, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সম্প্রতি মার্কিন সেনা দপ্তর পেন্টাগন

  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ পড়া হয়েছে

অনলাইন শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি মার্কিন সেনা দপ্তর পেন্টাগন একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধে এই পর্যন্ত তাদের ক্ষতি হয়েছে ৪৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি যুদ্ধের পর পরই ক্ষতি হওয়া অর্থ দ্রুত রিকোভার করার চেষ্টা করে, যেন অর্থনীতিতে কোনো প্রকার বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এবারও একই পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
সম্প্রতি ৩০ এপ্রিল বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করে, যার মূল্য ছিল ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও ১১ টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে বিএনপি সরকার। যার মূল্য ২.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর্ন করেছে ৩.৭ + ২.৮৪ = ৬.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট, গোলাবারুদ, রকেট কিট ও ট্যাংক ইঞ্জিন প্যাকেজ কিনছে সৌদি আরব ৷ যার বাজার মূল্য ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট, থাড, লং রেঞ্জ রাডার, অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম ক্রয় করতে ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে।
কুয়েত ও জর্দান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত মিসাইল ইন্টারসেপ্টর কিনতে ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে।
বাংলাদেশ + সৌদি আরব + আরব আমিরাত + (কুয়েত + জর্দান) = ( ৬.৫৪+ ৩২+৮.৫+৭.৫)= ৫৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষতি হওয়া অর্থ পাঁচটি মুসলিম দেশ থেকে ইতিমধ্যেই রিকোভার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক নাকি ১১১ টি বোয়িং বিমান কিনতে আগ্রহী হয়েছে। জানিনা এর পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণের সম পরিমাণ অর্থ দিয়ে আমাদের কেন অহেতুক বোয়িং বিমান ক্র‍য় করতে হবে। এমন তো নয় ভারত, চীন, ব্রাজিল, কানাডা, ইরানের মতো বাংলাদেশ বৃহৎ ভূখণ্ডের দেশ যে,আন্তঃশহর যোগাযোগের জন্য বোয়িং বিমান লাগবে। এমতো নয় বোয়িং বিমানের জন্য বাংলাদেশের জনগণ অন্য দেশে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের মানসম্মত বিমানবন্দরও নেই।
প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানের একটিও বোয়িং বিমান নেই, পাকিস্তানের রয়েছে রয়েছে মাত্র ১২টি। বাংলাদেশ এবার ২৫ টি কিনেছে টোটাল হয়েছে ৩৬ টি। বাংলাদেশের মতো ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশের ৩৬ টি বোয়িং বিমান,অত্যন্ত হাস্যকর ও লজ্জাকর ব্যাপার। বাঙালি গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে একটি প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায় ‘আসল ঘরে মশারী নাই, ঢেঁকির ঘরে চান্দা’। বর্তমান প্রেক্ষাপট যেন তারই অনুরূপ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তুপের মধ্য দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে দেশে নেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সঠিক সরবরাহ, নেই সারের পর্যাপ্ত মজুদ। তারপরও আমরা ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ২৫ টি বোয়িং কিনেছি। এই সমপরিমাণ টাকা দিয়ে দেশের যেকোনো সড়ক, মহাসড়ক, ব্রিজ কিংবা মেগা অবকাঠামো গড়ে তুললে বিএনপি সরকার জনগণের মনে জায়গা করে নিতো, পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন সম্প্রসারণ ঘটে অর্থনীতি প্রসারণে অবদান রাখতো। এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আলোচনার মধ্যেই আটকে আছে, মাঠ পর্যায়ে কবে যাবে তার নাম নেই।
এছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে বোয়িং বিমান এয়ার বাসের নিকট জনপ্রিয়তা ক্রমশ হারিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এখন এয়ারবাস ক্রয় ও যাতায়াতে বেশি ব্যবহার করছে। সম্ভবত রিজার্ভকৃত বোয়িং বিমানগুলো দ্রুত বিক্রি করে ফেলার জন্যই বাংলাদেশের মতো অনুগত দেশগুলোকে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিপ স্টেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে যা বলছে তাই করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়ার দিকে কোনো নজর নেই।
২০২৪ সালে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল, ইতিমধ্যেই ৬.৫৪ বিলিয়ন তুলে নিয়েছে, আসন্ন দিনগুলোতে আরও দেখতে হবে। সবেমাত্র শুরু!….

Monirul Insider ‘s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সম্প্রতি মার্কিন সেনা দপ্তর পেন্টাগন

প্রকাশের সময় : ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি মার্কিন সেনা দপ্তর পেন্টাগন একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধে এই পর্যন্ত তাদের ক্ষতি হয়েছে ৪৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি যুদ্ধের পর পরই ক্ষতি হওয়া অর্থ দ্রুত রিকোভার করার চেষ্টা করে, যেন অর্থনীতিতে কোনো প্রকার বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এবারও একই পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
সম্প্রতি ৩০ এপ্রিল বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করে, যার মূল্য ছিল ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও ১১ টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে বিএনপি সরকার। যার মূল্য ২.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর্ন করেছে ৩.৭ + ২.৮৪ = ৬.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট, গোলাবারুদ, রকেট কিট ও ট্যাংক ইঞ্জিন প্যাকেজ কিনছে সৌদি আরব ৷ যার বাজার মূল্য ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট, থাড, লং রেঞ্জ রাডার, অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম ক্রয় করতে ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে।
কুয়েত ও জর্দান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত মিসাইল ইন্টারসেপ্টর কিনতে ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে।
বাংলাদেশ + সৌদি আরব + আরব আমিরাত + (কুয়েত + জর্দান) = ( ৬.৫৪+ ৩২+৮.৫+৭.৫)= ৫৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষতি হওয়া অর্থ পাঁচটি মুসলিম দেশ থেকে ইতিমধ্যেই রিকোভার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক নাকি ১১১ টি বোয়িং বিমান কিনতে আগ্রহী হয়েছে। জানিনা এর পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণের সম পরিমাণ অর্থ দিয়ে আমাদের কেন অহেতুক বোয়িং বিমান ক্র‍য় করতে হবে। এমন তো নয় ভারত, চীন, ব্রাজিল, কানাডা, ইরানের মতো বাংলাদেশ বৃহৎ ভূখণ্ডের দেশ যে,আন্তঃশহর যোগাযোগের জন্য বোয়িং বিমান লাগবে। এমতো নয় বোয়িং বিমানের জন্য বাংলাদেশের জনগণ অন্য দেশে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের মানসম্মত বিমানবন্দরও নেই।
প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানের একটিও বোয়িং বিমান নেই, পাকিস্তানের রয়েছে রয়েছে মাত্র ১২টি। বাংলাদেশ এবার ২৫ টি কিনেছে টোটাল হয়েছে ৩৬ টি। বাংলাদেশের মতো ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশের ৩৬ টি বোয়িং বিমান,অত্যন্ত হাস্যকর ও লজ্জাকর ব্যাপার। বাঙালি গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে একটি প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায় ‘আসল ঘরে মশারী নাই, ঢেঁকির ঘরে চান্দা’। বর্তমান প্রেক্ষাপট যেন তারই অনুরূপ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তুপের মধ্য দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে দেশে নেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সঠিক সরবরাহ, নেই সারের পর্যাপ্ত মজুদ। তারপরও আমরা ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ২৫ টি বোয়িং কিনেছি। এই সমপরিমাণ টাকা দিয়ে দেশের যেকোনো সড়ক, মহাসড়ক, ব্রিজ কিংবা মেগা অবকাঠামো গড়ে তুললে বিএনপি সরকার জনগণের মনে জায়গা করে নিতো, পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন সম্প্রসারণ ঘটে অর্থনীতি প্রসারণে অবদান রাখতো। এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আলোচনার মধ্যেই আটকে আছে, মাঠ পর্যায়ে কবে যাবে তার নাম নেই।
এছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে বোয়িং বিমান এয়ার বাসের নিকট জনপ্রিয়তা ক্রমশ হারিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এখন এয়ারবাস ক্রয় ও যাতায়াতে বেশি ব্যবহার করছে। সম্ভবত রিজার্ভকৃত বোয়িং বিমানগুলো দ্রুত বিক্রি করে ফেলার জন্যই বাংলাদেশের মতো অনুগত দেশগুলোকে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিপ স্টেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে যা বলছে তাই করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়ার দিকে কোনো নজর নেই।
২০২৪ সালে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল, ইতিমধ্যেই ৬.৫৪ বিলিয়ন তুলে নিয়েছে, আসন্ন দিনগুলোতে আরও দেখতে হবে। সবেমাত্র শুরু!….

Monirul Insider ‘s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।