
অনলাইন রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
আজকে যেই মহিলা মৃত্যু বরণ করেছেন কাজী খুরশীদা আজাদ, ওনি কাজিরদেউরী কাজী বাড়ীর মেয়ে, কাজীর নাতনী (দেশ পরিচিত ক্রিকেটার আখরাম খান, তামিম ইকবালদের চট্টগ্রামের বাড়ীটা ওনার বাপের দান করা জায়গায়)। ওনি স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, শীর্ষ জাসদ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সহধর্মিণী। আর সাদা শার্ট, মুখে মাস্ক পরা মানুষটা তাঁদেরই বড় সন্তান আফতাব মাহমুদ শিমুল, শেষবার মায়ের লাশটা একটু ছুঁয়ে দেখছেন! লোকটার দু’টি কিডনিই প্রায় নষ্ট, দীর্ঘ ১৫বছর ধরে বলাচলে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন, একটু দাড়াতে দু’জনে দু’পাশে ধরতে হয়।
জায়গা জমি, বাড়ী-গাড়ীর অভাব কোনো কালেই ছিলো না, নানা এবং দাদা দু’দিকেই চট্টগ্রামের নাম করা জনিদার বংশে জন্ম তাঁর। তিনি রক্তের বহমান ধারায় বঙ্গবন্ধুকে আদর্শ মানেন, মুক্তিযুদ্ধকে মননে, মগজে, চিন্তায়, চেতনায় ধারণ করেন। রাজনীতি তাঁর প্রফেশন নয়, ফ্যাশন। রাজনীতি করে আজ পর্যন্ত দু’পয়সা কামায়নি, বরংচ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছেন মানুষকে দান, সহযোগিতায়। লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দু’বার খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে কল করে গণভবনে ডেকে ছিলেন কিন্তু তিনি যান নাই। শুধু দোয়া চেয়েছেন নেত্রীর থেকে, কোন ক্ষমতা কিম্বা সুযোগ সুবিধা নয়।
চব্বিশের ৫আগস্টের পর তাঁর ব্যবসা, ভাড়ায় দেয়া ঘর, ভাড়ায় দেয়া দোকান, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব কিছুই দখলে নেয় লাল বদর বাহিনী, হাটতে দাড়াতে না পারা এই মানুষটার নামে দেয়া হয় ডজনখানেক হত্যা মামলা। আজ দু’বছর পর মায়ের মৃত্যুর কথা শুনে হাজির হয় চট্টগ্রামে, চাঁদগাঁও আবাসিকের বাড়ীতে মায়ের লাশ বাড়ীর আশপাশে গোয়েন্দা পুলিশের পাহারা, কিছুতেই বাড়ীতে আসতে পারছে না একটাবার মায়ের মরা মুখটা দেখার জন্য, বাড়ীর আশপাশে গাড়ীতে ঘুরাঘুরি করছে, গাড়ীর ভিতর পায়চারি করছে কতো জনকে কত অনুরোধ যে করলো কিছুতেই কোন কিছু ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছিলো না। শেষতক মায়ের লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স যখন গেইট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো তখন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে বাচ্চা ছেলের মতন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে গাড়ী নিয়ে বাড়ীর সামনে এসে নেমে পড়ে মায়ের মুখ দেখবেই যা হবার হবে। দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের এক লোক এই করুণ দৃশ্য দেখে পঙ্গু লোকটার অবস্থা দেখে শুধু বললো- ৫মিনিটে এরিয়া ছেড়ে চলে যান, উপরের অর্ডার আছে গ্রেফতার করার তবুও করছি না, করতে পারছি না আমিও তো মানুষ, আমারও মা আছে!
মায়ের ২টি জানাজার নামাজের কোনটিতে অংশ নিতে পারেনি, পারেনি এবং পারবে না মায়ের কবরের পাশে দাড়াতে অন্তত দুনিয়াতে কর্নেল অলি চোদানিরপোয়া যতদিন বেঁচে থাকবে। আমি কর্নেল অলির দীর্ঘয়ু কামনা করি। বাঁচি থাক চোদানিরপোয়া তোর সাথে বহু হিসাব চুকনো বাকি। মায়ের লাশটা ধরে কি শপথ করছিলো না জানাই ভালো তবে ভেঁজা চোখ, হঠাৎ মুখে এক চিলতে অদ্ভুত হাসি দেখছি!
আল্লাহ আন্টিকে কবুল করুক, সবার দোয়া কাম্য।
আন্টিকে কাজীরদেউরী কাজী বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থান ওনার মা বাবার পাশে দাফন করা হয়।
Sk Mahbubur Rahman Bvel’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















