, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

দীনেশ ত্রিবেদী যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

দীনেশ ত্রিবেদী যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি সত্যিই ‘পালিয়ে’ গিয়েছিলেন?
নাকি তাঁকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল?
৫ আগস্টের পর থেকে একটি কথাই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হয়েছে—শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গেছেন।
কিন্তু পালানোটা কীভাবে হয়েছিল?
গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে?
ছদ্মবেশে?
বিদেশি কোনো বিমানে?
নিজের ব্যক্তিগত ব্যবস্থায়?
এর কোনোটিই নয়।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এখন স্পষ্ট করে বলেছেন—শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের সামরিক বিমানেই তাঁকে ভারতে নেয়া হয়েছিল।
দীনেশ ত্রিবেদী শুধু সামরিক বিমানের কথাই বলেননি। তাঁর আরও কয়েকটি বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, “সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।” ভারত তাঁর আগমনের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।
ত্রিবেদীর ভাষায়, “আমাদের সামনে কার্যত খুব বেশি বিকল্প ছিল না।” ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত—সেটিও তাদের জানা ছিল না।
সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্যটি ছিল—“শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি; বাংলাদেশের একটি সামরিক বিমানেই তাঁকে ভারতে নেয়া হয়েছিল।”
এই বক্তব্যগুলোই ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে আনে—তখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশের সামরিক বিমান, ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স ও ভারতের ল্যান্ডিং পারমিশন—এই পুরো প্রক্রিয়াটি কার সিদ্ধান্তে এবং কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল?
আর এখানেই শুরু হয় আসল প্রশ্ন।
সেদিন শেখ হাসিনাকে বহন করেছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর C-130 সামরিক পরিবহন বিমান—কলসাইন AJAX1431। প্রকাশিত ATC তথ্য অনুযায়ী, সেটি ঢাকা থেকে প্রথমে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করে।
ঢাকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে তাকে উচ্চতা ও পথের ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়। ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের আগে কলকাতা কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশও দেয়া হয়।
আরও বিস্ময়কর—শেখ হাসিনাকে ভারতের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে রেখে সেই সামরিক বিমান, ক্রু ও নিরাপত্তা সদস্যরা পরদিন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তাহলে প্রশ্ন করি—এটাই যদি ‘পালানো’ হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনায় কাউকে বিদেশে পৌঁছে দেয়াকে কী বলা হবে?
কে দিয়েছিল বিমান?
কে অনুমোদন করেছিল ফ্লাইট?
কার নির্দেশে একজন প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর C-130 ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটিতে গেল?
বাংলাদেশের কোন কর্তৃপক্ষ ভারতের কাছে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স চেয়েছিল? কেন ফ্লাইটটি প্রথমে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করেছিল?
ক্রু ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যরা দেশে ফিরে আসার পর তাদের কাছ থেকে কী ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছিল?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার কি এই পুরো সামরিক অপারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেছিল? করে থাকলে সেই তদন্ত কোথায়?
‘ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল’—প্রমাণ ছাড়া আমি সেই সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না। কিন্তু এত বড় একটি ঘটনার পরও যদি কোনো তদন্ত হয়ে থাকে এবং জনগণ তার ফল না জানে, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
কারণ ভারতের বক্তব্য এখন আর অস্পষ্ট নয়।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামরিক বিমানে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, ঢাকা ছাড়ার সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তাহলে ৫ আগস্টের বহুল প্রচারিত ‘পালিয়ে যাওয়ার’ বয়ানটির পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাও সামনে রাখতে হবে—তাঁর দেশত্যাগের পেছনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনা কতটা সক্রিয় ছিল?
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নতুন গল্প তৈরি করেনি।
বরং পুরোনো গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিই আবার সামনে এনে দিয়েছে—শেখ হাসিনা কি শুধু পালিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল?
তাহলে প্রশ্নটা আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোথায়—এটা শুধুই ‘পালিয়ে যাওয়া’, নাকি রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সংঘটিত একটি দেশত্যাগ?

Helal Uddin’s Post\

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

দীনেশ ত্রিবেদী যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

দীনেশ ত্রিবেদী যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি সত্যিই ‘পালিয়ে’ গিয়েছিলেন?
নাকি তাঁকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল?
৫ আগস্টের পর থেকে একটি কথাই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হয়েছে—শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গেছেন।
কিন্তু পালানোটা কীভাবে হয়েছিল?
গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে?
ছদ্মবেশে?
বিদেশি কোনো বিমানে?
নিজের ব্যক্তিগত ব্যবস্থায়?
এর কোনোটিই নয়।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এখন স্পষ্ট করে বলেছেন—শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের সামরিক বিমানেই তাঁকে ভারতে নেয়া হয়েছিল।
দীনেশ ত্রিবেদী শুধু সামরিক বিমানের কথাই বলেননি। তাঁর আরও কয়েকটি বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, “সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।” ভারত তাঁর আগমনের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।
ত্রিবেদীর ভাষায়, “আমাদের সামনে কার্যত খুব বেশি বিকল্প ছিল না।” ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত—সেটিও তাদের জানা ছিল না।
সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্যটি ছিল—“শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি; বাংলাদেশের একটি সামরিক বিমানেই তাঁকে ভারতে নেয়া হয়েছিল।”
এই বক্তব্যগুলোই ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে আনে—তখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশের সামরিক বিমান, ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স ও ভারতের ল্যান্ডিং পারমিশন—এই পুরো প্রক্রিয়াটি কার সিদ্ধান্তে এবং কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল?
আর এখানেই শুরু হয় আসল প্রশ্ন।
সেদিন শেখ হাসিনাকে বহন করেছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর C-130 সামরিক পরিবহন বিমান—কলসাইন AJAX1431। প্রকাশিত ATC তথ্য অনুযায়ী, সেটি ঢাকা থেকে প্রথমে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করে।
ঢাকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে তাকে উচ্চতা ও পথের ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়। ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের আগে কলকাতা কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশও দেয়া হয়।
আরও বিস্ময়কর—শেখ হাসিনাকে ভারতের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে রেখে সেই সামরিক বিমান, ক্রু ও নিরাপত্তা সদস্যরা পরদিন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তাহলে প্রশ্ন করি—এটাই যদি ‘পালানো’ হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনায় কাউকে বিদেশে পৌঁছে দেয়াকে কী বলা হবে?
কে দিয়েছিল বিমান?
কে অনুমোদন করেছিল ফ্লাইট?
কার নির্দেশে একজন প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর C-130 ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটিতে গেল?
বাংলাদেশের কোন কর্তৃপক্ষ ভারতের কাছে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স চেয়েছিল? কেন ফ্লাইটটি প্রথমে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করেছিল?
ক্রু ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যরা দেশে ফিরে আসার পর তাদের কাছ থেকে কী ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছিল?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার কি এই পুরো সামরিক অপারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেছিল? করে থাকলে সেই তদন্ত কোথায়?
‘ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল’—প্রমাণ ছাড়া আমি সেই সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না। কিন্তু এত বড় একটি ঘটনার পরও যদি কোনো তদন্ত হয়ে থাকে এবং জনগণ তার ফল না জানে, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
কারণ ভারতের বক্তব্য এখন আর অস্পষ্ট নয়।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামরিক বিমানে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, ঢাকা ছাড়ার সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তাহলে ৫ আগস্টের বহুল প্রচারিত ‘পালিয়ে যাওয়ার’ বয়ানটির পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাও সামনে রাখতে হবে—তাঁর দেশত্যাগের পেছনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনা কতটা সক্রিয় ছিল?
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নতুন গল্প তৈরি করেনি।
বরং পুরোনো গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিই আবার সামনে এনে দিয়েছে—শেখ হাসিনা কি শুধু পালিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল?
তাহলে প্রশ্নটা আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোথায়—এটা শুধুই ‘পালিয়ে যাওয়া’, নাকি রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সংঘটিত একটি দেশত্যাগ?

Helal Uddin’s Post\

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।