, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

কারাগারে ‘ডলার সিরাজ’

  • প্রকাশের সময় : ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

কারাগারে ‘ডলার সিরাজ’, তবু ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ—এ কোন আইনের খেলা?
একাধিক হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।
অথচ সেই ‘ডলার সিরাজ’-এর নামই ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ!
ঘটনাটি বিস্ময়কর। প্রশ্নও গুরুতর—কারাগারে বন্দী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সুবিধাভোগী—তবু ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ!
কার প্রভাবে, কোন জাদুতে মিলল এমন সুবিধা?
আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বর্তমানে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
কিন্তু আজ ঘটেছে বিস্ময়কর ঘটনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB-তে ঋণখেলাপি হিসেবে থাকা সিরাজুল ইসলাম মোল্লার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিতে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ।
একই সঙ্গে তাঁকে কেন ঋণখেলাপির তালিকায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে রুল জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ চারজনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই আদেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এর আগেও মিথ্যা পরিচয়ে ভিন্ন কৌশলে CIB রিপোর্ট স্থগিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হয়নি।
এখন অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী সুবিধা পেলেন কীভাবে—এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দেশের মানুষ জানতেই পারে।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, কোম্পানির বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালের শেয়ার হস্তান্তর করে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রতিষ্ঠানটির এমডি হন। এই শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
নিয়মিত আদালতে যখন CIB ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা শোনা যাচ্ছে, তখন অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে এমন আদেশ আসা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
আগের চেষ্টা ব্যর্থ হলো, এবার কী এমন বদলে গেল? কোন নতুন তথ্য বা আইনি ভিত্তিতে এই সুবিধা মিলল?
এই সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে আমি অনেক আগে থেকেই তাঁকে চিনি এবং তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানি।
দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত থাকার সময় তাঁর ব্যবসা, অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করেছি এবং প্রচণ্ড চাপের মুখেও পড়েছি।
তাঁর উত্থানের ইতিহাসও আমার অজানা নয়।
একসময় ‘ডলার সিরাজ’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিই পরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা হন, এমপি হন, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতে বিশাল প্রভাব তৈরি করেন।
Prime Bank-এর উদ্যোক্তা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে China-Bangla Ceramic, Bengal Tiger Cement, Bajnabo Textile Mills, United Shipping Lines—একের পর এক বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হয়।
তাঁর বিপুল সম্পদ ও ব্যবসার উৎস নিয়েও বহু বছর ধরে প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদক তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।
ক্ষমতা, রাজনীতি, ব্যাংকিং আর ব্যবসা—সবকিছু মিলিয়ে সিরাজুল ইসলাম মোল্লার উত্থান ছিল অবিশ্বাস্য।
আর আজ সেই সিরাজ মোল্লা কারাগারে থেকেও পেলেন আরেকটি বড় সুবিধা—ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে হাইকোর্টের নির্দেশ।
ঋণখেলাপি হিসেবে থাকা একজন প্রভাবশালী সাবেক এমপির নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়েই মূল প্রশ্ন।
এখনো কি অর্থ আর প্রভাবের লীলাখেলা চলছে?
ক্ষমতা হারালেও কি প্রভাবশালীদের লবিংয়ের ক্ষমতা অটুট থাকে?
একজন সাধারণ ঋণখেলাপিও কি এত সহজে একই সুবিধা পেতেন?
দেশের মানুষ এসব প্রশ্ন করতেই পারে।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আগে যে প্রতিকার তিনি পাননি, কারাগারে থাকা সেই সিরাজ মোল্লা এবার অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে কীভাবে এমন ব্যতিক্রমী সুবিধা পেলেন?
এর উত্তর অবশ্যই নথি, আইন এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশেই পাওয়া উচিত।

Helal Uddin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

কারাগারে ‘ডলার সিরাজ’

প্রকাশের সময় : ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

কারাগারে ‘ডলার সিরাজ’, তবু ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ—এ কোন আইনের খেলা?
একাধিক হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।
অথচ সেই ‘ডলার সিরাজ’-এর নামই ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ!
ঘটনাটি বিস্ময়কর। প্রশ্নও গুরুতর—কারাগারে বন্দী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সুবিধাভোগী—তবু ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ!
কার প্রভাবে, কোন জাদুতে মিলল এমন সুবিধা?
আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বর্তমানে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
কিন্তু আজ ঘটেছে বিস্ময়কর ঘটনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB-তে ঋণখেলাপি হিসেবে থাকা সিরাজুল ইসলাম মোল্লার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিতে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ।
একই সঙ্গে তাঁকে কেন ঋণখেলাপির তালিকায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে রুল জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ চারজনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই আদেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এর আগেও মিথ্যা পরিচয়ে ভিন্ন কৌশলে CIB রিপোর্ট স্থগিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হয়নি।
এখন অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী সুবিধা পেলেন কীভাবে—এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দেশের মানুষ জানতেই পারে।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, কোম্পানির বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালের শেয়ার হস্তান্তর করে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রতিষ্ঠানটির এমডি হন। এই শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
নিয়মিত আদালতে যখন CIB ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা শোনা যাচ্ছে, তখন অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে এমন আদেশ আসা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
আগের চেষ্টা ব্যর্থ হলো, এবার কী এমন বদলে গেল? কোন নতুন তথ্য বা আইনি ভিত্তিতে এই সুবিধা মিলল?
এই সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে আমি অনেক আগে থেকেই তাঁকে চিনি এবং তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানি।
দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত থাকার সময় তাঁর ব্যবসা, অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করেছি এবং প্রচণ্ড চাপের মুখেও পড়েছি।
তাঁর উত্থানের ইতিহাসও আমার অজানা নয়।
একসময় ‘ডলার সিরাজ’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিই পরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা হন, এমপি হন, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতে বিশাল প্রভাব তৈরি করেন।
Prime Bank-এর উদ্যোক্তা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে China-Bangla Ceramic, Bengal Tiger Cement, Bajnabo Textile Mills, United Shipping Lines—একের পর এক বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হয়।
তাঁর বিপুল সম্পদ ও ব্যবসার উৎস নিয়েও বহু বছর ধরে প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদক তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।
ক্ষমতা, রাজনীতি, ব্যাংকিং আর ব্যবসা—সবকিছু মিলিয়ে সিরাজুল ইসলাম মোল্লার উত্থান ছিল অবিশ্বাস্য।
আর আজ সেই সিরাজ মোল্লা কারাগারে থেকেও পেলেন আরেকটি বড় সুবিধা—ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে হাইকোর্টের নির্দেশ।
ঋণখেলাপি হিসেবে থাকা একজন প্রভাবশালী সাবেক এমপির নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়েই মূল প্রশ্ন।
এখনো কি অর্থ আর প্রভাবের লীলাখেলা চলছে?
ক্ষমতা হারালেও কি প্রভাবশালীদের লবিংয়ের ক্ষমতা অটুট থাকে?
একজন সাধারণ ঋণখেলাপিও কি এত সহজে একই সুবিধা পেতেন?
দেশের মানুষ এসব প্রশ্ন করতেই পারে।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আগে যে প্রতিকার তিনি পাননি, কারাগারে থাকা সেই সিরাজ মোল্লা এবার অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে কীভাবে এমন ব্যতিক্রমী সুবিধা পেলেন?
এর উত্তর অবশ্যই নথি, আইন এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশেই পাওয়া উচিত।

Helal Uddin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।