, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায়

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১৭ পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ভিকটিমের পরিবার পাবে।

​রবিবার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

​আদালত ফাঁসির রায়ের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়:

​এই অর্থদণ্ডের টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন।

​আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা ভিকটিমের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​রায় ঘোষণার সময় বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পূর্বে শিশুটিকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।” প্রধান আসামির বিষয়ে আদালত বলেন, আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করা হয়নি; যা প্রমাণ করে সোহেল রানা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।

​অপরদিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, তিনি তার স্বামীকে পালাতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। এত বড় একটি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখায় তাকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

​এর আগে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সকাল ৮:৩০ মিনিট: কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রথম আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।

সকাল ৮:৫০ মিনিট: কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

সকাল ১১:০০ মিনিট: আসামিদের এজলাসে তোলার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন এবং চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

​এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয়

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশের সময় : ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ভিকটিমের পরিবার পাবে।

​রবিবার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

​আদালত ফাঁসির রায়ের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়:

​এই অর্থদণ্ডের টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন।

​আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা ভিকটিমের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​রায় ঘোষণার সময় বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পূর্বে শিশুটিকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।” প্রধান আসামির বিষয়ে আদালত বলেন, আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করা হয়নি; যা প্রমাণ করে সোহেল রানা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।

​অপরদিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, তিনি তার স্বামীকে পালাতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। এত বড় একটি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখায় তাকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

​এর আগে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সকাল ৮:৩০ মিনিট: কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রথম আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।

সকাল ৮:৫০ মিনিট: কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

সকাল ১১:০০ মিনিট: আসামিদের এজলাসে তোলার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন এবং চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

​এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।