
অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
গুরুতর অপরাধে জড়িত এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন ক্ষমতাসীন বিএনপিকে “বিম্পি” বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। জুলাই চেতনা বিক্রিকারী এই মনিরা শারমিনের জুলাই আন্দোলনে নূন্যতম ভূমিকা নেই। অথচ জাতিকে জ্ঞান বিতরণের মহা দায়িত্বে আছেন।
আসুন গুরুতর অপরাধী মনিরা শারমিন কে একটু জেনে নেই।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ভূমিকা না থেকেও চরম সুবিধাবাদী এই নব্য রাজনৈতিক নেত্রী। জুলাই চেতনা বিক্রিকারী। মনিরা শারমিনের অপরাধের ভাগিদার এনসিপির একজন মূখ্য সংগঠক। মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেন। ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের বাজার শাখায় (এনএস রোড) ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রান্সফার নিয়ে ঢাকা আসেন। তাও এনসিপির ছাত্রলীগ কানেকশনের নেতা (যিনি নির্বাচন করে হেরেছেন) প্রভাব খাটিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে পোস্টিং করান।
কাওরান বাজারে কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, মনিরা শারমিন ঢাকায় এসে অনিয়মিত অফিস করায় এজিএম শোকজ করে, পরে ওই মূখ্য সংগঠকের মাধ্যমে ব্যাংকের এমডির কাছে নালিশ দিয়ে এজিএমকে বকা শোনায়। পরবর্তীতে মেরুদণ্ডে সমস্যা এমন কথা বলে মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ছুটি নিয়েছে। তবে রাজনীতির মাঠে সমানতালে দৌঁড়াতে থাকেন। কোটায় বিভিন্ন টিভি, টকশোতে জুলাই যোদ্ধা হিসাবে গলাবাজি শুরু করেন। সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। অথচ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধিতে বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে পারবেন না। এটি শৃঙ্খলাপরিপন্থি অপরাধ হিসেবে গণ্য। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নিজস্ব চাকরি প্রবিধানমালা ২০০৮-এ। প্রবিধানমালার ৩৭(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রচারণায় যুক্ত হতে পারবেন না এবং ব্যাংক বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমে জড়াতে পারবেন না। তথ্য অনুযায়ী, এসব বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও প্রায় ১০ মাস তিনি সরকারি চাকরিতে বহাল ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার সময়কাল ধরলে প্রায় দেড় বছর তিনি সরকারি চাকরির বিধি ভেঙে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। এই অপরাধে তার সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্রে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিলের নথিতে সরকারি পে-স্কেলে বেতন উত্তোলনের তথ্য দিয়েছেন। তবে পদত্যাগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য-কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, তা না থাকায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত তার মনোনয়ন বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে আজই রিটার্নিং অফিসার মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করে দেয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী পদত্যাগ বা অবসরের অন্তত তিন বছর পার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। মনিরা শারমিনের মনোনয়ন স্থগিত হতে পারে খবর জানার পরেই আরেক যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে এদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।
মনিরা শারমিন প্রচলিত আইনে অনেক বড়মাপের একজন অপরাধী। প্রথম অপরাধ জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থেকেই জুলাই চেতনা বিক্রিকারী। দ্বিতীয়ত হাসিনা পতনের পর কৃষি ব্যাংকে যোগদানের মাত্র ৯ মাসেই প্রভাব খাটিয়ে ঢাকায় পোস্টিং নেয়া। তৃতীয়ত ব্যাংকে অসুস্থ্যতার মিথ্যা তথ্য দিয়ে টকশো করে বেড়িয়েছেন। চতুর্থত, সরকারি চাকুরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। পঞ্চমত, ব্যাংকে অফিস না করেও ১৫ মাসের বেতন উত্তোলন করেছেন। এই ধরণের সুবিধাভোগী রাজনীতিক দেশ এবং জাতির জন্য অকল্যানকর, অমঙ্গলজনক। অবিলম্বে মনিরা শারমিনের প্রচলিত আইনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে এনসিপির যে মূখ্য সংগঠক তাকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এনে এই ধরনের অপরাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়েছেন তাকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
Talukder Rumi Panjeree
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















