
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক আর ‘ধর্ষণ’ নয়!ছেলে শিশুদের বলাৎকারে রয়েছে কঠোর শাস্তি ।#
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সম্প্রতি বড় ধরনের কিছু সংস্কার আনা হয়েছে। এই সংশোধনী সরাসরি প্রভাব ফেলবে হাজারো ভুক্তভোগীর জীবনে, তাই বিষয়টি সবার সহজভাবে জানা দরকার। চলুন সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি, নতুন আইনে আসলে কী কী বদলেছে।
আগে আইনে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হতো। নতুন সংশোধনীতে এই সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে কেউ যদি যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নিজের শরীরের কোনো অংশ বা অন্য কোনো বস্তু কোনো নারী বা শিশুর যোনি, পায়ুপথ বা মুখের ভেতরে প্রবেশ করান, সেটিকেও ‘যৌনকর্ম’ হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ, আগের চেয়ে অনেক বেশি ধরনের যৌন সহিংসতা এখন আইনের আওতায় আসবে।
এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—ছেলে শিশুর বলাৎকারকেও এখন থেকে ধর্ষণের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে এই সুরক্ষা মূলত নারী ও কন্যাশিশুর জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।
এই সংশোধনীর সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত অংশ হলো—‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্মতিতে যৌনকর্ম’কে এখন থেকে আর ‘ধর্ষণ’ বলা হবে না।
আগে যদি কোনো পুরুষ প্রেমের সম্পর্কে বা ঘনিষ্ঠতার সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো নারীর সঙ্গে স্বেচ্ছায় যৌনসম্পর্কে জড়াতেন, এবং পরে সেই প্রতিশ্রুতি না রাখতেন—তাহলে সেটি ‘ধর্ষণ মামলা’ হিসেবে দায়ের হতো। নতুন আইনে এই ধরনের ঘটনাকে ধর্ষণের পরিবর্তে একটি আলাদা, তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।
নতুন আইনে এই অপরাধের নাম দেওয়া হয়েছে: ‘আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকাকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বলপ্রয়োগহীন যৌনকর্ম’। সহজ ভাষায় বললে—কোনো ঘনিষ্ঠ বা বিশ্বাসের সম্পর্কে থাকা অবস্থায়, বলপ্রয়োগ ছাড়াই, বিয়ের কথা দিয়ে যদি কেউ যৌনসম্পর্কে জড়ান, সেটি এখন থেকে ‘ধর্ষণ’ নয় বরং একটি আলাদা অপরাধ—‘অপরাধমূলক বা প্রতারণামূলক যৌনকর্ম’ (ধারা ৯খ) হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয়েছে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
আইন সংশোধনের পেছনে যুক্তি হলো—জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগ ছাড়া, ভালোবাসার সম্পর্কে থেকে ঘটা স্বেচ্ছায় যৌনকর্মকে ‘ধর্ষণ’-এর মতো একই মাত্রার অপরাধ হিসেবে দেখা ঠিক নয় বলে মনে করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে একথাও স্বীকার করা হয়েছে যে, আমাদের সমাজে বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল’ করে অনেক নারীকে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করার ঘটনা অহরহই ঘটে। তাই এই ধরনের কাজকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্তও করা হয়নি।
অর্থাৎ, আইন প্রণেতাদের ভাষায়—এটি একটি ‘ভারসাম্য’ আনার চেষ্টা। প্রতারণার শিকার নারী এখনো আইনি প্রতিকার পাবেন, তবে অপরাধটিকে ধর্ষণ নয়, বরং আলাদা একটি ধারায় বিচার করা হবে।
সংশোধিত আইনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়েছে। আগে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কোনো নারী বা শিশুর গোপনাঙ্গে মারাত্মক জখম করা হলে তার জন্য আলাদা কোনো সাজার বিধান ছিল না। এখন ধারা ৯(৪)-তে নতুন উপ-ধারা (গ) যুক্ত করে এমন ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ছেলে শিশুর বলাৎকারকে ধর্ষণের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্মতিমূলক (বলপ্রয়োগহীন) যৌনকর্মকে ধর্ষণ থেকে আলাদা করে নতুন ধারা (৯খ)-এর অধীনে আনা হয়েছে, সাজা সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড।ধর্ষণের উদ্দেশ্যে গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।
@সিরাজ প্রামাণিক #everyonefollowersAdv Tamanna Afrin’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















