, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

নীরব মহামারী: বৃক্ক-রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি দেরি করে ফেলছে?

  • প্রকাশের সময় : ১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৩ পড়া হয়েছে
অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীরব মহামারী: বৃক্ক-রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি দেরি করে ফেলছে?

বৃ-রোগ শুধু চিকিৎসা-সমস্যা নয়, এটি দারিদ্র্য তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি, প্রখ্যাত শিশু-সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম দীর্ঘদিন বৃক্ক-জনিত জটিলতায় ভুগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
২০০৭ সালে জানা যায়, অভিনেত্রী রোজি আফসারী কয়েক বছর বৃক্কের অসুস্থতায় ভুগে, বৃক্কের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে মারা যান। প্রখ্যাত লালন গায়িকা ফরিদা পারভীনও দীর্ঘদিন বৃক্ক-সংকটে ভুগে ২০২৫ সালে মারা যান।
ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক বৃক্ক প্রতিস্থাপন করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। জুলেখা সিরাপ মেটাভার্সের সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাহতাব হাসানও তীব্র বৃক্কজনিত সমস্যায় মারা গেছেন।
এসব ঘটনা প্রশ্ন তোলে: বাংলাদেশে বৃক্ক-রোগ কি ইতিমধ্যে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে? রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ও সমাজ কি সেই অনুপাতে প্রস্তুত? আর এই চিকিৎসার জন্য পরিবারগুলো কতটা অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছে?
১) বাংলাদেশে বৃক্ক-রোগ কতটা বড় সমস্যা?
জাতীয় পর্যায়ে নির্ভুল ও নিয়মিত বৃক্করোগ-মৃত্যু নিবন্ধন এখনও দুর্বল। তাই গবেষণা, হাসপাতালভিত্তিক তথ্য, মডেল এবং বেসরকারি সংস্থার হিসাবের মধ্যে পার্থক্য আছে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী বৃক্করোগ (CKD) যে বড় ও ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই । যুক্তরাষ্ট্রের National Library of Medicine/National Center for Biotechnology Information (NLM/NCBI)-এ প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণে বাংলাদেশে CKD-এর প্রাদুর্ভাব প্রায় ২২.৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর এলাকা, বয়স ও নমুনা-পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এই হার পুরো দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না।
Global Burden of Disease (GBD)-এর একটি বিশ্লেষণে বাংলাদেশে আনুমানিক ১ কোটি ১২ লাখ মানুষ CKD-তে আক্রান্ত এবং ২০১৯ সালে CKD-জনিত মৃত্যু প্রায় ১৬,৭৮৩ বলে মডেল করা হয়েছিল। এগুলো হাসপাতালের সরাসরি হিসাব নয়, আন্তর্জাতিক রোগ-ভার মডেলের অনুমান।
Kidney Foundation Bangladesh-এর হিসাব উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো বৃক্ক-জনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ শেষ পর্যায়ের বৃক্ক-জটিলতায় মারা যেতে পারেন। এটিও সরকারি মৃত্যু-নিবন্ধনের সংখ্যা নয়, সংস্থাটির অনুমান।
সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সমস্যাটি বড়, এ বিষয়ে বিতর্কের অবকাশ কম।
২) “নীরব” রোগ কেন এত ভয়ংকর?
বৃক্কের কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেলেও দীর্ঘ সময় মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারে। CKD তাই প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে। ক্রিয়েটিনিন, eGFR এবং প্রস্রাবে proteinuria/albuminuria পরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে আগে শনাক্ত করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে তখন, যখন বৃক্কের কার্যক্ষমতা ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
৩) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বড় কারণ
বাংলাদেশে CKD-কে শুধু খাদ্যে ভেজাল বা দূষণের ফল হিসেবে দেখা ভুল। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ী বৃক্করোগের অন্যতম প্রধান কারণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর বাংলাদেশের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য CKD পাওয়া গেছে। নগরায়ণ, স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বৃদ্ধি, সব মিলিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে।
৪) খাদ্য-দূষণ ও ভারী ধাতু
খাদ্য-দূষণ, ভারী ধাতু, কীটনাশক, অনিরাপদ পানি ও বায়ুদূষণ বৃক্কের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তবে বাংলাদেশে মোট বৃক্ক-রোগের কত শতাংশ দূষণের কারণে হচ্ছে, তার নির্ভুল জাতীয় হিসাব নেই।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় সীসা (lead)। বাংলাদেশের হলুদ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নয়টি প্রধান উৎপাদনকারী জেলার সাতটিতে lead chromate দিয়ে হলুদ উজ্জ্বল করার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং কিছু নমুনায় সীসার মাত্রা অনুমোদিত সীমার তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি ছিল।
পরবর্তী একটি হস্তক্ষেপমূলক গবেষণায় বাজারের হলুদে সীসা-দূষণের হার ৪৭ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার সাফল্য দেখা যায়। অর্থাৎ নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যকর হলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মুনশিগঞ্জের ২০–৪০ মাস বয়সী শিশুদের ওপর গবেষণায় রক্তে উদ্বেগজনক সীসার মাত্রা এবং হলুদের নমুনায় উচ্চ সীসা পাওয়া যায়। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শিশুর বৃক্করোগ হলুদের কারণে; বরং খাদ্য ও পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থে শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
৫) রেস্টুরেন্ট ও খাদ্য-নিরাপত্তা
বাংলাদেশের ৩০০টি রেস্টুরেন্ট ও ৬০০ জন রাস্তার খাবার বিক্রেতা নিয়ে একটি গবেষণায় খাদ্য প্রস্তুতির সময় হাত ধোয়ার বড় ঘাটতি পাওয়া যায়। রাস্তার বিক্রেতাদের মাত্র ১১ শতাংশের কাছে সাবান ও পানি দুটোই ছিল। খাবার তৈরির আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া দেখা গেছে মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং পরিবেশনের আগে ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে।
এটি সরাসরি CKD-এর কারণ প্রমাণ করে না। তবে খাদ্য-ব্যবস্থার স্বাস্থ্যবিধি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পরীক্ষায় ১,৭১৩টি খাদ্য নমুনার মধ্যে ৫৭১টি, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, ভেজাল, দূষিত বা পুষ্টিমান-সংক্রান্ত সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এতে আচার, সস, চিপস, মুড়ি, ফলের পানীয়, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, মধু ইত্যাদি ছিল। এটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ খাবার ভেজাল প্রমাণ করে না, কিন্তু বড় সতর্কসংকেত।
বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের অস্থায়ী রান্নাঘরেও পানি, সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
৬) ভারী ধাতু ও পানি
বাংলাদেশে চাল, শাকসবজি, মাছ, দুধ ও মাংসে সীসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক ও ক্রোমিয়াম নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় খাদ্যের মাধ্যমে আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম গ্রহণযোগ্য দৈনিক সীমা ছাড়ানোর ঝুঁকি পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জে CKD রোগী ও সুস্থ মানুষের একটি ছোট গবেষণায় CKD রোগীদের প্রস্রাবে সীসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। আর্সেনিক বাংলাদেশের অন্যতম বড় পরিবেশগত ঝুঁকি।
২০২৫ সালের JAMA-তে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে প্রায় ১১,৭৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘ-মেয়াদি তথ্য ব্যবহার করা হয়; প্রস্রাবে আর্সেনিকের মাত্রা কমার সঙ্গে দীর্ঘ-মেয়াদি রোগজনিত মৃত্যু-ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততাও নতুন উদ্বেগ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গবেষণায় পানিতে বেশি লবণাক্ততা ও সোডিয়ামের সঙ্গে প্রস্রাবে সোডিয়াম ও proteinuria বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায়। এটি “লবণাক্ত পানি খেলেই বৃক্ক বিকল হবে” প্রমাণ করে না; তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা যে বৃক্ক-স্বাস্থ্যের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
৭) কৃষক ও শ্রমজীবীদের ঝুঁকি
বিশ্ব জুড়ে Chronic Kidney Disease of unknown origin (CKDu) নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কৃষি-শ্রমিক, প্রচণ্ড গরমে কাজ, পানিশূন্যতা, কীটনাশক ও কিছু ভারী ধাতুকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে কৃষি-শ্রমিক, নির্মাণ-শ্রমিক, রিকশা-চালক, দিন-মজুর এবং গরমে বাইরে কাজ করা মানুষের বৃক্ক-স্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রয়োজন। তাপপ্রবাহ, অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা ও বারবার AKI ভবিষ্যতে CKD-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৮) তাহলে কি বাংলাদেশে “বৃক্ক-রোগের মহামারী” চলছে?
“মহামারী” চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে। তাই সংক্রামক রোগের মতো কোনো একক জীবাণুর কারণে বৃক্ক-রোগের মহামারী চলছে, এমন দাবি করা ঠিক নয়।
কিন্তু যদি “মহামারী” বলতে বোঝানো হয়, বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত, রোগ দীর্ঘমেয়াদি, মৃত্যু-ঝুঁকি ও চিকিৎসা-ব্যয় বেশি এবং স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা চাপের মুখে, তাহলে বৃক্ক-রোগকে বাংলাদেশের বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ আছে।
৯) ডায়ালাইসিস: চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যুদ্ধ
End-stage Kidney Disease (ESKD) হলে অনেক রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস সুবিধা অসমভাবে বণ্টিত; একটি গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় অর্ধেক জেলার কাছাকাছি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুবিধা ছিল না এবং অধিকাংশ কেন্দ্র বড় শহর ও বিশেষত ঢাকা-কেন্দ্রিক। চিকিৎসার সঙ্গে যোগ হয় যাতায়াত, থাকা, খাবার, কর্মদিবস নষ্ট হওয়া ও সঙ্গীর খরচ।
BIDS-এর ৪৭৭ জন ডায়ালাইসিস রোগীর জরিপে গড় মাসিক চিকিৎসা ব্যয় ছিল প্রায় ৪৬,৪২৬ টাকা; যাদের কারো ব্যয় প্রায় ৬,৬৯০ টাকা, আবার কারো ব্যয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। প্রায় ৯২–৯৩ শতাংশ পরিবার গুরুতর আর্থিক চাপের কথা জানিয়েছে।
অর্থাৎ বৃক্ক-রোগ শুধু চিকিৎসা সমস্যা নয়, এটি দারিদ্র্য তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
সরকারি ডায়ালাইসিস তুলনামূলক সস্তা হলেও আসন সীমিত। একটি আন্তর্জাতিক পর্যালোচনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি হিমোডায়ালাইসিস সেশনের খরচ আনুমানিক ৪৪–৬২ মার্কিন ডলার, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ১২–১৮ ডলার বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংবাদেও সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সেবার কয়েকশ টাকা বনাম বেসরকারি কেন্দ্রে কয়েক হাজার টাকার ব্যবধান দেখা যায়।
১০) বৃক্ক প্রতিস্থাপন ও বিদেশে চিকিৎসা
চূড়ান্ত পর্যায়ের রোগে Kidney transplantation দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একটি পথ। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিস্থাপনের হার কম। International Society of Nephrology-এর দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষণে বাংলাদেশে হার প্রতি মিলিয়নে প্রায় ১.৪, ভারতে প্রায় ৩.৬।
দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশে যায়। ভারতীয় সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে ভারতে মোট ১০,১৪০টি বৃক্ক প্রতিস্থাপন হয়, ৮,৭৬৫টি জীবিত দাতার এবং ১,৩৭৫টি মৃতদাতার।
এগুলো বাংলাদেশিদের সংখ্যা নয়। তবে ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসা ভিসায় ভারতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশিরা বছরে শুধু বৃক্ক-চিকিৎসায় কত অর্থ বিদেশে ব্যয় করেন, এর নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক দাবি করা দায়িত্বশীল হবে না।
১১) কত মানুষ ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছান?
বিভিন্ন গবেষণা ও অনুমান অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩০–৪০ হাজার নতুন রোগী এমন পর্যায়ে পৌঁছান, যাদের Kidney Replacement Therapy (KRT), ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু অবকাঠামো এই চাহিদার ছোট অংশ পূরণ করতে পারে। ফলে কেউ চিকিৎসা শুরু করেও বন্ধ করেন, কেউ ঋণ করেন বা সম্পদ বিক্রি করেন, কেউ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ রোগ নির্ণয়ই করাতে পারেন না।
১২) শিশুদের কথা ভুললে চলবে না
বৃক্ক-রোগ শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত ও মূত্রনালির ত্রুটি, বংশগত রোগ, সংক্রমণ, glomerular disease এবং AKI গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে হাসপাতালভিত্তিক গবেষণা থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে CKD-এর নির্ভুল চিত্র দুর্বল। অথচ আগেভাগে শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব।
১৩) সংকটের মূল কারণ
বাংলাদেশের বৃক্ক-রোগ সংকট বহু কারণের সমষ্টি:
  • চিকিৎসাগত: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, glomerular disease, সংক্রমণ, জন্মগত ও বংশগত রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ, AKI।
  • পরিবেশগত: আর্সেনিক, লবণাক্ততা, ভারী ধাতু, শিল্পদূষণ, কীটনাশক, বায়ুদূষণ, তাপ ও পানিশূন্যতা।
  • খাদ্যগত: ভেজাল, অননুমোদিত রং, সীসাযুক্ত রং, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, নিম্নমানের তেল।
  • সামাজিক-অর্থনৈতিক: দেরিতে রোগ শনাক্ত, পরীক্ষার ব্যয়, গ্রাম-শহর বৈষম্য, ডায়ালাইসিসের উচ্চ ব্যয়, সীমিত সরকারি আসন, প্রতিস্থাপনের সীমিত সুযোগ ও বিদেশে চিকিৎসা।
১৪. সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা: প্রতিরোধে কম মনোযোগ
রোগী ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা শুরু করা অনেক দেরি। ৩০–৪০ বছর বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন, ক্রিয়েটিনিন ও eGFR পরীক্ষা, ডায়ালাইসিসের তুলনায় অনেক সস্তা।
প্রতিরোধ মানে শুধু “কম লবণ খান” বলা নয়। এর অর্থ নিরাপদ পানি, বিষাক্ত রং বন্ধ, ভারী ধাতুর পরীক্ষা, কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের তাপ ও পানিশূন্যতা থেকে সুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে CKD screening সহজলভ্য করা।
রেস্টুরেন্ট বা ক্যাটারিং বন্ধ করা সমাধান নয়; দরকার নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্যমান পরীক্ষা, নিরাপদ রং ও উপকরণের উৎস যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা।
১৫. কি করা প্রয়োজন?
একটি শক্তিশালী National Kidney Health Programme-এর অন্তত কয়েকটি স্তর থাকা দরকার:
প্রথমত: CKD, AKI, ESKD, ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনের জাতীয় নিবন্ধন ও ডেটাবেস।
দ্বিতীয়ত: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকা মানুষের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ, ক্রিয়েটিনিন, eGFR ও urine albumin/protein পরীক্ষা।
তৃতীয়ত: হলুদ, মরিচ, তেল, মসলা, সস, মিষ্টি, পানীয়, চাল, ডাল, মাছ ও শাকসবজির নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষা।
চতুর্থত: আর্সেনিক, লবণাক্ততা, ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষকের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পানি পরীক্ষা।
পঞ্চমত: দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে ডায়ালাইসিস আনা এবং জেলা পর্যায়ে সেবা বাড়ানো।
ষষ্ঠত: বৃক্ক প্রতিস্থাপন, মৃতদাতা অঙ্গ সংগ্রহ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
সপ্তমত: স্কুল পর্যায়ে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জন্মগত বৃক্ক/মূত্রনালির ত্রুটি ও AKI দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা।
আমরা কি দেরি করে ফেলেছি?
সম্ভবত না। কিন্তু আর দেরি করার সুযোগও নেই।
একদিকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে; অন্যদিকে খাদ্যদূষণ, ভারী ধাতু, আর্সেনিক, লবণাক্ততা, পরিবেশদূষণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও তাপ-প্রবাহ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো ও ব্যয়বহুল ডায়ালাইসিস।
ফলে একটি পরিবারকে একই সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ করতে হয়: রোগের বিরুদ্ধে, চিকিৎসার জন্য এবং অর্থনৈতিক ধ্বংসের বিরুদ্ধে।
গায়িকা ফরিদা পারভীন, অভিনেত্রী রোজি আফসারী, ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক, চলচ্চিত্রকার গাজী মাহতাব হাসান এবং শিশু-সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম-এর মৃত্যু মনে করিয়ে দেয়, বৃক্করোগ কোনো বিমূর্ত পরিসংখ্যান নয়।
ডায়ালাইসিস শেষ পর্যায়ের চিকিৎসা। লড়াই শুরু করতে হবে তার অনেক আগে, খাবারের বাজারে, পানির উৎসে, কর্মক্ষেত্রে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, স্কুলে এবং প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্যসচেতনতায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই শুধু “কতজন বৃক্ক-রোগে মারা যাচ্ছেন?” নয়।
প্রশ্ন হলো: কতজনকে সময়-মতো শনাক্ত করা যেতো? কতজনকে প্রতিরোধ করা যেতো? কতজনকে নিরাপদ পানি ও খাবার দিয়ে বাঁচানো যেতো? কত পরিবারকে ডায়ালাইসিসের আর্থিক ধ্বংস থেকে রক্ষা করা যেতো?
একটি বৃক্ক স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু নষ্ট হওয়ার আগে কারণটি থামাতে পারা সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
জুলেখা সিরাপ মেটাভার্স বিশেষ প্রতিবেদন
গবেষনা: নওরোজ দৌলা, সিবিল মির্জা, অন্তরা মেহজাবিন, শাহদাত মুনশি
সম্পাদনা: তৃণা রাব্বানি
উপদেষ্টা: চয়ন খায়রুল হাবিব

Lubna Yasmin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

নীরব মহামারী: বৃক্ক-রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি দেরি করে ফেলছে?

প্রকাশের সময় : ১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীরব মহামারী: বৃক্ক-রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি দেরি করে ফেলছে?

বৃ-রোগ শুধু চিকিৎসা-সমস্যা নয়, এটি দারিদ্র্য তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি, প্রখ্যাত শিশু-সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম দীর্ঘদিন বৃক্ক-জনিত জটিলতায় ভুগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
২০০৭ সালে জানা যায়, অভিনেত্রী রোজি আফসারী কয়েক বছর বৃক্কের অসুস্থতায় ভুগে, বৃক্কের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে মারা যান। প্রখ্যাত লালন গায়িকা ফরিদা পারভীনও দীর্ঘদিন বৃক্ক-সংকটে ভুগে ২০২৫ সালে মারা যান।
ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক বৃক্ক প্রতিস্থাপন করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। জুলেখা সিরাপ মেটাভার্সের সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাহতাব হাসানও তীব্র বৃক্কজনিত সমস্যায় মারা গেছেন।
এসব ঘটনা প্রশ্ন তোলে: বাংলাদেশে বৃক্ক-রোগ কি ইতিমধ্যে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে? রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ও সমাজ কি সেই অনুপাতে প্রস্তুত? আর এই চিকিৎসার জন্য পরিবারগুলো কতটা অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছে?
১) বাংলাদেশে বৃক্ক-রোগ কতটা বড় সমস্যা?
জাতীয় পর্যায়ে নির্ভুল ও নিয়মিত বৃক্করোগ-মৃত্যু নিবন্ধন এখনও দুর্বল। তাই গবেষণা, হাসপাতালভিত্তিক তথ্য, মডেল এবং বেসরকারি সংস্থার হিসাবের মধ্যে পার্থক্য আছে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী বৃক্করোগ (CKD) যে বড় ও ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই । যুক্তরাষ্ট্রের National Library of Medicine/National Center for Biotechnology Information (NLM/NCBI)-এ প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণে বাংলাদেশে CKD-এর প্রাদুর্ভাব প্রায় ২২.৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর এলাকা, বয়স ও নমুনা-পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এই হার পুরো দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না।
Global Burden of Disease (GBD)-এর একটি বিশ্লেষণে বাংলাদেশে আনুমানিক ১ কোটি ১২ লাখ মানুষ CKD-তে আক্রান্ত এবং ২০১৯ সালে CKD-জনিত মৃত্যু প্রায় ১৬,৭৮৩ বলে মডেল করা হয়েছিল। এগুলো হাসপাতালের সরাসরি হিসাব নয়, আন্তর্জাতিক রোগ-ভার মডেলের অনুমান।
Kidney Foundation Bangladesh-এর হিসাব উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো বৃক্ক-জনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ শেষ পর্যায়ের বৃক্ক-জটিলতায় মারা যেতে পারেন। এটিও সরকারি মৃত্যু-নিবন্ধনের সংখ্যা নয়, সংস্থাটির অনুমান।
সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সমস্যাটি বড়, এ বিষয়ে বিতর্কের অবকাশ কম।
২) “নীরব” রোগ কেন এত ভয়ংকর?
বৃক্কের কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেলেও দীর্ঘ সময় মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারে। CKD তাই প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে। ক্রিয়েটিনিন, eGFR এবং প্রস্রাবে proteinuria/albuminuria পরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে আগে শনাক্ত করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে তখন, যখন বৃক্কের কার্যক্ষমতা ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
৩) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বড় কারণ
বাংলাদেশে CKD-কে শুধু খাদ্যে ভেজাল বা দূষণের ফল হিসেবে দেখা ভুল। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ী বৃক্করোগের অন্যতম প্রধান কারণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর বাংলাদেশের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য CKD পাওয়া গেছে। নগরায়ণ, স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বৃদ্ধি, সব মিলিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে।
৪) খাদ্য-দূষণ ও ভারী ধাতু
খাদ্য-দূষণ, ভারী ধাতু, কীটনাশক, অনিরাপদ পানি ও বায়ুদূষণ বৃক্কের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তবে বাংলাদেশে মোট বৃক্ক-রোগের কত শতাংশ দূষণের কারণে হচ্ছে, তার নির্ভুল জাতীয় হিসাব নেই।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় সীসা (lead)। বাংলাদেশের হলুদ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নয়টি প্রধান উৎপাদনকারী জেলার সাতটিতে lead chromate দিয়ে হলুদ উজ্জ্বল করার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং কিছু নমুনায় সীসার মাত্রা অনুমোদিত সীমার তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি ছিল।
পরবর্তী একটি হস্তক্ষেপমূলক গবেষণায় বাজারের হলুদে সীসা-দূষণের হার ৪৭ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার সাফল্য দেখা যায়। অর্থাৎ নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যকর হলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মুনশিগঞ্জের ২০–৪০ মাস বয়সী শিশুদের ওপর গবেষণায় রক্তে উদ্বেগজনক সীসার মাত্রা এবং হলুদের নমুনায় উচ্চ সীসা পাওয়া যায়। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শিশুর বৃক্করোগ হলুদের কারণে; বরং খাদ্য ও পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থে শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
৫) রেস্টুরেন্ট ও খাদ্য-নিরাপত্তা
বাংলাদেশের ৩০০টি রেস্টুরেন্ট ও ৬০০ জন রাস্তার খাবার বিক্রেতা নিয়ে একটি গবেষণায় খাদ্য প্রস্তুতির সময় হাত ধোয়ার বড় ঘাটতি পাওয়া যায়। রাস্তার বিক্রেতাদের মাত্র ১১ শতাংশের কাছে সাবান ও পানি দুটোই ছিল। খাবার তৈরির আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া দেখা গেছে মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং পরিবেশনের আগে ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে।
এটি সরাসরি CKD-এর কারণ প্রমাণ করে না। তবে খাদ্য-ব্যবস্থার স্বাস্থ্যবিধি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পরীক্ষায় ১,৭১৩টি খাদ্য নমুনার মধ্যে ৫৭১টি, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, ভেজাল, দূষিত বা পুষ্টিমান-সংক্রান্ত সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এতে আচার, সস, চিপস, মুড়ি, ফলের পানীয়, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, মধু ইত্যাদি ছিল। এটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ খাবার ভেজাল প্রমাণ করে না, কিন্তু বড় সতর্কসংকেত।
বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের অস্থায়ী রান্নাঘরেও পানি, সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
৬) ভারী ধাতু ও পানি
বাংলাদেশে চাল, শাকসবজি, মাছ, দুধ ও মাংসে সীসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক ও ক্রোমিয়াম নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় খাদ্যের মাধ্যমে আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম গ্রহণযোগ্য দৈনিক সীমা ছাড়ানোর ঝুঁকি পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জে CKD রোগী ও সুস্থ মানুষের একটি ছোট গবেষণায় CKD রোগীদের প্রস্রাবে সীসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। আর্সেনিক বাংলাদেশের অন্যতম বড় পরিবেশগত ঝুঁকি।
২০২৫ সালের JAMA-তে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে প্রায় ১১,৭৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘ-মেয়াদি তথ্য ব্যবহার করা হয়; প্রস্রাবে আর্সেনিকের মাত্রা কমার সঙ্গে দীর্ঘ-মেয়াদি রোগজনিত মৃত্যু-ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততাও নতুন উদ্বেগ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গবেষণায় পানিতে বেশি লবণাক্ততা ও সোডিয়ামের সঙ্গে প্রস্রাবে সোডিয়াম ও proteinuria বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায়। এটি “লবণাক্ত পানি খেলেই বৃক্ক বিকল হবে” প্রমাণ করে না; তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা যে বৃক্ক-স্বাস্থ্যের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
৭) কৃষক ও শ্রমজীবীদের ঝুঁকি
বিশ্ব জুড়ে Chronic Kidney Disease of unknown origin (CKDu) নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কৃষি-শ্রমিক, প্রচণ্ড গরমে কাজ, পানিশূন্যতা, কীটনাশক ও কিছু ভারী ধাতুকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে কৃষি-শ্রমিক, নির্মাণ-শ্রমিক, রিকশা-চালক, দিন-মজুর এবং গরমে বাইরে কাজ করা মানুষের বৃক্ক-স্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রয়োজন। তাপপ্রবাহ, অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা ও বারবার AKI ভবিষ্যতে CKD-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৮) তাহলে কি বাংলাদেশে “বৃক্ক-রোগের মহামারী” চলছে?
“মহামারী” চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে। তাই সংক্রামক রোগের মতো কোনো একক জীবাণুর কারণে বৃক্ক-রোগের মহামারী চলছে, এমন দাবি করা ঠিক নয়।
কিন্তু যদি “মহামারী” বলতে বোঝানো হয়, বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত, রোগ দীর্ঘমেয়াদি, মৃত্যু-ঝুঁকি ও চিকিৎসা-ব্যয় বেশি এবং স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা চাপের মুখে, তাহলে বৃক্ক-রোগকে বাংলাদেশের বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ আছে।
৯) ডায়ালাইসিস: চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যুদ্ধ
End-stage Kidney Disease (ESKD) হলে অনেক রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস সুবিধা অসমভাবে বণ্টিত; একটি গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় অর্ধেক জেলার কাছাকাছি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুবিধা ছিল না এবং অধিকাংশ কেন্দ্র বড় শহর ও বিশেষত ঢাকা-কেন্দ্রিক। চিকিৎসার সঙ্গে যোগ হয় যাতায়াত, থাকা, খাবার, কর্মদিবস নষ্ট হওয়া ও সঙ্গীর খরচ।
BIDS-এর ৪৭৭ জন ডায়ালাইসিস রোগীর জরিপে গড় মাসিক চিকিৎসা ব্যয় ছিল প্রায় ৪৬,৪২৬ টাকা; যাদের কারো ব্যয় প্রায় ৬,৬৯০ টাকা, আবার কারো ব্যয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। প্রায় ৯২–৯৩ শতাংশ পরিবার গুরুতর আর্থিক চাপের কথা জানিয়েছে।
অর্থাৎ বৃক্ক-রোগ শুধু চিকিৎসা সমস্যা নয়, এটি দারিদ্র্য তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
সরকারি ডায়ালাইসিস তুলনামূলক সস্তা হলেও আসন সীমিত। একটি আন্তর্জাতিক পর্যালোচনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি হিমোডায়ালাইসিস সেশনের খরচ আনুমানিক ৪৪–৬২ মার্কিন ডলার, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ১২–১৮ ডলার বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংবাদেও সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সেবার কয়েকশ টাকা বনাম বেসরকারি কেন্দ্রে কয়েক হাজার টাকার ব্যবধান দেখা যায়।
১০) বৃক্ক প্রতিস্থাপন ও বিদেশে চিকিৎসা
চূড়ান্ত পর্যায়ের রোগে Kidney transplantation দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একটি পথ। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিস্থাপনের হার কম। International Society of Nephrology-এর দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষণে বাংলাদেশে হার প্রতি মিলিয়নে প্রায় ১.৪, ভারতে প্রায় ৩.৬।
দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশে যায়। ভারতীয় সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে ভারতে মোট ১০,১৪০টি বৃক্ক প্রতিস্থাপন হয়, ৮,৭৬৫টি জীবিত দাতার এবং ১,৩৭৫টি মৃতদাতার।
এগুলো বাংলাদেশিদের সংখ্যা নয়। তবে ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসা ভিসায় ভারতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশিরা বছরে শুধু বৃক্ক-চিকিৎসায় কত অর্থ বিদেশে ব্যয় করেন, এর নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক দাবি করা দায়িত্বশীল হবে না।
১১) কত মানুষ ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছান?
বিভিন্ন গবেষণা ও অনুমান অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩০–৪০ হাজার নতুন রোগী এমন পর্যায়ে পৌঁছান, যাদের Kidney Replacement Therapy (KRT), ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু অবকাঠামো এই চাহিদার ছোট অংশ পূরণ করতে পারে। ফলে কেউ চিকিৎসা শুরু করেও বন্ধ করেন, কেউ ঋণ করেন বা সম্পদ বিক্রি করেন, কেউ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ রোগ নির্ণয়ই করাতে পারেন না।
১২) শিশুদের কথা ভুললে চলবে না
বৃক্ক-রোগ শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত ও মূত্রনালির ত্রুটি, বংশগত রোগ, সংক্রমণ, glomerular disease এবং AKI গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে হাসপাতালভিত্তিক গবেষণা থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে CKD-এর নির্ভুল চিত্র দুর্বল। অথচ আগেভাগে শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব।
১৩) সংকটের মূল কারণ
বাংলাদেশের বৃক্ক-রোগ সংকট বহু কারণের সমষ্টি:
  • চিকিৎসাগত: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, glomerular disease, সংক্রমণ, জন্মগত ও বংশগত রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ, AKI।
  • পরিবেশগত: আর্সেনিক, লবণাক্ততা, ভারী ধাতু, শিল্পদূষণ, কীটনাশক, বায়ুদূষণ, তাপ ও পানিশূন্যতা।
  • খাদ্যগত: ভেজাল, অননুমোদিত রং, সীসাযুক্ত রং, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, নিম্নমানের তেল।
  • সামাজিক-অর্থনৈতিক: দেরিতে রোগ শনাক্ত, পরীক্ষার ব্যয়, গ্রাম-শহর বৈষম্য, ডায়ালাইসিসের উচ্চ ব্যয়, সীমিত সরকারি আসন, প্রতিস্থাপনের সীমিত সুযোগ ও বিদেশে চিকিৎসা।
১৪. সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা: প্রতিরোধে কম মনোযোগ
রোগী ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা শুরু করা অনেক দেরি। ৩০–৪০ বছর বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন, ক্রিয়েটিনিন ও eGFR পরীক্ষা, ডায়ালাইসিসের তুলনায় অনেক সস্তা।
প্রতিরোধ মানে শুধু “কম লবণ খান” বলা নয়। এর অর্থ নিরাপদ পানি, বিষাক্ত রং বন্ধ, ভারী ধাতুর পরীক্ষা, কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের তাপ ও পানিশূন্যতা থেকে সুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে CKD screening সহজলভ্য করা।
রেস্টুরেন্ট বা ক্যাটারিং বন্ধ করা সমাধান নয়; দরকার নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্যমান পরীক্ষা, নিরাপদ রং ও উপকরণের উৎস যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা।
১৫. কি করা প্রয়োজন?
একটি শক্তিশালী National Kidney Health Programme-এর অন্তত কয়েকটি স্তর থাকা দরকার:
প্রথমত: CKD, AKI, ESKD, ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনের জাতীয় নিবন্ধন ও ডেটাবেস।
দ্বিতীয়ত: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকা মানুষের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ, ক্রিয়েটিনিন, eGFR ও urine albumin/protein পরীক্ষা।
তৃতীয়ত: হলুদ, মরিচ, তেল, মসলা, সস, মিষ্টি, পানীয়, চাল, ডাল, মাছ ও শাকসবজির নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষা।
চতুর্থত: আর্সেনিক, লবণাক্ততা, ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষকের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পানি পরীক্ষা।
পঞ্চমত: দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে ডায়ালাইসিস আনা এবং জেলা পর্যায়ে সেবা বাড়ানো।
ষষ্ঠত: বৃক্ক প্রতিস্থাপন, মৃতদাতা অঙ্গ সংগ্রহ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
সপ্তমত: স্কুল পর্যায়ে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জন্মগত বৃক্ক/মূত্রনালির ত্রুটি ও AKI দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা।
আমরা কি দেরি করে ফেলেছি?
সম্ভবত না। কিন্তু আর দেরি করার সুযোগও নেই।
একদিকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে; অন্যদিকে খাদ্যদূষণ, ভারী ধাতু, আর্সেনিক, লবণাক্ততা, পরিবেশদূষণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও তাপ-প্রবাহ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো ও ব্যয়বহুল ডায়ালাইসিস।
ফলে একটি পরিবারকে একই সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ করতে হয়: রোগের বিরুদ্ধে, চিকিৎসার জন্য এবং অর্থনৈতিক ধ্বংসের বিরুদ্ধে।
গায়িকা ফরিদা পারভীন, অভিনেত্রী রোজি আফসারী, ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক, চলচ্চিত্রকার গাজী মাহতাব হাসান এবং শিশু-সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম-এর মৃত্যু মনে করিয়ে দেয়, বৃক্করোগ কোনো বিমূর্ত পরিসংখ্যান নয়।
ডায়ালাইসিস শেষ পর্যায়ের চিকিৎসা। লড়াই শুরু করতে হবে তার অনেক আগে, খাবারের বাজারে, পানির উৎসে, কর্মক্ষেত্রে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, স্কুলে এবং প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্যসচেতনতায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই শুধু “কতজন বৃক্ক-রোগে মারা যাচ্ছেন?” নয়।
প্রশ্ন হলো: কতজনকে সময়-মতো শনাক্ত করা যেতো? কতজনকে প্রতিরোধ করা যেতো? কতজনকে নিরাপদ পানি ও খাবার দিয়ে বাঁচানো যেতো? কত পরিবারকে ডায়ালাইসিসের আর্থিক ধ্বংস থেকে রক্ষা করা যেতো?
একটি বৃক্ক স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু নষ্ট হওয়ার আগে কারণটি থামাতে পারা সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
জুলেখা সিরাপ মেটাভার্স বিশেষ প্রতিবেদন
গবেষনা: নওরোজ দৌলা, সিবিল মির্জা, অন্তরা মেহজাবিন, শাহদাত মুনশি
সম্পাদনা: তৃণা রাব্বানি
উপদেষ্টা: চয়ন খায়রুল হাবিব

Lubna Yasmin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।