, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

কোম্পানি বন্ধ করে দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না:সংসদে অর্থমন্ত্রী

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬২ পড়া হয়েছে
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীছবি: বাসস
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব হিসাব করতে হবে। আবেগের ওপর অর্থনীতি চলে না। আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পূরক প্রশ্নে হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে ঋণখেলাপির দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন। অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি জানতে চান, সরকার এসব ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নিলামে তুলে কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করে, বিশেষ ঋণ দিয়ে মূলত ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না, এর মাধ্যমে বিদেশি ঋণদাতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত হবে কি না?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক খাত পরিচালনায় কতগুলো নীতি আছে। ব্যক্তির পরিচয় আর প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভিন্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে, তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, তারা নেবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার হবে। তাদের বিচার চলছে এবং চলতে থাকবে।
দুর্নীতির কারণে কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন, তাকে জেলে দিতে পারবেন, ফাঁসিও হবে। বাট দ্য কোম্পানি ইজ আ লিগ্যাল বডি, কোম্পানিকে সেপারেট করে… কোম্পানির কার্যক্রম চলতে দিতে হবে, সেটা যে কোম্পানিই হোক।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যেকোনো কোম্পানিকে কোনো ব্যক্তির কারণে বন্ধ করে দিলে সেই কোম্পানিতে লোকজন চাকরি করে, সেই কোম্পানির দায় আছে, সেই কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সেই কোম্পানির অর্থনীতিতে কন্ট্রিবিউশন আছে। ওই কোম্পানির এমপ্লয়মেন্টের ক্ষতি করে, বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশের কোনো অর্থনীতি চলতে পারে না।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সেই কোম্পানির যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির জন্য বিচার হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে, তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, তারা নেবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার হবে। তাদের বিচার চলছে এবং চলতে থাকবে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের (৩০ জুন, ২০২৬ ভিত্তিক) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই ব্যাংকগুলো হলো অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকের। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার
কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমানে (৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

কোম্পানি বন্ধ করে দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না:সংসদে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীছবি: বাসস
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব হিসাব করতে হবে। আবেগের ওপর অর্থনীতি চলে না। আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পূরক প্রশ্নে হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে ঋণখেলাপির দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন। অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি জানতে চান, সরকার এসব ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নিলামে তুলে কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করে, বিশেষ ঋণ দিয়ে মূলত ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না, এর মাধ্যমে বিদেশি ঋণদাতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত হবে কি না?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক খাত পরিচালনায় কতগুলো নীতি আছে। ব্যক্তির পরিচয় আর প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভিন্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে, তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, তারা নেবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার হবে। তাদের বিচার চলছে এবং চলতে থাকবে।
দুর্নীতির কারণে কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন, তাকে জেলে দিতে পারবেন, ফাঁসিও হবে। বাট দ্য কোম্পানি ইজ আ লিগ্যাল বডি, কোম্পানিকে সেপারেট করে… কোম্পানির কার্যক্রম চলতে দিতে হবে, সেটা যে কোম্পানিই হোক।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যেকোনো কোম্পানিকে কোনো ব্যক্তির কারণে বন্ধ করে দিলে সেই কোম্পানিতে লোকজন চাকরি করে, সেই কোম্পানির দায় আছে, সেই কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সেই কোম্পানির অর্থনীতিতে কন্ট্রিবিউশন আছে। ওই কোম্পানির এমপ্লয়মেন্টের ক্ষতি করে, বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশের কোনো অর্থনীতি চলতে পারে না।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সেই কোম্পানির যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির জন্য বিচার হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে, তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, তারা নেবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার হবে। তাদের বিচার চলছে এবং চলতে থাকবে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের (৩০ জুন, ২০২৬ ভিত্তিক) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই ব্যাংকগুলো হলো অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকের। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার
কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমানে (৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।