
অনলাইন বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজনৈতিক মাঠের চাকা ঘুরাতে শুরু করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স ( GCDG)
তে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও ইতিমধ্যে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটি লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।লন্ডনে আয়োজিত ” সেফগার্ডিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ : রাইটস , ফ্রিডমস অ্যান্ড দ্য রুল অব ল” শীর্ষক সেমিনারেও বক্তব্য রেখেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান , ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা ও শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন। সঠিক পথে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ইন্টারন্যাশনাল এই ডিপ্লোম্যাসি আগামীর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন। অনেকে শেখ হাসিনার সাথে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সফরসঙ্গী হতে যাচ্ছেন।জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদরদপ্তরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন উঠিয়েছেন। গ্লোবাল সেন্টার ফর ডোমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স এর আজকের আলোচনায় সুইজারল্যান্ড, জাপান , বেলজিয়াম , সাউথ আফ্রিকা ও জার্মানির মানবাধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞ একটা প্যানেলের উপস্থিতি ও সর্বশেষ শেখ হাসিনার বক্তব্য আপনারা অনেকেই আজ শুনেছেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চৌকষ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবীদ। এত দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, এটা অনেকেই স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।একটি বিষয় স্পষ্ট আপনাদের জানা দরকার।শেখ হাসিনার একটা ভার্চুয়াল আলোচনায় সুইডেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোনা হাগো স্ট্রিন্ডবার্গকে আমরা সরাসরি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সাজানো ট্রাইব্যুনালের বিচারের সমালোচনা করতে দেখেছি।এসব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বড় প্রভাব পড়বে। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক গবেষক ড. সিগফ্রিড ও. ওয়াল্ট বর্তমান এশিয়ার ভূরাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের বিষয়ে তুলে ধরেছেন। হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস এডভোকেসি এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আইয়িচ জোসেফ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানির নিন্দা ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির চাকা আবার ঘুরাতে শুরু করে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে কিছু বিষয় বলেছেন। এর মধ্যে জঙ্গিবাদকে সমগ্র বিশ্বের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন।জঙ্গীবাদ দমনে শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বিভিন্ন পয়েন্ট ও বাংলাদেশের মধ্যে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তা নিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন নিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। শেখ হাসিনার এসব বক্তব্য ইতিমধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ভাইরাল হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করবে।তার বক্তব্য ঘিরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা থেকে তারেক রহমানের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি হবে।
মনস্তাত্ত্বিক জায়গা থেকে সঠিক সময়ে সঠিক খেলাটি শেখ হাসিনা খেলেছেন।
শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটকে আঞ্চলিক ও ভূ- রাজনৈতিক উদ্বেগ হিসেবে বর্ণণা করেছেন।এতে করে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব দিয়ে চীন , রাশিয়া ও ভারত বিষয়টি অর্থাৎ শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে করতে শুরু করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমানে বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শেখ হাসিনা পুরোপুরি সফল হয়েছেন। সুইডিশ আইনজীবী মোনা হাগো স্ট্রিন্ডবার্গের উপস্থিতি প্রমাণ করে শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের উপর আন্তর্জাতিক মহলের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মাঠে সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক লবিং ও সঠিক ডিপ্লোম্যাসি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ ও বিদেশের মাটিতে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন।তার আন্তর্জাতিক সমর্থন বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনীতিবীদদের চেয়ে অনেক হাইপ্রোফাইল। তাই অন্ধকারের মধ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই মুহুর্তে ” Light at the end of tunnel” হয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার যে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন, এসব তার সংকেত মাত্র।এই মুহূর্তে আপনার এই মানবাধিকার ও আইনি কূটনীতি আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। উজ্জীবিত হতে শুরু করেছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ডিসেম্বর যত কাছে আসছে ততই সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এতেই ভীত হয়ে ২০০৩ সালের পুরোনো ” অপারেশন ক্লিনহার্ট ” শুরু করতে যাচ্ছে তারেক রহমান সরকার।বোঝাই যাচ্ছে , বর্তমান সরকারের শুধু শরীর নয় , হাঁটু পর্যন্ত কাঁপতে শুরু করে দিয়েছে।
জয়তু শেখ হাসিনা।।
Shahidullah Osmani’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















