
লেখক মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকা কলেজে পড়াকালীন ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, শেখ কামালের ক্লাসমেট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছাত্রলীগে যোগ দেন.. মুক্তিযুদ্ধ ও করেন ছাত্রলীগের মুজিব বাহিনীর হয়ে.. মুহসীন হল ছাত্রলীগের সম্ভবত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে এজিএস নির্বাচিত হন হল সংসদে। মাহফুজ আনাম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার কারণে ছাত্রলীগের প্রভাবকে ব্যবহার করে মাহফুজ আনামকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মব করে নিজেকে জি এস ঘোষণা দেন মহিউদ্দিন আহমেদ ।
এরপর মহিউদ্দিন আহমদ ছাত্রলীগে ভাঙন হলে জাসদে যোগ দেন , কিছুদিন জাসদ ছাত্রলীগ করেন। সিরাজুল আলম খানের অনুসারী ছিলেন। ৭৩-৭৫ সালে জাসদের প্রোপাগান্ডা সেল গণকণ্ঠের সাংবাদিক হন, বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রোপাগান্ডা এই মহিউদ্দিন আহমদরা লিখেছেন। ৭৫ সাল থেকে জাসদের নেতাকর্মীদের জিয়া যখন গণহারে নিধন শুরু করে মহিউদ্দিন আহমেদ বেশ আরামেই ছিলেন ,তার গায়ে কেউ ফুলের টোকা দিয়েছে বলে শোনা যায়না। এরপর খালেদা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিল ২০০১-০০৫ বিএনপির কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করে খালেদার বেশ ফ্যান হয়ে যান আরকি। অর্থাৎ এই লোক বাংলাদেশে যখনই রাজনীতি করেছেন অক্টোপাসের মতো রঙ বদলেছেন। এই লোকের মতো বর্ণচোরা লেখক বাংলাদেশের ইতিহাসে একটাও নেই, রাজনৈতিকভাবে প্রচণ্ড অসৎ ও বটে। এই লোক যখন বাংলাদেশের ইতিহাস লিখবে তখন কতটুকু নিরপেক্ষ কিংবা গ্রহণযোগ্য হবে আপনারাই বলেন? এরপর ২০০৮-২০২৪ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নিরপেক্ষ লেখক হয়ে যান..
এযুগের মাহফুজ, সাদিক কায়েম, ফরহাদ কিংবা সারজিস, হাসনাতদের পূর্বপুরুষ কিন্তু এই মহিউদ্দিনরা।
যেহেতু মহিউদ্দিনের প্রায় সবগুলো বই পড়েছি ,তার লেখার শব্দচয়ন কিংবা কোন ধরণের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ পুশ করতে চান লেখায় সেটি খুব ভালোভাবে ধরতে পারি।
তিনি তার বইগুলোতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক অবদানের কথা প্রায়ই এড়িয়ে যেতেন, তার একাধিক বইতে এড়িয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা, তার এই শয়তানি উনার যারা বই নিয়মিত পড়েন তারা জানেন। তেমনি প্রথম আলো গংয়ের সিরাজুল আলম খানকে হিরো বানানোর প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। বলে রাখা ভালো সি আ খা কিংবা ফরহাদ মাজহার এরা সবাই মার্কিন এসেট। মহিউদ্দিন আহমেদ নিরপেক্ষ লেখক মুখোশ পরে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে বেশ টাকা পয়সা বানিয়েছেন… একটা উদাহরণ দেই
জাসদের উত্থান পতন বইয়ের মহিউদ্দিন লিখেছেন ভারতের ‘র’ এর প্রথম প্রজেক্ট স্বাধীন বাংলাদেশ ! এটা তো জামাত শিবির বলে! একজন মুক্তিযোদ্ধা কীভাবে এধরণের কথা বলেন?
প্রতিনায়ক কিংবা লাল সন্ত্রাস বইয়ে তিনি লিখেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের উদ্যোগ বামরা নিয়েছিল এই টাইপ একটা ন্যারেটিভ দিয়েছেন (ঠিক খেয়াল নেই)। অথচ বাংলাদেশের বামদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি কমরেড মণি সিংহ কয়েকবার সাক্ষ্য দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ কিংবা ১৯৫৪ থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন! আপনি কোন ঘটনা আলাপ করার সময়, আটটা সত্যের সাথে দুইটা মিথ্যা জুড়ে দিলে ,মানুষ মিথ্যাকে সত্যই মনে করবে… প্রশ্নই তুলবেনা। মহিউদ্দিন আহমেদ এই কাজটিই করেন।
মহিউদ্দিন আহমদরা সিরাজুল আলম খানকে অতিরিক্ত গ্লোরিফাই করেছেন যাতে বঙ্গবন্ধু কে যেকোনভাবে খাটো করা যায়। নিউক্লিয়াসে যারা ছিলেন তারা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর কর্মী ছিলেন, এখানে যদি বা কিন্তু নেই। কিন্তু মহিউদ্দিন আহমদ তার বইগুলোতে সুচারুভাবে নিউক্লিয়াসকে আলাদা ভাবে দেখানোর চেষ্টা করতেন ,এটাও তাদের ইতিহাস বিকৃতির একটা প্রজেক্ট। অর্থাৎ মহিউদ্দিন খুব সুচারুভাবে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন কিংবা এড়িয়ে গেছেন। যদিও প্রবাদ আছে ” ইতিহাস লুকানো ইতিহাস বিকৃতির মতোই অপরাধ “। এই অপরাধ মহিউদ্দিন আহমেদ অনেক দিন ধরে করে যাচ্ছেন
৫ আগস্টের পর মহিউদ্দিন আহমদ কমপক্ষে ৩০+ কলাম লিখেছেন আওয়ামী লীগ কে শেখ হাসিনাকে ভিলিফাই করে। প্রতিটি লেখায় আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবেনা এরকম আভাস ও দিতেন। প্রত্যেকটা লেখায় আওয়ামী লীগকে এত কদর্য ভাষায় কটাক্ষ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন শেখ হাসিনার প্রতি কেন অনুগত সেটা নিয়ে তার শ্লেষ এর অভাব নেই, শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় ফিরবেন না এরকম ও প্রায়ই লিখেন। জামাত যে টোনে কথা বলে অনেকটা একই টোনেই কথা বলে উনি জামাতের ন্যারেটিভ পুশ করেন ইনিয়ে বিনিয়ে।
তিনি ইদানিং একটি টার্ম ব্যবহার করেন প্রায়ই লেখায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ধর্ম আওয়ামী লীগ। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ না হয় পলিটিকাল প্রস্টিটিউট, তার কোন ব্যক্তিগত আদর্শ নেই, আওয়ামী লীগের লোকজনের আদর্শের প্রতি অটলতা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য দেখে তার হিংসে হয় কেন?
এরকম ভয়াবহ বিদ্বেষ পোষণ করা একজন লোক কীভাবে নিরপেক্ষ লোক হন ,লেখক হন আপনারাই বলুন… এই আবার দাসত্বের চুক্তি ,হাম ইস্যুতে কোন কথাবার্তা বলেনা, এই লোকের মাথাব্যথা একমাত্র আওয়ামী লীগকে নিয়েই বেশি। ৫ আগস্ট পরবর্তী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর চলা নিধনযজ্ঞকে লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ ইনিয়ে বিনিয়ে বহুবার জাস্টিফিকেশন দিয়েছেন। আমরা কি ভুলে যাবো?
মনে রাখবেন মহিউদ্দিন আপনাদের জীবনি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে পড়াবো যাতে বাংলাদেশে আর আপনাদের মতো বেঈমান মুনাফিকের জন্ম না হয়।
লিখেছেন : Redowan Ibne Saiful





















