
অনলাইন সোমবার,২৩সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাত্র ৭ মাস হয় বিএনপি ও জামায়াত সরকার গঠন করেছে।এর মধ্যে জামায়াতের ৩৪ জন এমপি তাদের ৭১ সদস্যদের পরিবার নিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ” শিক্ষণীয় ভ্রমণ করছেন! অর্থাৎ একদিকে জামায়াতের শফিক ” ঢঁং মার্চ ” করে জাতিকে বোকা বানাবে, অন্যদিকে জামায়াত এমপিরা প্রবাসে প্রমোদ বিলাসে ব্যস্ত থাকবেন । আর একটু ফাঁকা ন্যাম ফ্লাটের ২০৩ নম্বর কক্ষে মিলবে মরিয়মের লাশ। ন্যাম এই ২০৩ নম্বর রুমটি জামায়াত নেতা গাজী নজ ইসলামের।
সরকারের এমপি ও মন্ত্রীরা যে ন্যায় ভবনে থাকেন সেখানেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নাই 
কাদেরকে ভোট দিয়ে আপনারা সংসদে পাঠিয়েছেন ?
চুয়াডাঙ্গায় আজমূল হোসেন মাত্র দশদিন আগে হাজার স্বপ্ন বুকে নিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হয়েছেন। মাত্র দশ দিনের মাথায় ভাত চুরির মিথ্যা অপবাদে ফিরলেন লাশ হয়ে। এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন আপনারা?
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের অপ্রতিম হত্যার ক্ষত না শুকাতেই আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলল আজমলের লাশ। আজমলের লাশকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে বের হয়ে এলো ন্যাম ভবনের ভেতরে লাশ। এই বাংলাদেশের মান ও সম্মান বহির্বিশ্বে আর কিছু থাকবে বলে মনে হয়?
কয়দিন পর শুনবেন সংসদ ভবনের ভেতরে লাশ!!
লাশ আর লাশের গন্ধে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস পর্যন্ত ভারী হয়ে আসছে।
ওইদিকে পুলিশ গত কয়েক মাসে নিখোঁজ ৬৮ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে?
৫ আগষ্ট তথাকথিত জঙ্গি অভূত্থানের নামে বাংলাদেশটা জাহান্নাম বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের আরেক নাম হচ্ছে সাদা শকুন। জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হচ্ছেন সেই শকুনের বংশধর।মরিয়ম ও গাজী নজরুলের মগবাজার হোটেলের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তার ড্রাইভার গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করলেও আদালত ১০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে গাজী নজরুল ইসলামকে জামিন দেন। অর্থাৎ অপরাধী তুমি যতো বড়োই হও, শাস্তি তোমার হবে না।”
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়নি। তিনি বেহায়ার মত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদে ছিলেন।একটি দেশের আইন কত নির্লজ্জ ও বেহায়া হলে এমন এমপি পুনরায় সংসদে ঢুকতে পারে 
২০২৬ সালের ২২ জুন গাজী নজরুল মরিয়ম যে জীবনবৃত্তান্ত সুপারিশ করেছিলেন, সেখানে তার বৈবাহিক অবস্থা “অবিবাহিত ” লেখা থাকার পরও তথ্য গোপন জালিয়াতির অভিযোগে জামায়াত নেতা গাজী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইনে এটাও একটা ফৌজদারি অপরাধ।
আজ মরিয়মের হত্যার জন্য বাংলাদেশের পুরো সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা দায়ী। এত বড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মরিয়ামকে হত্যা করা হবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র মরিয়ামের কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে তাকে দানবের হাতে তুলে দিয়েছে।বিয়ে করার পাঁচ দিন পরও যে মরিয়ামকে অবিবাহিত দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে তার জন্মসনদ পাল্টে তাকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, এসব পুরোটাই হাস্যকর।
গাজী নজরুল কর্তৃক মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করার কাবিননামা জাল ছিল। কাবিননামাটি মগবাজার হোটেলে ধরা খাওয়ার পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে বানাতে গিয়ে মিডিয়ায় কাছে ধরা খেয়ে গেছেন।পরে বিয়ের কাজী স্পষ্ট জানিয়েছেন , ১৭ জুন তিনি গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়াম খাতুনের বিয়ে পড়াননি।
এতবড় জালিয়াতির পরও জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়নি। জুলাই অপকর্মের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পরও তার ড্রাইভার ওবায়দুর রহমানের মামলার কারণে
গ্রেফতারের হাত থেকে বেঁচে যান এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
এই গাড়ী চালক ওবায়দুর রহমান ছিলেন মরিয়ম খাতুনের আপন মামা। নিজের ভাগ্নিকে মগবাজারের হোটেলে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের হাতে তুলে দিয়েছিলেন এই মামা।
এরপর ১৪ জুলাই থেকে কিছু রহস্যজনক ঘটনা ঘটে। এমপি গাজী নজরুলের সমর্থকরা মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে মগবাজার হোটেলের ঘটনা নিয়ে মারধর করে। ঘটনার চিত্র পাল্টে যায়। ওবায়দুর করেন হত্যা চেষ্টার মামলা।সেই মামলায় ১০ আগষ্ট অগ্রিম জামিন নিয়ে চলে আসেন গাজী নজরুল।
আইনের এই ফাঁকটা খুব সুন্দর করে ব্যবহার করে গেছেন জামায়াতের আমির সাদা শকুনের বংশধর এমপি গাজী নজরুল।
অর্থাৎ কোন মামলায় আগাম জামিন নেয়া থাকলে তার তদন্ত চলাকালীন সেই আসামীকে আর গ্রেফতার করার নিয়ম নেই 
অর্থাৎ সাপও মরলো কিন্তু লাঠি ভাঙলো না!
তিনি গ্রেফতার হলেন না, তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল হলো না। অপরদিকে মরিয়মের পরিবারও নিরাপত্তা পেলো না। অর্থাৎ যে মরিয়ম বাঁচতে চায় তাকেই আবার ন্যাম ভবনে গিয়ে জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের যৌন দাসী হতে হয়েছে। এছাড়া ওই গরীব অসহায় পরিবারের আর করার কিছুই ছিলো না 
ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অপরদিকে মরিয়মের মা গিয়ে মামলা করেছেন তার ভাই মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন ধুরন্ধর গাজী নজরুল ইসলাম।আজ যখন ন্যাম ফ্লাট থেকে মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয় তখন সেই একই নাটক।আসামী স্বশরীরে জামিননামা জমা দিতে আদালতে!
একদিকে আদালতে নিজের বেইল বণ্ড জমা দিচ্ছেন, অন্যদিকে ন্যাম ভবনের ভেতরে ঝুলিয়ে দিয়েছেন মরিয়ম খাতুনকে।
মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জানা গেল সেই মরিয়ম আর নেই 
এর দায় বাংলাদেশের সরকার , প্রধানমন্ত্রী , রাষ্ট্র ও হাস্যকর বিচার ব্যবস্থার।
আজ বিচারের দাবিতে নিরবে কাঁদছে বাংলাদেশ 
হয়তো গাজী নজরুল ইসলামের বিচারই হবে না! বিচার হলেও কিছুদিন পর তালগাছ আমার বলে জামিনে বেরিয়ে আসবেন। ঠিক যেমন করে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসার পরও উপদেষ্টা আসিফ বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।যেই দেশে রাজাকার সংসদে , একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার আসামি মন্ত্রী , সেই দেশে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিস্কারের নাটক ছাড়া আর কোন শাস্তিই দেয়া গেলো না।তাই চিৎকার করে বলতে বাধ্য হচ্ছি –
” Shame on the Judiciary! Shame on the system, Shame on Bangladesh Government.”
এটাকে বলা হয় – ” Bail for the powerful , jail for the powerless”
অর্থাৎ ক্ষমতাশীলদের জন্য জামিন আর ক্ষমতাহীনদের জন্য জেল “
চোখের সামনে এই নাটক বারবার দেখছে বাংলাদেশ।
তাই বলা হয়,
When injustice becomes law , resistance becomes duty
” যখন অন্যায় আইন হয়ে দাঁড়ায় , তখন প্রতিরোধই কর্তব্য হয়ে উঠে।”
এই রাষ্ট্রে কি পৃথিবীর কোন সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের বসবাস সম্ভব?
বিবেক কোথায়’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















