
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওবায়দুল কাদেরের হাজার কোটি টাকার ‘লন্ডন কানেকশন’ ও পলায়ন রুট!
১. আওয়ামী লীগের ভেতরে যত সিনিয়র নেতা আছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে অহংকারী ও রূঢ় আচরণের অধিকারী হিসেবে political অঙ্গনে ওবায়দুল কাদেরের নাম সবচেয়ে বেশি সমালোচিত।
২. ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের স্বামীর ক্ষমতার জোরে বড় বড় মেগা প্রকল্পের টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন।
৩. এই দম্পতির কোনো নিজস্ব সন্তান না থাকায় আসাদুজ্জামান হিরু নামে এক পালক পুত্রকে তারা নিজেদের সন্তান হিসেবে বড় করেন।
৪. ওবায়দুল কাদেরের পালক পুত্র হিরুর বিরুদ্ধে political প্রভাবে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে ।
৫. লন্ডনের মাটিতে ‘লন্ডন টাচ’ (London Touch Limited) ও ‘প্যারাগন লাইফস্টাইল’ (Paragon Lifestyle UK) নামক রাজকীয় কলোথিং শোরুম ও ফ্যাশন হাউজ চালানো এই হিরু আসলে ওবায়দুল কাদেরের মেগা প্রজেক্টের লুটের টাকা পাচার করার প্রধান আন্তর্জাতিক খলিফা ছিলেন।
৬. অবশেষে প্রকৃতির নির্মম কর্মফলে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ মধ্যরাতে গুলশানের এক বিলাসবহুল বাড়ি থেকে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় হিরুকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৭. ওবায়দুল কাদেরের ক্ষমতার দাপটে একসময় ধরাকে সরা জ্ঞান করা এই পালক পুত্র আজ বিলাসী জীবন ছেড়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকারে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করছেন।
৮. ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীর ১৮ হাজার টাকা বেতনের সরকারি গাড়ি চালক আতিকুর রহমান মানিকগঞ্জে ২ কোটি টাকার ডুপ্লেক্স বাড়ি বানান।
৯. গাড়ি চালক আতিকুর ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীর প্রভাবে ঢাকার উত্তরায় বিলাসবহুল জেন্টস পার্লার ও রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনাসহ বিপুল বেনামী সম্পত্তির মালিক হন।
১০. ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই কাদের মির্জা নিজেই বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতেন।
১১. সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে বড় চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মূল হোতা ছিলেন ওবায়দুল কাদের।
১২. সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া এই বিপুল অঙ্কের ঘুষের টাকা সরাসরি মন্ত্রীর ঢাকা ও নোয়াখালীর বিশেষ রাজনৈতিক কার্যালয়ে লেনদেন হতো।
১৩. ক্ষমতার সময়ে ওবায়দুল কাদেরের রোলেক্স ও লুই ভিটোনসহ কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক ঘড়ির এক বিশাল গোপন সংগ্রহ ছি।
১৪. নির্বাচনকালীন হলফনামায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী মাত্র ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার মতো বৈধ ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য দেখিয়েছিলেন।
১৫. আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএফআইইউ ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রীর নামের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লকার সম্পূর্ণ ফ্রিজ বা জব্দ করেছে।
১৬. গোয়েন্দা তদন্ত অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের ও তাঁর সিন্ডিকেট লুটপাট এবং চাকুরির ঘুষের টাকা ভারত, দুবাই এবং কানাডায় পাচার করেছেন।
১৭. ২০১৯ সালে ওবায়দুল কাদের গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের দামী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যার দৈনিক খরচ ছিল সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।
১৮. সরকারি বেতনভুক্ত একজন মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এই কোটি কোটি টাকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং সিঙ্গাপুরের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার মেটানো হয়েছিল ‘কর্ণফুলী টানেল’ ও ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র মতো বড় বড় মেগা প্রজেক্টের ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও কমিশনের টাকায়।
১৯. দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা অনুযায়ী, নিজের বিলাসী জীবন ও চিকিৎসার খরচ সচল রাখতেই মূলত দেশের এই বড় বড় প্রজেক্টগুলোকে ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রী ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছিল।
২০. তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ওবায়দুল কাদেরের দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নাটকীয়তায় ভরা।২১. ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তিনি দীর্ঘ তিন মাস দেশের ভেতরেই অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তায় আত্মগোপন করে ছিলেন ।
২২. এরপর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকার একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের সহায়তায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে প্রবেশ করেন।
২৩. শিলংয়ে মাত্র কিছুদিন অবস্থান করার পর পুনরায় ধরা পড়ার ভয়ে তিনি আসামের গুয়াহাটি হয়ে স্থলপথে ট্রেইনে ছদ্মনাম ব্যবহার করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
২৪. সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি কলকাতার নিউ টাউন (Rajarhat New Town) এলাকার ‘DLF New Town Heights’ নামক একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের অত্যন্ত গোপন সেফ হাউজে অবস্থান করছেন।
25.যে ওবায়দুল কাদের ক্ষমতার মসনদে বসে প্রতিনিয়ত গলা ফাটিয়ে বড় বড় অহংকারী ডায়ালগ দিতেন এবং বলতেন ‘আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না’, আজ তারাই দেশের কোটি কোটি মানুষের সাথে চরম বেইমানি করে রাতের অন্ধকারে ইঁদুরের মতো পালিয়ে প্রবাসে জীবন ভিক্ষা চাচ্ছেন!
আমার লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট, শেয়ার শেয়ার করবেন ও প্লিজ ফলো করবেন ।ধন্যবাদ
Tasmina Khandoker’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















