, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি শেষ করে, ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন : শওকত আজিজ

  • প্রকাশের সময় : ০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৮ পড়া হয়েছে
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি টেলিভিশন টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সময় এসব মন্তব্য করেন শওকত আজিজ রাসেল। একপর্যায়ে ড. ইউনূস সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সময়ে দেশ ‘পুরোপুরি শেষ ও ধ্বংস’ হয়ে গেছে।

ড. ইউনূসের কর মওকুফের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ব্যবসায়ী। তার দাবি, চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন। শওকত আজিজ রাসেলের বক্তব্য, আগে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর পরিশোধ করা উচিত, এরপর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে চ্যারিটি বা মসজিদ নির্মাণের মতো কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।

তার অভিযোগ, ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নন-প্রফিট’ হিসেবে দেখিয়ে কর ফাঁকি দিয়েছেন এবং আইনি কৌশল ব্যবহার করে তা থেকে পার পেয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ড. ইউনূস যে প্রক্রিয়ায় কর সুবিধা পেয়েছেন, একই সুযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের দেওয়া হলে তারাও নিজেদের কারখানাকে নন-প্রফিট ঘোষণা করে কর অব্যাহতি নিতে পারতেন। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শওকত আজিজ রাসেল। তার অভিযোগ, দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে দ্রুততার সঙ্গে এমন একটি ‘অসম’ চুক্তি করা হয়েছে, যা স্বাধীন দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিদায় নেওয়ার আগে অফিস খুলে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি করা হয়েছে- এমন দাবি করে তিনি এর পেছনে ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ থাকার কথাও বলেন। তার ভাষ্য, চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারাতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ কোথা থেকে তেল বা ক্যাবল কিনবে, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব হবে না- এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার মতে, এটি ‘দাসত্বের চুক্তি’ এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গও টানেন আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে করা ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে মূল প্ল্যান্টের বাইরে অবকাঠামো নির্মাণেই ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থাও সরকার আগে থেকেই তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, যেহেতু অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, তাই ভবিষ্যতে একই আকারের প্রকল্প তুলনামূলক অর্ধেকেরও কম খরচে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে একই ধরনের প্রকল্প করা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এমন সুযোগ না থাকলে সেটিকে বড় ধরনের জাতীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন এই ব্যবসায়ী।

সবশেষে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, তিনি ভালো বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হতে পারেন। তবে তার অভিযোগ, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি জাতির সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন। বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে করা হয়েছে- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি শেষ করে, ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন : শওকত আজিজ

প্রকাশের সময় : ০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি টেলিভিশন টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সময় এসব মন্তব্য করেন শওকত আজিজ রাসেল। একপর্যায়ে ড. ইউনূস সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সময়ে দেশ ‘পুরোপুরি শেষ ও ধ্বংস’ হয়ে গেছে।

ড. ইউনূসের কর মওকুফের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ব্যবসায়ী। তার দাবি, চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন। শওকত আজিজ রাসেলের বক্তব্য, আগে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর পরিশোধ করা উচিত, এরপর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে চ্যারিটি বা মসজিদ নির্মাণের মতো কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।

তার অভিযোগ, ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নন-প্রফিট’ হিসেবে দেখিয়ে কর ফাঁকি দিয়েছেন এবং আইনি কৌশল ব্যবহার করে তা থেকে পার পেয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ড. ইউনূস যে প্রক্রিয়ায় কর সুবিধা পেয়েছেন, একই সুযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের দেওয়া হলে তারাও নিজেদের কারখানাকে নন-প্রফিট ঘোষণা করে কর অব্যাহতি নিতে পারতেন। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শওকত আজিজ রাসেল। তার অভিযোগ, দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে দ্রুততার সঙ্গে এমন একটি ‘অসম’ চুক্তি করা হয়েছে, যা স্বাধীন দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিদায় নেওয়ার আগে অফিস খুলে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি করা হয়েছে- এমন দাবি করে তিনি এর পেছনে ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ থাকার কথাও বলেন। তার ভাষ্য, চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারাতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ কোথা থেকে তেল বা ক্যাবল কিনবে, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব হবে না- এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার মতে, এটি ‘দাসত্বের চুক্তি’ এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গও টানেন আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে করা ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে মূল প্ল্যান্টের বাইরে অবকাঠামো নির্মাণেই ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থাও সরকার আগে থেকেই তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, যেহেতু অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, তাই ভবিষ্যতে একই আকারের প্রকল্প তুলনামূলক অর্ধেকেরও কম খরচে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে একই ধরনের প্রকল্প করা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এমন সুযোগ না থাকলে সেটিকে বড় ধরনের জাতীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন এই ব্যবসায়ী।

সবশেষে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, তিনি ভালো বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হতে পারেন। তবে তার অভিযোগ, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি জাতির সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন। বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে করা হয়েছে- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে।