, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের

  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ২৮ পড়া হয়েছে

অনলাইন: ০৬ জুন ২০২৬, 

ঋতুপর্ণাদের এই উদ্‌যাপন বাংলাদেশ সমতা আনার পর। যদিও পরে ভারত আরও দুই গোল করেছেবাফুফে

নেপালি রেফারি অঞ্জনা রাই শেষ বাঁশি বাজাতেই গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে দেখা গেল দুটি সমান্তরাল ও বিপরীতধর্মী ছবি।

এক পাশে কমলা জার্সি পরা ভারতের মেয়েরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উল্লাসে মেতেছেন, ডাগআউট থেকে কোচ আর অন্যরা দৌড়ে আসছেন মাঠে। দীর্ঘ সাত বছরের ট্রফি–শূন্যতার অবসান ঘটিয়ে হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়ার আনন্দ তাঁদের চোখেমুখে।

ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে রইলেন সবুজ জার্সির হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা। দ্রুতই তাঁরা ডাগআউটে চলে যান। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে গত চার বছরে যে রাজত্ব গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল, তার অবসান ঘটার হতাশা যেন গ্রাস করল তাদের।

শেষ পর্যন্ত সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পারলেন না বাংলাদেশের মেয়েরা। ঘরের মাঠে হারানো সিংহাসন ফিরে পেতে মরিয়া ভারত নারী দলই শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে ফাইনাল জিতে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে। আটটি সাফের মধ্যে এটি তাদের ষষ্ঠ শিরোপা।

গোয়ার মারগাঁও শহরের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে দারুণ শুরুই করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যে কোণঠাসা অবস্থা ছিল, ফাইনালে তা ছিল না। বরং বাংলাদেশেরই প্রথমার্ধে প্রাধান্য ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধটা ভালো কাটেনি।

প্রথমার্ধে ১–১ সমতা ধরে রাখে বাংলাদেশ। যা দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায়বাফুফে

গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে বিবর্ণ পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলে হারা বাংলাদেশ ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি নিজেদের ভুলে। রক্ষণ আর গোলকিপিং আশানুরূপ ভালো হয়নি, তিন তিনটি গোল হজম করেছেন গোলরক্ষক মিলি।

ভারতের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙতে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে আক্রমণের শক্তি বাড়িয়েছিলেন। মাঝমাঠের উমেলাহ মারমা আর ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতিকে বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় দলের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের কৌশলে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে ঋতুপর্ণা চাকমার ঠেলে দেওয়া বলে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল হতে পারত, কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়র পা লাগাতে পারেননি। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় শুরুতেই।

ফাইনাল ম্যাচটা হয়ে উঠেছিল দুই দলের দুই তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা বনাম পেরুর লিগে খেলা ভারতের মনীষা কল্যাণের লড়াই। মাঠের পারফরম্যান্সে মনীষার চেয়ে স্পষ্টতই বেশি উজ্জ্বল ছিলেন ঋতুপর্ণা। গোলও করেছেন তাঁর সেই চেনা বাঁ পায়ের ছোঁয়ায়। নেপাল ম্যাচে অলিম্পিক গোল করে বিরতির ঠিক আগেই দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন তিনি। আজ অলিম্পিক গোল নয়, সমতাসূচক গোল করেন বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে।

জনপ্রিয়

হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

অনলাইন: ০৬ জুন ২০২৬, 

ঋতুপর্ণাদের এই উদ্‌যাপন বাংলাদেশ সমতা আনার পর। যদিও পরে ভারত আরও দুই গোল করেছেবাফুফে

নেপালি রেফারি অঞ্জনা রাই শেষ বাঁশি বাজাতেই গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে দেখা গেল দুটি সমান্তরাল ও বিপরীতধর্মী ছবি।

এক পাশে কমলা জার্সি পরা ভারতের মেয়েরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উল্লাসে মেতেছেন, ডাগআউট থেকে কোচ আর অন্যরা দৌড়ে আসছেন মাঠে। দীর্ঘ সাত বছরের ট্রফি–শূন্যতার অবসান ঘটিয়ে হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়ার আনন্দ তাঁদের চোখেমুখে।

ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে রইলেন সবুজ জার্সির হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা। দ্রুতই তাঁরা ডাগআউটে চলে যান। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে গত চার বছরে যে রাজত্ব গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল, তার অবসান ঘটার হতাশা যেন গ্রাস করল তাদের।

শেষ পর্যন্ত সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পারলেন না বাংলাদেশের মেয়েরা। ঘরের মাঠে হারানো সিংহাসন ফিরে পেতে মরিয়া ভারত নারী দলই শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে ফাইনাল জিতে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে। আটটি সাফের মধ্যে এটি তাদের ষষ্ঠ শিরোপা।

গোয়ার মারগাঁও শহরের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে দারুণ শুরুই করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যে কোণঠাসা অবস্থা ছিল, ফাইনালে তা ছিল না। বরং বাংলাদেশেরই প্রথমার্ধে প্রাধান্য ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধটা ভালো কাটেনি।

প্রথমার্ধে ১–১ সমতা ধরে রাখে বাংলাদেশ। যা দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায়বাফুফে

গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে বিবর্ণ পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলে হারা বাংলাদেশ ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি নিজেদের ভুলে। রক্ষণ আর গোলকিপিং আশানুরূপ ভালো হয়নি, তিন তিনটি গোল হজম করেছেন গোলরক্ষক মিলি।

ভারতের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙতে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে আক্রমণের শক্তি বাড়িয়েছিলেন। মাঝমাঠের উমেলাহ মারমা আর ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতিকে বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় দলের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের কৌশলে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে ঋতুপর্ণা চাকমার ঠেলে দেওয়া বলে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল হতে পারত, কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়র পা লাগাতে পারেননি। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় শুরুতেই।

ফাইনাল ম্যাচটা হয়ে উঠেছিল দুই দলের দুই তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা বনাম পেরুর লিগে খেলা ভারতের মনীষা কল্যাণের লড়াই। মাঠের পারফরম্যান্সে মনীষার চেয়ে স্পষ্টতই বেশি উজ্জ্বল ছিলেন ঋতুপর্ণা। গোলও করেছেন তাঁর সেই চেনা বাঁ পায়ের ছোঁয়ায়। নেপাল ম্যাচে অলিম্পিক গোল করে বিরতির ঠিক আগেই দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন তিনি। আজ অলিম্পিক গোল নয়, সমতাসূচক গোল করেন বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে।