
অনলাইন শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমার সম্পর্কে এত কথা শোনা হলো। কিন্তু আমার কথাটুকুই শোনা হলো না।
ভেবেছিলাম, অন্যের মুখে আমার গল্প শোনার পর সে অন্তত আমার কাছে একবার ফিরে আসবে। জানতে চাইবে, সেই গল্পে আমার কথাগুলো কোথায়। সেও নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যতটুকু মিলিয়ে নিতে পেরেছে, ততটুকুকেই সত্য ভেবেছে। তার চেনার বাইরেও যে আমার একটি জীবন আছে, সেটুকু অজানাই রয়ে গেল।
অভিজ্ঞতা আমাদের দেখার চোখ দেয়, সেই চোখের সীমাও তৈরি করে। কখনো অন্যের জীবনে নিজের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি শুনেই মনে হয়, মানুষটিকে শোনা হলো। অথচ যা সত্যি বলে মনে হয়, তার বাইরেও কত সত্য থাকে—কিছু উচ্চারণের সাহস পায় না, কিছু শোনার মানুষ।
আমারও কিছু কথা ছিল। বলতে গেলে আবার সেই সময়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে আসতে হতো, যেখান থেকে কোনোমতে ফিরে এসেছি। তাই মুখ খুলেও থেমে গেছি। ভেবেছি, সে হয়তো জানতে চাইবে, এই কথাটুকু বলতে আমার এত কষ্ট হচ্ছে কেন। তার কাছে সবটা বলতে পারব—এই আশাটুকু ছিল বলেই এত কথা জমিয়ে রেখেছিলাম।
আমাকে বিশ্বাস করতেই হবে—এমন দাবি ছিল না। শুধু চেয়েছিলাম, আমার না-বলা কথাগুলোর জন্য তার মনে একটু সংশয় থাকুক। আমাকে বুঝে ফেলেছে ভেবেও একবার থামুক—হয়তো যে কথাটি শোনা হয়নি, সেখানেই মানুষটি রয়ে গেছে।
কষ্ট হয়, যখন কারও কাছে নিজের কথাগুলো নিয়ে পৌঁছানোর আগেই দেখি, সেখানে আমার সম্পর্কে শেষ কথাটি বলা হয়ে গেছে।
অন্তদর্শনের খসড়া ১৮
স্নিগ্ধা রেজওয়ানা
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
Rezwana Karim Snigdha’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















