, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুইটি পক্ষে বিতর্কে

  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ১৫ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
·
জাতি খুব শীঘ্রই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুইটি পক্ষে বিতর্কে নামতে যাচ্ছে;
১. যাওয়া উচিত,
২. যাওয়া উচিত না।
তবে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিটা উচিত বা উচিত না এই প্রশ্নে নাই। একইসাথে গতকাল অনেক গুলো দেশী/বিদেশি মিডিয়াকে ফটোকার্ড বানাতে দেখলাম, “হাসিনা ও হাদির আসামিদের ফেরত না দিলে ভারত যাবেন না তারেক রহমান”; এই ফটোকার্ডটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ঢাকার পক্ষ থেকে সরাসরি ‘ফেরত দেয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে আলোচনা’ এই ধরনের কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।
ঢাকা অনূকূল পরিবেশ তৈরির কথা বলেছে। সেই অনূকূল পরিবেশ তৈরি হবে যখন আলোচনার টেবিলে খুব পজিটিভ ভাবে হাসিনা, হাদির আসামি ও অন্যান্য পলাতক লীগারদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা উঠবে।
তবে ঢাকাকেও বুঝতে হবে, আমরা যেই কঠোর ফরেন পলিসিতে এগোচ্ছি, বিশেষ করে তিস্তা, জে-১০, ড্রোন প্রজেক্ট ইত্যাদি মাথায় রেখে দিল্লী শুরুতেই তার হাতে থাকা প্রধান নেগোসিয়েশন টুল (হাসিনা ও লীগ) খরচ করে ফেলবে না।
⭕ এইবার আসেন যদি তারেক রহমান ভারত সফরে যায় তাহলে কি হবে;
★ হাসিনার রাজনীতির ভবিষ্যত নির্ধারণ, যেটায় মোটামুটি ফুলস্টপ বসে যাবে। এবং হাসিনাকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ভারত খুবই আশ্বাস মূলক বার্তা দিবে।
★ হাদির আসামিদের হস্তান্তর করে দিবে।
★ পলাতক লীগারদের মধ্যে বড় কিছু নামকে ইমিডিয়েট হস্তান্তর করা নিয়ে একমত হতে পারে।
★ অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, ১৭ বছরের অন্যায্য চুক্তি, পানি-বন্টন নিয়ে খুবই পজিটিভ আলোচনা শুরু হবে।
আবার ভারত ও তাদের সাইড থেকে অনেক দাবী, আবদার, আপত্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারবে। মোটামুটি বলা যায়, উভয় পক্ষের জন্য WIN-WIN সিচুয়েশন।
⭕ আর যদি না যায়???
★ তাহলে প্রথমত, উপরের কোনো আলোচনায় বিন্দুমাত্র অগ্রগতি থাকবে না।
★ আন-অফিশিয়ালি ভারত নিজেকে হাসিনা ও লীগের লং-টার্ম রাজনীতির খুঁটি হিসেবে ঘোষণা করে দিবে।
★ ভারত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সামরিক ইত্যাদি সব দিক থেকে চাণক্য নীতির দাম ও দন্ড এপ্লাই করা শুরু করবে। অপরদিকে, ঢাকা ও পরিস্থিতি বুঝে আরো বেশি বেইজিং ও ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকবে।
মোটামুটি দুই দেশ তীব্র ভাবে একে অপরের জন্য থ্রেট আকারে পরিগনিত হবে।
এই মূহুর্তে দিল্লীকে হিসাব করতে হবে, লীগ ও ঢাকার উত্থাপন করা বাকি ৪ শর্তে তার অনমনীয়তা শিলিগুড়ি করিডোরে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে।
একইসাথে ঢাকাকে হিসাব করতে হবে, টেবিলে ছুঁড়ে দেয়া ৪ শর্তে ‘তালগাছ আমার’ টাইপ আচরণ আমাদেরকে কোনদিকে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, প্রপাগান্ডার রাজনীতি ইত্যাদি ট্যাকেল করে আমরা কতোদিক থেকে কতো গুলো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবো??
তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, সরকারের ৬ মাসে তার প্রথম কূটনৈতিক যুদ্ধে বাংলাদেশ গৌরবজ্জ্বল সফলতা দেখিয়েছে। জিয়ার দেশপ্রেম কেমন ছিলো; তারেক রহমান খুবই নিঁখুতভাবে তা উপস্থাপন করেছেন।
আমি আশা করি যেনো বাংলাদেশ WIN-WIN সিচুয়েশন রেখে ভারত সফর সফলতার সাথে করে আসে।
তবে দিল্লী যদি সেই অনূকূল পরিবেশ তৈরিতে আগ্রহী না হয়, তাহলে আমাদের শক্তভাবে তারেক রহমানকে ধরে থাকতে হবে। দেশের জন্য তারেক রহমানের ঢাল হয়ে যেতে হবে। তিনি বাংলাদেশকে যেই ‘চির উন্নত মমশির’ এর গৌরব এনে দিতে চাচ্ছেন, সেই রাস্তা অনেক কঠিন। সেই কঠিন রাস্তায় তারেক রহমানের সাথে সকল জনগণকে একসাথে বলতে হবে,
“এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পাড়”
সবার আগে বাংলাদেশ ❤️

জনপ্রিয়

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুইটি পক্ষে বিতর্কে

প্রকাশের সময় : ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
·
জাতি খুব শীঘ্রই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুইটি পক্ষে বিতর্কে নামতে যাচ্ছে;
১. যাওয়া উচিত,
২. যাওয়া উচিত না।
তবে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিটা উচিত বা উচিত না এই প্রশ্নে নাই। একইসাথে গতকাল অনেক গুলো দেশী/বিদেশি মিডিয়াকে ফটোকার্ড বানাতে দেখলাম, “হাসিনা ও হাদির আসামিদের ফেরত না দিলে ভারত যাবেন না তারেক রহমান”; এই ফটোকার্ডটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ঢাকার পক্ষ থেকে সরাসরি ‘ফেরত দেয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে আলোচনা’ এই ধরনের কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।
ঢাকা অনূকূল পরিবেশ তৈরির কথা বলেছে। সেই অনূকূল পরিবেশ তৈরি হবে যখন আলোচনার টেবিলে খুব পজিটিভ ভাবে হাসিনা, হাদির আসামি ও অন্যান্য পলাতক লীগারদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা উঠবে।
তবে ঢাকাকেও বুঝতে হবে, আমরা যেই কঠোর ফরেন পলিসিতে এগোচ্ছি, বিশেষ করে তিস্তা, জে-১০, ড্রোন প্রজেক্ট ইত্যাদি মাথায় রেখে দিল্লী শুরুতেই তার হাতে থাকা প্রধান নেগোসিয়েশন টুল (হাসিনা ও লীগ) খরচ করে ফেলবে না।
⭕ এইবার আসেন যদি তারেক রহমান ভারত সফরে যায় তাহলে কি হবে;
★ হাসিনার রাজনীতির ভবিষ্যত নির্ধারণ, যেটায় মোটামুটি ফুলস্টপ বসে যাবে। এবং হাসিনাকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ভারত খুবই আশ্বাস মূলক বার্তা দিবে।
★ হাদির আসামিদের হস্তান্তর করে দিবে।
★ পলাতক লীগারদের মধ্যে বড় কিছু নামকে ইমিডিয়েট হস্তান্তর করা নিয়ে একমত হতে পারে।
★ অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, ১৭ বছরের অন্যায্য চুক্তি, পানি-বন্টন নিয়ে খুবই পজিটিভ আলোচনা শুরু হবে।
আবার ভারত ও তাদের সাইড থেকে অনেক দাবী, আবদার, আপত্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারবে। মোটামুটি বলা যায়, উভয় পক্ষের জন্য WIN-WIN সিচুয়েশন।
⭕ আর যদি না যায়???
★ তাহলে প্রথমত, উপরের কোনো আলোচনায় বিন্দুমাত্র অগ্রগতি থাকবে না।
★ আন-অফিশিয়ালি ভারত নিজেকে হাসিনা ও লীগের লং-টার্ম রাজনীতির খুঁটি হিসেবে ঘোষণা করে দিবে।
★ ভারত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সামরিক ইত্যাদি সব দিক থেকে চাণক্য নীতির দাম ও দন্ড এপ্লাই করা শুরু করবে। অপরদিকে, ঢাকা ও পরিস্থিতি বুঝে আরো বেশি বেইজিং ও ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকবে।
মোটামুটি দুই দেশ তীব্র ভাবে একে অপরের জন্য থ্রেট আকারে পরিগনিত হবে।
এই মূহুর্তে দিল্লীকে হিসাব করতে হবে, লীগ ও ঢাকার উত্থাপন করা বাকি ৪ শর্তে তার অনমনীয়তা শিলিগুড়ি করিডোরে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে।
একইসাথে ঢাকাকে হিসাব করতে হবে, টেবিলে ছুঁড়ে দেয়া ৪ শর্তে ‘তালগাছ আমার’ টাইপ আচরণ আমাদেরকে কোনদিকে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, প্রপাগান্ডার রাজনীতি ইত্যাদি ট্যাকেল করে আমরা কতোদিক থেকে কতো গুলো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবো??
তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, সরকারের ৬ মাসে তার প্রথম কূটনৈতিক যুদ্ধে বাংলাদেশ গৌরবজ্জ্বল সফলতা দেখিয়েছে। জিয়ার দেশপ্রেম কেমন ছিলো; তারেক রহমান খুবই নিঁখুতভাবে তা উপস্থাপন করেছেন।
আমি আশা করি যেনো বাংলাদেশ WIN-WIN সিচুয়েশন রেখে ভারত সফর সফলতার সাথে করে আসে।
তবে দিল্লী যদি সেই অনূকূল পরিবেশ তৈরিতে আগ্রহী না হয়, তাহলে আমাদের শক্তভাবে তারেক রহমানকে ধরে থাকতে হবে। দেশের জন্য তারেক রহমানের ঢাল হয়ে যেতে হবে। তিনি বাংলাদেশকে যেই ‘চির উন্নত মমশির’ এর গৌরব এনে দিতে চাচ্ছেন, সেই রাস্তা অনেক কঠিন। সেই কঠিন রাস্তায় তারেক রহমানের সাথে সকল জনগণকে একসাথে বলতে হবে,
“এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পাড়”
সবার আগে বাংলাদেশ ❤️