বহীনতা ভেবে ভুল করে। ফলে একই বাড়িতে থেকেও দুই প্রজন্মের মধ্যে অদৃশ্য একটি দূরত্ব তৈরি হয়।
একজন সন্তান নিখুঁত বাবা-মা চায় না। সে চায় এমন একজন মানুষ, যার কাছে নিজের ভুল, ভয় আর ব্যর্থতার কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
আবার একজন বাবা-মাও নিখুঁত সন্তান চান না। তারা শুধু চান, সন্তান যেন তাদের সম্মান করে, বিশ্বাস করে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের কাছেই ফিরে আসে।
হয়তো আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আরও বেশি শাসন নয়, আরও বেশি কথোপকথন।
আরও বেশি উপদেশ নয়, আরও বেশি শোনা।
আরও বেশি রাগ নয়, আরও বেশি বোঝার চেষ্টা।
কারণ, সন্তানকে বড় করা শুধু তাকে ভালো স্কুলে পড়ানোর নাম নয়। তার মনের ভাষা বোঝাও একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
হয়তো আজকের সন্তানরা অবাধ্য নয়।
হয়তো তারা শুধু এমন একটি ভাষায় নিজেদের প্রকাশ করছে, যা আমরা এখনও পুরোপুরি শিখে উঠতে পারিনি।
আপনার কী মনে হয়?
আজকের সন্তানরা সত্যিই বেশি অবাধ্য, নাকি আমরা তাদের অনুভূতি, চাপ এবং বদলে যাওয়া পৃথিবীকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না?
✍️ An Animesh An Animesh🎯
#everyonefollowersPriya Roy’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।